হরতালের আগে রাজধানীতে গাড়িতে আগুন, বোমাবাজি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও সিলেটে বেপরোয়া গাড়ি ভাংচুর রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসকের বাড়িতে বোমা হামলা
Fire BNP
১৮ দলীয় জোটের আজকের হরতাল শুরুর আগেই সারাদেশে ব্যাপক ধরপাকড় করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতভর ও গতকাল শনিবার রাজধানীসহ সারাদেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ-র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেফতার আতংকে অনেক নেতাই নিজের বাড়িতে থাকছেন না। তারা বিভিন্ন জায়গায় গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। রাজধানীসহ সারা দেশে গ্রেফতার হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের শতাধিক নেতাকর্মী। এ দিকে গতকাল রাজধানীতে হরতালের সমর্থনে ৮টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে দুই দফা প্রায় দুই শতাধিক ও সিলেটে প্রায় শতাধিক গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। সীতাকুণ্ডে ১০টি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে রাজশাহীর রাজপাড়া থানা ও জেলা পরিষদ প্রশাসকের বাসায় ককটেল হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে হরতালের সমর্থনে সারাদেশে বিক্ষোভ-মিছিল করে বিএনপি-জামায়াত। এসময় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশে বিচ্ছিন্নভাবে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। শাহবাগে পেট্টোল বোমায় এক যাত্রীর পা ঝলসে গেছে। গতকাল পুরনো ঢাকার আদালতে প্রবেশের প্রধান ফটকের পাশে পুলিশ ক্লাবের সামনে পরপর তিনটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আদালত চত্বরে আতঙ্ক ছড়ালেও কেউ হতাহত হয়নি। এদিকে হরতাল উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যা থেকে রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় বিজিবি নামানো হয়েছে। বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, রাজধানীতে ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা গেছে, গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে রাজধানীতে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় বিআরটিসির একটি দোতলা বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটির আগুন নেভায়। বাসটি পুরোপুরি পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন যাত্রাবাড়ী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম। এছাড়া মহাখালীর তিতুমীর কলেজের সামনে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বনানী থানার ওসি ভুঁইয়া মাহবুব হাসান জানান, দোতলা এই বাসটি বিআরটিসির। তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের আনা নেয়া করত। যাত্রীবেশে দুর্বৃত্তরা বাসে চড়ে তিতুমীর কলেজের সামনে গিয়ে আগুন দেয়। এ সময় তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা ধাওয়া দিয়ে আশিক নামের একজনকে ধরে ফেলে। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আশিকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ভুঁইয়া মাহবুব হাসান জানান, তিতুমীর কলেজের ছাত্রদলের নেতা মেহেদী বাসে আগুন দিতে আশিককে ভাড়া করেন। মেহেদীকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে বলে ওসি জানান।

ফকিরেরপুলের পুলিশ হাসপাতালের সামনে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে একটি প্রাইভেটকারে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলেন। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। শান্তিনগরে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের গেইটে পুলিশের রিক্যুইজিশন করা একটি মাইক্রোবাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী কমিশনার আবু ইউসুফের ব্যবহূত মাইক্রোবাসটি রাজারবাগে মেরামত শেষে মিন্টো রোডে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন শাখায় ফিরছিল। ঘটনার সময় গাড়িতে চালক ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। গাড়িটিতে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগের পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলেন। এছাড়া মালিবাগ চৌধুরী পাড়ায় দুপুর আড়াইটার দিকে যাত্রীবাহী বাসে, মতিঝিল টিএন্ডটি কলোনীর সামনে বেলা সোয়া ১২টার দিকে একটি সিএনজি অটোরিক্সায়, বিকাল সোয়া ৫টার দিকে গুলিস্তান গোলাপশাহ মাজারের কাছে রমনা টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ভবনের পাশের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকা-দোহার রুটের একটি বাসে ও বঙ্গবাজার মোড়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

এদিকে হরতাল শুরুর আগে রাজধানীর বিভিন্নস্থানে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাহবাগ মোড়ে হরতাল সমর্থকরা মিরপুর-গুলিস্তান রুটের ইটিসি পরিবহনের একটি বাস লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারলে আবদুর রাজ্জাক মিঠু (২২) নামের এক যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তার দুই পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ আগুনে ঝলসে গেছে। তিনি এলিফ্যান্ট রোডের মেঘনা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানীর পিওন। তার বাড়ি কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ায়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশে ৮/১০টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

