সিরিয়ায় দামেস্কর শহরতলীতে ২১ অগাস্টের রাসায়নিক অস্ত্র হামলায় সারিন নার্ভ গ্যাস ব্যবহার হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জাতিসংঘ তদন্তকারীরা।

U.N

সোমবার এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের কাছে জমা দিয়েছেন তদন্তদলের প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা একে সেলস্ট্রোম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, “দামেস্কর ঘৌউতা এলাকায় হামলার ঘটনা তদন্তে সংগ্রীহিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত টানা যায় যে, সিরিয়ায় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে চলমান সংঘর্ষে শিশুসহ সাধারণ মানুষের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে”।

এতে আরো বলা হয়, “হামলাস্থলের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে পাওয়া নমুনাসহ রাসায়নিক এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত বিশেষ কিছু নমুনা পরীক্ষায় ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য রকেটে করে নার্ভ গ্যাস সারিন ব্যবহারের সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।”

তদন্ত প্রতিবেদনটি বান কি মুনের হাতে তুলে দেয়ার ছবি প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সোমবারই এ প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার কথা।

বান কি-মুন রাসায়নিক অস্ত্রের এ ব্যবহারকে যুদ্ধাপরাধ বলে অভিহিত করেছেন।

প্রতিবেদনটি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ব্রিফিং দেয়ার পর গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন বান।

রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের এ তদন্ত প্রতিবেদন ‘অত্যন্ত হৃদয়বিদারক’ জানিয়ে বান বলেন, “দামেস্কর ঘৌউতায় অপেক্ষাকৃত বেশিমাত্রার ওই রাসায়নিক অস্ত্র হামলায় (২১ অগাস্ট) বহু মানুষ হতাহত হয়েছে, বিশেষ করে শিশুরা বেশি মারা গেছে বলেই জানিয়েছে তদন্ত মিশন”।

হামলার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের যন্ত্রণারও বর্ণনা দিয়েছেন বান।

হামলায় বেঁচে যাওয়াদের কথার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, শেল হামলার পরপরই মানুষের শ্বাসকষ্ট, চোখ চুলকানি, চোখে অন্ধকার দেখা, অসুস্থ বোধ করা এবং বমিসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত অনেকেই জ্ঞান হারায়। আবার মারাও যায় অনেকে।

জাতিসংঘ তদন্তকারীরা রক্ত, চুল, মূত্র এবং রকেটের নমুনা পরীক্ষা করেছেন।

বান বলেন, “এ সমস্ত বিচার-বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তদন্ত মিশনের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য রকেটে করে দামেস্কয় ঘৌউতা এলাকার ইন টারমা, মোয়াদামিয়াহ এবং জালমালকায় নার্ভ গ্যাস সারিন হামলা চালানো হয়েছে”।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here