জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেন, আগামী ২৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সময় শেষ। এ সময়ের মধ্যে নির্দলীয় সরকার দাবি না মানলে ২৫ অক্টোবর থেকে আমরা আন্দোলন শুরু করব। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন না হলে সারাদেশের প্রতিটি নির্বাচনী কেন্দ্রে সংগ্রাম কমিটি গঠনের নির্দেশ দিচ্ছি। আওয়ামী লীগ একক নির্বাচনের চেষ্টা করলে এই সংগ্রাম কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন প্রতিহত করতে হবে। দেশবাসীকে আওয়ামী লীগ থেকে সাবধান থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাপকে বিশ্বাস করা যায়, কিন্তু আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করা যায় না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আরেকবার ক্ষমতায় গেলে দেশকে গিলে খেয়ে ফেলবে। আওয়ামী লীগ যত জোর গলায় কথা বলুক না কেন, শেখ হাসিনার অধীনে দেশে কোন নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবেও না।
শনিবার বিকেলে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট আয়োজিত বিশাল জনসভায় বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। তিনি বিকেল তিনটা পাঁচ মিনিটে মঞ্চে ওঠেন। মঞ্চে ওঠার আগে তিনি সার্কিট হাউস থেকে বেরিয়ে হযরত শাহজালাল (র) ও হযরত শাহপরান (র)-এর মাজার জিয়ারত করেন। মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে উপস্থিত নেতাকর্মীরা মুহুর্মুুহু সেøাগান ও করতালির মধ্য দিয়ে তাঁদের প্রিয় নেত্রীকে স্বাগত জানায়। খালেদা জিয়াও উপস্থিত জনতাদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। ৫০ মিনিটের মতো বক্তব্য রাখেন তিনি।
ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা সকল দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চাই। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেও সম্পর্কের উন্নয়ন চাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সঙ্গে সম্পর্ক করুন, একটি বিশেষ দলের সঙ্গে নয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের সঙ্গে সম্পর্ক করলে আপনারা বেশি লাভবান হবেন। কারণ, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জনগণ নেই। জনগণ আছে ১৮দলীয় জোটের সঙ্গে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা আহ্বান রেখে বলেন, আপনার দলের অনেকে এখন বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। অনেকে পকেটে টিকেট কেটে ওপেন ভিসা নিয়ে ঘুরছেন। সংগ্রাম কমিটি হলে আপনি দেখবেনÑ আপনার বাঁয়ে, ডানে, সামনে ও পেছনে কেউ নেই। তখন কেবল আমরাই থাকব। ১৮দলীয় জোটই হবে আপনার ভরসা। নিশ্চয়তার সুরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে তিনি বলেন, আমরা আপনাকে সম্মানের সঙ্গে রাখব। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। তাই এখনও বলছি, আমরা আন্দোলন করতে চাই না, আপনি সংসদে নির্দলীয় সরকারের বিল এনে পাস করুন। যতদিন মেয়াদ আছে, আপনারা ক্ষমতায় থাকুন। দেশবাসীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, হয় নির্বাচন, না হয় রাজপথে আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে।
খালেদা জিয়া বর্তমান সরকারের দুর্নীতি অপশাসন, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র প্রভৃতি বিষয় তুলে ধরে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার এককভাবে নির্বাচন করতে চায়। পৃথিবীর সবাই বলেছে, একক নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, দেশে একক কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।
সরকার যদি একক নির্বাচন করে কেন্দ্রভিত্তিক সংগ্রাম পরিষদ গঠন করতে হবে। দলীয় ও জনগণকে নিয়ে ওই কমিটি গঠন করুন।
প্রশাসনের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই, দেশ ও মানুষের কথা আপনারা চিন্তা করবেন। অন্যায়ভাবে জনগণের ওপর গুলি চালাবেন না। অত্যাচার করবেন না। এর ফল ভাল হবে না।
একই সঙ্গে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রশাসনের কারও চাকরিচ্যুত করা হবে না বলেও অঙ্গীকার করে খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে বর্তমান সরকারের আমলে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল করা হবে। নির্বাচন নিয়ে সরকার ‘ভয়ে’ আছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তাঁরা ভয়ে আছে বলেই বড় বড় গলায় কথা বলে। তাঁদের চারদিকে এখন অন্ধকার। সে জন্য চিৎকার করে কথা বলে দলীয় কর্মীদের সাহস যোগাচ্ছে। আমরা বলতে চাই, যতই চিৎকার করুন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।