হরতাল ডাকার পর শুক্রবার রাতে গ্রেফতারকৃত বিএনপির সিনিয়র নেতাদের হাজির করার আগে পুরান ঢাকায় আদালতের ফটকে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আদালতে প্রবেশের প্রধান ফটকের পাশে পুলিশ ক্লাবের সামনে পরপর তিনটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আতঙ্ক ছড়ালেও কেউ হতাহত হয়নি। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের পাশে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। হাতবোমা বিস্ফোরণের পর ওই এলাকার দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশের সন্দেহ, বিরোধী দলের কর্মীরা এই হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। শুক্রবার রাতে বিএনপি নেতাদের গ্রেফতারের পর রাজধানীর কয়েকটি স্থানে গাড়ি পোড়ানো ও হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ইত্তেফাক অফিস, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো হরতালের আগের পরিস্থিতির খবর:

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম): বিএনপির শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে গতকাল সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে ১৮ দলের নেতা-কর্মীরা। বিকাল ৩টার দিকে নতুন বাইপাস এলাকায় কয়েকটি কাভার্ড ভ্যান রাস্তার ওপর আড়াআড়িভাবে ফেলে অবরোধ তৈরি করা হয়। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় দিকে ছয় কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে র্যাকার দিয়ে কাভার্ড ভ্যানগুলো সরিয়ে দেয়ার পর যান চলাচল আবার শুরু হয়। এছাড়া বিকাল ৪টার দিকে বাড়বকুণ্ড এলাকায় ৩/৪টি গাড়ি ভাংচুর করে বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা।

এর আগে একই কারণে শুক্রবার রাতে মহাসড়কের সীতাকুন্ডের ১২টি স্থানে ব্যারিকেড দিয়ে ১০ টি গাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা। ভাংচুর করেছে দুই শতাধিক গাড়ি। এসময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়েছে ৩জন। পুলিশসহ আহত হয়েছে ২০জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীতাকুন্ডে জরুরিভিত্তিতে নামানো হয় বিজিবি। ব্যারিকেডের ফলে মহাসড়কে ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ে দূরপাল্লার যাত্রী সাধারণ ও পণ্যবাহী গাড়ি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়বকুন্ড, সীতাকুন্ড দক্ষিণ বাইপাস, টেরিয়াল, সিরাজ ভূঁইয়া রাস্তার মাথা, কুমিরা, বার আউলিয়া, মাদামবিবিরহাট, ভাটিয়ারী, তুলাতলী, বানুর বাজার এলাকায় বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা গণহারে গাড়ি ভাংচুর করে। সীতাকুন্ড সদরের উত্তর ও দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় ১০টি গাড়িতে আগুন দেয় তারা। বাড়বকুন্ড এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের গাছ কেটে মহাসড়কে ব্যারিকেড দেয় জামায়াত ও বিএনপি কর্মীরা।

এদিকে পুলিশ ব্যারিকেড তুলে দেয়ার চেষ্টা করলে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সীতাকুন্ডে পন্থিছিলা থেকে বাড়বকুন্ড পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে এক পুলিশসহ ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধরা হলো জামায়াত কর্মী সাইফুল ইসলাম (২৬) ও ট্রাক চালক রাকিব (৩০)। তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে গুলিবিদ্ধ পুলিশের নাম জানা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় শুক্রবার রাত ৩টার দিকে বিজিবি নামনো হয়।

দফায় দফায় ব্যারিকেডের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার ভোর রাত থেকে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহম্মদ শাহীন ইমরানের নেতৃত্বে পুলিশ জ্বালিয়ে দেয়া ও পাংচার করা গাড়িগুলো রাস্তা থেকে সরিয়ে নিলে যান চলাচল গতকাল বেলা ১১টার দিকে আবার শুরু হয়।

নারায়ণগঞ্জ: জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে গ্রেফতার করতে শহরের মাসদাইরের বাসায় দুই দফায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। তবে এ সময় কাউকে আটক করতে পারেনি। তৈমুর আলম খন্দকার জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় পুলিশ তার বাসায় অভিযান চালাতে গেলে বাড়ির দারোয়ান গেইট না খোলায় তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে সকাল পৌনে নয়টায় তারা আবারও অভিযান চালিয়ে তার শোয়ার ঘর থেকে শুরু করে সমস্ত বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এ সময় বাড়িতে কাউকে না পেয়ে চলে যায় অভিযানকারীরা।

