সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে নিখোঁজ হওয়া স্কুলছাত্রী রোকসানার বস্তাবন্দী লাশ সোনারগাঁও থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মুক্তিপণ না পেয়ে তাকে হত্যা করে বস্তাবন্দী অবস্থায় লাশ ফেলে যায় অপহরণকারীরা।

গতকাল শুক্রবার সকালে সোনারগাঁও থানা পুলিশ অজ্ঞাত শিশুর লাশ উদ্ধার করে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পরে পরিবারের লোকজন লাশটি নিখোঁজ স্কুলছাত্রী রোকসানার বলে শনাক্ত করে। রোকসানাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর হাত পা দড়ি দিয়ে বেঁধে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে বস্তার ভেতরে ভরে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা।

নিহত পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজের পর দুর্বৃত্তরা ফোন করে ৬ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। মুক্তিপণের টাকা দিতে রাজী হলেও দুর্বৃত্তরা পরে আর যোগাযোগ করেনি। পুলিশও জীবিত অবস্থায় রোকসানাকে উদ্ধার করতে পারেনি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিহতের বাবা আশরাফুল এসে লাশটি তার নিখোঁজ মেয়ে রোকসানা আক্তারের বলে শানাক্ত করেন। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল আরামবাগ এলাকাতে বসবাস করেন। রোকসানা আক্তার গোদনাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। ৩ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট আদরের মেয়েকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে পরিবারের সকলে।

রোকসানার মামাতো ভাই কাদির হোসেন পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, রোকসানা (১০) গত ২৩ জানুয়ারি সকালে বাসা থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেনি। তবে তার স্কুল ব্যাগটি বাসার পাশ থেকে পাওয়া গেছে। এলাকায় মাইকিং করাসহ নানাভাবে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে ২৪ জানুয়ারি দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় জিডি করেন বাবা আশরাফুল ইসলাম।

কাদির আরো জানান, জিডির পর আশরাফুলের মোবাইলে ফোন করে ৬ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল দুর্বৃত্তরা। পরিবারের লোকজন টাকা দিতে রাজিও হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানালেও তেমন তৎপরতা দেখায়নি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। মোবাইল ট্র্যাকিং করে পুলিশ তৎপর হলে হয়তো রোকসানাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা যেত।

রোকসানার মা কারিনা বেগম জানান, তাদের সঙ্গে কারো কোন শত্রুতা ছিল না যে রোকসানাকে হত্যা করবে। আমি এই হত্যার বিচার চাই। জিডির তদন্ত করা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মামুন আল আবেদ জানান, মেয়েটিকে উদ্ধার করতে আমরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছিলাম।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস সাত্তার জানান, জিডির পর আমরা তদন্ত করেছি। কললিস্ট ধরে চেষ্টা করেছি। আমাদের কোন গাফিলতি ছিল না।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম পিপিএম জানান, উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাইকারটেক ব্রিজের ঢালে শুক্রবার সকালে লোকজন বস্তা দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বস্তা খুলে সেখানে হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা লাশটি দেখতে পায়। লাশটির শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন আছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন
  • 26
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here