sitakundসীতাকুণ্ড সংবাদদাতা :

চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চল সীতাকুণ্ডে মামলা ও পুলিশি হয়রানির ভয়ে জামায়াত-শিবিরের অধিকাংশ নেতাকর্মী আত্মগোপনে থাকলেও দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে তারা আবারও সংগঠিত হচ্ছে। রায় যেকোনো দিকে যেতে পারে— এমন সম্ভাবনা মাথায় রেখে গোপনে চলছে সংগঠনটির কর্মকাণ্ড। ফলে আবারও নাশকতা নিয়ে শঙ্কা করা হচ্ছে। তবে জামায়াত-শিবির ঠেকাতে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও।

মামলার কারণে আত্মগোপনে থাকলেও সাঈদীর রায়ের পর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেখাতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনায় তারা ফের সংগঠিত হচ্ছেন বলে ইতিমধ্যে জানতে পেরেছে পুলিশ ও সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।

থানা সূত্রে জানা গেছে, বিগত দিনে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সীতাকুণ্ডে নাশকতার অভিযোগে জামায়াত-শিবিরের সাড়ে ৪শ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়েছে পুলিশ। এদের মধ্যে প্রায় আড়াইশ নেতাকর্মী ইতিমধ্যে জামিন পেয়েছেন। তবে জামিন পেলেও পুলিশ বিভিন্ন অজুহাতে তাদের নিয়মিত গ্রেপ্তার করতে থাকায় নেতাকর্মীরা এলাকায় না এসে আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে আত্মগোপনে থেকেও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী তারা গোপনে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষত জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক রায়ই তারা মেনে নেবেন না বলে তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত রয়েছে।

সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো দিন সাঈদীর রায় ঘোষণা করা হবে। বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দলটির নেতাকর্মীরা। রায় যে কোনো দিকে যেতে পারে— এমন সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুত হচ্ছে তারা।

ইতিমধ্যে সাঈদী মুক্তি পরিষদ নামক একটি সংগঠনের ব্যানারে সাঈদীসহ জামায়াত-শিবিরের সব নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে। বিষয়টি নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে প্রশাসনকে। যদিও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি একটি কাগুজে সংগঠন। এর কোনো অফিস নেই। তবে এ সংগঠনকে একেবারে হালকাভাবে দেখতে রাজি নন তারা। তাছাড়া সম্প্রতি চট্টগ্রামে জামায়াতের ডাকা হরতালকালেও সীতাকুণ্ডের একাধিক স্পটে ঝটিকা মিছিল করেছে জামায়াত-শিবির। অবশ্য সংগঠনটির নেতাকর্মীরাও সাংগঠনিকভাবে তারা যথেষ্ট সক্রিয় বলে দাবি করেছেন।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শিবিরের সেক্রেটারি রবিউল হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘জামায়াত একটি গণতান্ত্রিক দল। এ দেশের মানুষ জামায়াত-শিবিরকে সমর্থন করে। কিন্তু সরকার জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করছে। মাওলানা সাঈদীসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তা প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা সবাই নিরপরাধ। এ ক্ষেত্রে কোনো নেতিবাচক রায়ই আমরা মেনে নেব না।’ সরকার যত নির্যাতন-নিপীড়ন করুক তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চলছে এবং চলবে বলে জানান তিনি। এছাড়া জামায়াত-শিবিরের সব নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন তিনি।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি ইফতেখার হাসান বলেন, ‘জামায়াত শিবির একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তারা সব সময় নাশকতায় বিশ্বাসী। সাঈদীর রায়ের পরও তারা নাশকতার চেষ্টা করতেই পারে। তবে যে কোনো ধরনের নাশকতা মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ইতিপূর্বে নাশকতার কারণে আমরা জামায়াত-শিবিরের সাড়ে ৪শ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছি। তবে ইতিমধ্যে ২ থেকে আড়াইশ নেতাকর্মী জামিনে বাইরে এসেছে। এদের অনেকে এখন রাজনীতি থেকে দূরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। আবার অনেকে গোপনে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে ওসি জানান।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, ‘জামায়াত নেতাকর্মীদের মামলা ও গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এখনও বন্ধ হয়নি। সাঈদীর রায়ের পর তারা ফের নাশকতার চেষ্টা করবে এমন আশঙ্কা মাথায় রেখে আমরাও প্রস্তুতি নিয়েছি।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here