রাজশাহী অফিস: রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানা এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মাহবুব জামান ভুলুর বাসায় হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজপাড়া থানায় এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা পরিষদের প্রশাসকের বাসায় হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। তবে এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবিএম রেজাউল ইসলাম জানান। তিনি বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুইটি মোটর সাইকেলে করে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা সংলগ্ন রাস্তা থেকে থানার সীমানার ভেতরে একটি হাত বোমা নিক্ষেপ করে। বোমাটি সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের আহূত হরতালকে সামনে রেখে ‘আতঙ্ক সৃষ্টির’ মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের ‘মনোবল ভাঙার উদ্দেশ্যে বোমা হামলা চালানো হয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা। এদিকে রাজশাহীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত মহানগরীর চার থানা এলাকা থেকে পুলিশ তাদের আটক করে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নাশকতার মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার দুপুরের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার শাহ গোলাম মাহমুদ জানান, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুর: হরতালের সমর্থনে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের কানাইপুর বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েলের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি মহাসড়কে প্রায় ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বাস শ্রমিকরা আধঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। অন্যদিকে দুপুর দুইটার দিকে শহরের সুপার মার্কেট এলাকায় শিবির মিছিল বের করে। জেনারেল হাসপাতালের কাছে মিছিল থেকে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে দুইটি পেট্রোল বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

মাদারগঞ্জ (জামালপুর): শুক্রবার ভোরে মাদারগঞ্জ থানা পুলিশ পৌর বিএনপি নেতা সিজার ও পৌর ছাত্রদল নেতা আবুল কালাম আজাদকে আটক করেছে।

মাগুরা: শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আশরাফুল আলম জোয়ারদারসহ পাঁচ জনকে শুক্রবার রাতে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

জামালপুর: নাশকতার আশঙ্কায় গত শুক্রবার গভীর রাতে র্যাব-১২ জামালপুর শহর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা এবং সদর থানা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক লিটনকে আটক করেছে।

রংপুর: গতকাল দুপুরে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠন গ্রেফতারকৃত নেতাদের মুক্তি এবং আজকের হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে গোটা নগরীর দোকান-পাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। গ্রান্ড হোটেল মোড়ে জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে বের হওয়া মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পায়রা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এদিকে শুক্রবার রাতে পুলিশ বিএনপির তিনজন ও জামায়াতের দুই কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।

মিরসরাই (চট্টগ্রাম): শুক্রবার রাত ও শনিবার সকালে মিরসরাইয়ে যুবদল-শিবিরের ছয় নেতাকর্মীকে আটক করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। আটককৃতরা হল বারইয়ারহাট পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মীর মো: জহীর উদ্দিন, যুবদল কর্মী ইমাম হোসেন, মুন্না, রিপন, শিবির কর্মী কামরুল ও হোসেন।

মিরপুর (কুষ্টিয়া):শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ডা. হুমায়ূন কবির (৫২), পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক কিসলু (৪৫), তালবাড়ীয়ার ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ফরিদ আলী (২৩) ও তালবাড়ীয়ার ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রুবেল আলীকে (১৮) নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে।

নরসিংদী:জেলা জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নুরুল ইসলামকে কোন প্রকার মামলা ও ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করেছে নরসিংদী ডিবি ও থানা পুলিশ। গত শুক্রবার গভীর রাতে মাধবদীর নুরালাপুর গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে পুলিশ নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আরো নয়জন বিএনপির নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গেছে।

গোপালগঞ্জ:জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে শহরের বেদগ্রামে ওই নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এছাড়া রাতে জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ সব নেতার বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। এ ঘটনায় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রেফতার আতংক বিরাজ করছে। গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. জাকির হোসেন মোল্লা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