২০০৭ সালে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ওই সময়ে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিতে শেখ হাসিনার আপত্তির কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, বিচারপতি কে এম হাসানকে আপনারা মানেননি। তাঁকে বিএনপির লোক বলেছেন। অথচ তিনি বিএনপির কেউ নন। তাই যদি হয়, আপনি একজন দলীয় সভানেত্রী। আপনার অধীনে আমরা কোন নির্বাচন মেনে নেব না।
পঞ্চদশ সংশোধনীকে সরকারের আজীবন ক্ষমতায় থাকার অভিলাষ বলেও মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার প্রশাসন, বিচার বিভাগ সবকিছু দলীয়করণ করে ফেলেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন হলে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। কারণ ডিসি, এসপি, টিএনও, ওসি সবাই প্রধানমন্ত্রীর কথামতো কাজ করবে। তিনি বলেন, নির্দলীয় সরকার ছাড়া সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি হবে না। নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে হলে দুই পক্ষের জন্য নির্বাচনের লেভেল-প্লেইং ফিল্ড তৈরি করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান ইসি সরকারের আজ্ঞাবহ ও মেরুদ-হীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তাঁরা শুধু জি স্যার, জি স্যার, জি স্যার করেন। তাঁদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।
রামপালে তাপবিদ্যুত কেন্দ্রের বিরোধিতা করে খালেদা জিয়া বলেন, ভারত তাঁদের দেশে এই প্রকল্প করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাঁদের জনগণের বিরোধিতার কারণে না পেরে আমাদের ঘাড়ে এসে চেপেছে। তিনি বলেন, বিদ্যুত আমাদের প্রয়োজন। কিন্তু রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র করলে সুন্দরবন ধ্বংস হবে। পরিবেশে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। আমাদের নদীগুলো মরে যাবে, রক্তাক্ত হয়ে যাবে। তাই রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র করতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, সিলেটে টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে। অবিলম্বে ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
আওয়ামী লীগ সরকার আমলে দেশের কোন ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয় উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, আওয়ামী লীগের সময় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়, তাঁদের সম্পত্তি দখল ও মন্দির ভাংচুর করা হয়। শাপলা চত্বরে নিরীহ আলেম-ওলামাদের ওপর বিনা কারণে রাতের অন্ধকারে গুলি করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমাদের নবী (স)-কে নিয়ে নাস্তিক ব্লগাররা কটূক্তি করলে ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ এর প্রতিবাদ জানায়। এ সময় বহু আলেম-ওলামাকে হত্যা করা হয়েছে। ১ লাখ ৫৫ হাজার গুলি চালানো হয়েছে। অথচ বিডিআর বিদ্রোহের সময় একটি গুলিও চালানো হয়নি। সেদিন আমাদের সেনাবাহিনীর ভাল ভাল ৫৭ অফিসারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এসব কি মানবতাবিরোধী অপরাধ নয় প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আপনার বিচার হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার জন্য শেখ হাসিনা বিদেশে গিয়ে প্রচার করেন তাঁরা ক্ষমতায় না থাকলে দেশ নাকি জঙ্গীবাদে ভরে যাবে। অন্য ধর্মের লোকজন দেশে থাকতে পারবে না। কিন্তু আমি বলতে চাই আওয়ামী লীগের সময়ই দেশে জঙ্গীবাদের উত্থান হয়েছে। বরং বিএনপি ক্ষমতায় এসে জঙ্গীদের গ্রেফতার করে বিচার করেছে। বিএনপি কোন জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসে বিশ্বাসী নয়। ১৮ দল ক্ষমতায় আসলে দেশ সন্ত্রাস, জঙ্গী ও দুর্নীতিমুক্ত করে দক্ষিণ এশিয়ার রোল মডেল হিসেবে দেশকে দাঁড় করানো হবে।
খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সিলেটে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনির্ভাসিটি, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেন, ঢাকা-সিলেট রুটে দ্রুতগামী রেল চালু করা হবে। যাতে তিন ঘণ্টায় সিলেট থেকে ঢাকায় যেতে পারে। মেয়েদের জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। চীনের সহযোগিতায় সিলেটে একটি ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করা হবে।
