ইট বানাতে মাটি লাগবে, কোথায় মিলবে মাটি? নদীর পাড়ের চেয়ে ভালো জায়গা আর কী হতে পারে! সিলেটের সুরমা নদীর তীর হয়ে উঠেছে এখন ইটভাটার মাটি জোগান দেওয়ার খনি। কার দায়িত্ব পড়েছে এসব দেখার! পুলিশ বা প্রশাসনের এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় কই!
সিলেটের শাহ পরান সেতুর পশ্চিম দিকে নদীর পাড় থেকে মাটি কাটা চলছে প্রকাশ্যে; লুকোছাপার কিছু নেই। ট্রাক আসছে, মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। গন্তব্য—ওই এলাকার ১২টি ইটভাটা। দৃশ্যত, এই অপকর্মের দায় শুধু ট্রাকচালক আর মাটিকাটা শ্রমিকদের। পেছনের খুঁটিটি কত শক্তিশালী, তা অনুমান করা যায় তাদের এই নির্বিঘ্ন মাটি চুরি দেখে। প্রশাসনের চোখে তারাই ঠুলি এঁটে রেখেছে।
শাহ পরান সেতুর পশ্চিমের কুশিঘাট এলাকা হচ্ছে সুরমার ভাঙনকবলিত একটি এলাকা। স্থানীয় লোকজন প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, বছর সাতেক আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এই তীর সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই সংরক্ষিত অঞ্চলের কাছেই প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে তীর থেকে মাটি কেটে নেওয়া। স্থানটি যে স্পর্শকাতর, তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই। এলাকাবাসী সে কারণেই আশঙ্কা করছেন, নদীর পাড় থেকে এভাবে নির্বিচারে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে আবার নদীভাঙন দেখা দিতে পারে। পাউবো সিলেটের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীও একই ধরনের বিপদ হতে পারে বলে মত দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই যে নদীর তীর থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে, এ ব্যাপারে কি পাউবোর কিছু করার নেই?
প্রথম আলো থেকে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হয়েছিল পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ে। সেখানকার পরিচালক দায়িত্ব সেরেছেন ‘বিষয়টি কেউ তাদের জানায়নি’ বলে। আসলে কে কাকে জানাবে? এই ‘কেউ’টি আসলে কে?
এখন পত্রিকায় নদীতীরের মাটি কেটে নেওয়ার এই খবর প্রকাশিত হয়েছে, ছবিও ছাপা হয়েছে। পত্রিকার কল্যাণে হলেও তিনি জেনেছেন যে কীভাবে মাটি কাটা চলছে। এখন তিনি কী ব্যবস্থা নেন, জড়িত কোনো ইটভাটার ছাড়পত্র বাতিল করতে পারেন কি না, সেটাই দেখার বিষয়।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here