যশোর অফিস:যশোরে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। তবে শীর্ষ নেতাদের কাউকে গ্রেফতার না করলেও আটক করেছে বিএনপি ও জামায়াতের ১২ কর্মীকে। শনিবার দিনভর পুলিশ এ অভিযান চালিয়েছে। যেসব নেতার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে তারা হলেন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, কোতোয়ালি বিএনপির সভাপতি নুরুন্নবী, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর হাজী আনিছুর রহমান মুকুল এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাস্টার নুরুন্নবী। তবে যশোরে বিএনপির শীর্ষ নেতা কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের বাসার সামনে পুলিশ গেলেও বাড়িতে প্রবেশ করেনি। এদিকে পুলিশের এ অভিযানের কারণে বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতাই বাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্বে রয়েছেন।

আটককৃতরা হলেন, আশ্রম রোড এলাকার আব্দুল খালেক, আজিবর, সদর উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের ইউনুস, গোলাম রসুল, বকচর এলাকার শাহরিয়ার, সাকিল, কাজীপাড়ার রকি, শংকরপুরের মহিদুল, রিমন ও জাহাঙ্গীর, চৌগাছার আবুল কাশেম ও ইউনুস।

সিলেট অফিস:গতকাল বিকালে হরতালের সমর্থনে নগরীতে মিছিল বের করে ছাত্রদল। বিকালে আম্বরখানায় ছাত্রদল মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। মানুষ আতঙ্কে ছুটাছুটি করে। একই সময় জিন্দাবাজার সিতারা ম্যানশনের সামনে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জড়ো হওয়ার সময় ৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে জিন্দাবাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে শতাধিক যানবাহন ভাঙচুর করেছে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও জামায়াত-শিবির কর্মীরা। একই সময় চৌহাট্টা, মিরবক্সটুলা, নয়াসড়ক, সুবিদবাজার ও রিকাবীবাজারে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা শতাধিক যানবাহন ভাঙচুর করে। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এসময় জামায়াত নেতা ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইনের সরকারি গাড়িও ভাঙচুর করে।

চট্টগ্রাম অফিস: হরতালের সমর্থনে মিছিল সমাবেশ করেছে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: বিকালে জেলা বিএনপির উদ্যোগে শহরের রেল গেইট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময়ে মিছিলকারীরা বেশ কয়েকটি দোকান, অফিস ও অটোরিক্সা ভাংচুর চালায়। মিছিলটি টিএ রোড এলাকায় পৌঁছলে পুলিশ পিছন থেকে অতর্কিত লাঠিচার্জ করে। শুরু হয় ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া। মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় সমস্ত দোকানপাট। মাদ্রাসা রোডের কান্দিপাড়া এলাকায় ১০/১২টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। পুলিশ এসময় টিয়ার গ্যাস ও গুলি বর্ষণ করে। সংঘর্ষে ছাত্রদলের নেতা সালাউদ্দিন গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন কমপক্ষে ১৫ জন। পুলিশ ৩ জনকে আটক করে।

বগুড়া: শনিবার বিকেলে হরতালের সমর্থনে শহরের পৌর পার্কে সমাবেশ করে ১৮ দল। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কবি নজরুল ইসলাম সড়কে পৌঁছার পর উপর্যুপরি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সেসময় রাস্তার পাশে থাকা একটি প্রাইভেট কার ভাংচুর করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় মিছিলকারীরা। পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে সদর থানা লক্ষ্য করে পরপর বেশ কয়েকটি হাত বোমা নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠি পেটা শুরু করে। পরে মিছিলকারীদের কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। ছত্রভঙ্গ মিছিলকারিরা দোকানপাট ও পরিবহনে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। তারা চাঁদনী বাজারে একটি মোটরসাইকেলও জ্বালিয়ে দেয়। এঘটনায় জেলা বিএনপি’র সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, মহিলা দলের নেতা কর্মীসহ ৪০ জন আহত হয়। এসময় পুলিশ ১২ জনকে আটক করে। বিএনপি দাবী করেছে এ ঘটনায় তাদের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। রাতে এ খবর লেখা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছিল।

গাংনী (মেহেরপুর): জেলা বিএনপির সভাপতি ও গাংনী আসনের সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেনের গাংনী উপজেলা শহরের বাড়িতে শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে। এসময় র্যাব ও পুলিশের যৌথ টিম গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল হকের করমদীর বাড়ি, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাহারবাটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আসাদুজামান বাবুল’র চৌগাছার বাড়ি, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আখেরুজ্জামানের গাঁড়াডোবের বাড়ি, উপজেলা জামায়াতের আমির ডাঃ রবিল ইসলামের বাড়ি পৌর জামায়াতের আমির আব্দুর রহমানের মালশাদহের বাড়ি, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির নাজমুল হুদার বাড়ি ছাড়াও ছাতিয়ান, যুগীন্দা, বাওট, করমদীসহ বিভিন্ন গ্রামের বিএনপি-জামায়াতের নেতা কর্মীদের বাড়ি তল্লাসি চালিয়েছে।

বরিশাল অফিস: গতকাল বিকেলে রফিকুল ইসলাম টিপু নামে এক ছাত্রদল কর্মীকে গ্রেফতারের পর তার দেখানো মতে নগরীর ঝাউতলা থেকে ৭টি ককটেল উদ্ধার করে র্যাব। অপরদিকে পুলিশ শুক্রবার রাতভর ও গতকাল বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় অভিযান চালিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাহাবুবুর রহমান পিন্টু ও ছাত্রদল নেতা বাদলসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার আতংকে অধিকাংশ নেতাকর্মী নিজ নিজ বাসা ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বাসায়।

গাজীপুর: গতকাল সন্ধ্যার পর চান্দনা চৌরাস্তা, শিববাড়ি মোড় ও আশপাশের এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ আব্দুল হালিম (২৭) নামে এক শিবির কর্মীকে আটক করেছে। দুপুরে সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বশির আহমেদ বাচ্চুর নেতৃত্বে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় হরতালের সমর্থনে একটি ঝটিকা মিছিল বের হয়।

তালা (সাতক্ষীরা) : খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের তালা- পাটকেলঘাটায় হরতাল সফলের লক্ষ্যে বিএনপি কর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় পুলিশের সাথে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। বিএনপি কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওভারব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে থাকা খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক অনির্বাণ সম্পাদকের প্রাইভেটকারসহ ১২টি বিভিন্ন যানবাহন ভাংচুর করে। পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০-২৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৫ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ সময় আহত হয় ৫০ জন। এ ঘটনায় তাত্ক্ষণিকভাবে পাটকেলঘাটা বাজারের সকল দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে আধাঘণ্টা যানচলাচল বন্ধ থাকে।

ময়মনসিংহ : গতকাল বিকালে ময়মনসিংহে ও মুক্তাগাছায় বিএনপি’র মিছিলে পুলিশ বাধা দিয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের সাথে ছাত্রদলের সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব হোসেন সুজনসহ আহত হয়েছে অন্তত ৫ জন। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় মিছিলে মিছিলে পুলিশ বাধা দেয় এবং বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম শাহরিয়ার শরীফসহ ৫ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে।

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) :হরতাল সমর্থক বিএনপি নেতাকর্মীরা গতকাল সন্ধ্যায় পৌরশহরের শিবগঞ্জ রোড এবং গো-হাটা মোড় এলাকায় ১টি বাস, ১টি প্রাইভেটকার, ১টি সিএনজি অটোরিক্সা ও ২ টি মটরসাইকেল ভাংচুর করে।

মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জে বিএনপির লাঠি মিছিলের সময় ২ ছাত্রদলের কর্মীকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ। তারা হলেন সদর উপজেলা ছাত্রদলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. জাকারিয়া (১৮) এবং ছাত্রদল কর্মী মো. জনি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে রাবি’র ৩১৫ শিক্ষকের বিবৃতি

রাজশাহী অফিস:কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। গতকাল শনিবার বিকালে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের আন্দোলন কর্মসূচী চলাকালীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির শীর্ষ নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে বর্তমান সরকার বাকশালী কায়দায় একদলীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, জাতি তাতে হতাশ হয়েছে। এ ঘটনার মাধ্যমে সরকার সমঝোতার সকল পথ বন্ধ করে স্বৈরশাসন কায়েম করছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য বিএনপি’র শীর্ষস্থানীয় নেতা-কর্মীদের নি:শর্ত মুক্তি এবং নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরদাতাকারীদের মধ্যে অন্যতমরা হলেন- জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. আফরাউজ জামান খান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. ফজলুল হক, প্রফেসর আব্দুর রহমান সিদ্দিকী প্রমুখ।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here