জনসভার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের সঙ্গে আমার একটি বিশেষ সম্পর্ক আছে। সেটি হচ্ছে বেয়াই-বেয়াইন সম্পর্ক। অতীতে বিএনপি সরকারের সময় সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান সিলেটের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। ভবিষ্যতেও আমরা উন্নয়ণ করব। তবে সিলেটের ১৯টি আসন আমাদের দিতে হবে।
কর্নেল অলি আহমদ বলেন, শেখ মুজিব এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দিয়ে আমাদের হাতে লাঠি তুলে দেন। এর পর তিনি পাকিস্তানে পালিয়ে যান।
সাদেক হোসেন খোকা বলেন, আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচন করলে তাঁদের প্রার্থীকে গণধোলাই দিতে হবে। সিলেটের ১৯টি আসনে কেউ নির্বাচন করলে তাঁদের গণধোলাই দিয়ে সুধাসদনে পাঠিয়ে দেবেন।
ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহমিনা রুশদীর লুনা বলেন, আমি এখানে একটি দাবি নিয়ে এসেছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলাম। কোন সহযোগিতা পাইনি। আপনাদের কাছে দোয়া চাই, বিচার চাই। আমি মনে করি এই সরকারের পরিবর্তন হলে ইলিয়াস আলীকে ফেরত পাওয়া যাবে।
জনসভা শুরুর পর এক পর্যায়ে মঞ্চের সামনে অবস্থান নিয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ১৩ মিনিট স্থায়ী এই উত্তেজনায় ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে কেউ হতাহত হয়নি। পরে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী মঞ্চের মাইকে শান্ত হওয়ার নির্দেশ দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে জামায়াত-শিবিরের মিছিল মঞ্চের সামনে দিকে অবস্থান নেয়।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে জোয়ারের মতো মানুষের ঢল নেমেছে সিলেটে। শনিবার গোটা মহানগরী মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়েছিল। সকাল থেকে জামায়াত- শিবির ও জমিয়তে উলামা ইসলামের নেতাকর্মীদের ব্যাপক শোডাউন হলেও দুপুরের পর দৃশ্যপট পাল্টে যায়। বিএনপি-ছাত্রদল-যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের লাল-হলুদ ক্যাপ মাথায় নেতাকর্মীদের মিছিলে মিছিলে জনসভার আঙ্গিনায় উপচে আশপাশের এলাকা সয়লাব হয়ে যায়। দুপুর ১২টায় মহানগর সভাপতি এমএ হকের সভাপতিত্বে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। সরকারী আলীয়া মাদ্রাসা মাঠের চারপাশে ছিল নিখোঁজ সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে তাঁর ছবিসংবলিত ডিজিটাল ব্যানার। ইলিয়াস আলীর ছোট মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল নিজেই ডিজিটাল ব্যানারে মডেল হয়েছে। তার আকুতি ছিলÑ ‘আমার আব্বুকে ফিরিয়ে দাও।’ ২০১১ সালে ১৭ এপ্রিল রাজধানীর বনানীর মহাখালীর সাউথ পয়েন্ট মোড় থেকে সাদা পোশাকের লোকজন ইলিয়াস আলীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন।
ইলিয়াস আলীর সর্বাধিক ডিজিটাল ব্যানারের পাশাপাশি মাঠে পূর্বদিকে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ছবিসংবলিত ব্যানারে লেখা ছিলÑ ‘সিলেট উন্নয়নের রূপকার সাইফুর রহমান : ছবি কথা বলে।’ জনসভার কর্দমাক্ত মাঠেও মানুষের জন্য তিল পরিমাণ জায়গা ছিল না। মাঠের উত্তর পাশে আম্বরখানা সড়ক, দক্ষিণের জিন্দাবাজার সড়ক, পুরাতন মেডিক্যাল কলেজ সড়ক, পশ্চিমে রিকাবি বাজার ভিআইপি সড়ক, পূর্বে চৌহাট্টা মীরবক্সটোলা সড়ক- এই আড়াই কিলোমিটার এলাকায় মানুষের ঢল নামে। বিকেলের মধ্যে জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সিলেট সদর, বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ, জৈয়ন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জকিগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও কানাইঘাট এই ১২টি উপজেলা ছাড়াও সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ এলাকা থেকে বাস-ট্রাকে করে হাজার হাজার নেতাকর্মী জনসভায় যোগ দেয়। জনসভার বক্তব্য শোনাতে পুরো এলাকায় শতাধিক মাইক লাগানো হয়। জনসভার মানুষের চিকৎসাসেবা দেয়ার জন্য ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) মেডিক্যাল ক্যাম্প ও সিটি কর্পোরেশন বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করে। সার্কিট হাউস থেকে মাঠ এলাকাসহ গোটা মহানগরীতে নির্মাণ করা হয় কয়েক শ’ স্বাগত তোরণ। সারি সারি রঙ্গিন উৎসব পতাকা দিয়ে সড়কের দুই দিক ব্যাপকভাবে সাজানো হয়।
মাঠের কয়েকটি স্থানে যুদ্ধাপরাধের ফাঁসির দ-প্রাপ্ত অধ্যাপক গোলাম আযম, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, এম কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লার মুক্তি দাবিসংবলিত ডিজিটাল ব্যানার টাঙ্গানো হয়। মাঠের দক্ষিণ পাশের সড়কে ওই নেতাদের ছবি দিয়ে কয়েকটি তোরণও নির্মাণ করেছে জামায়াত।
গত ৫ জুন সিটি নির্বাচনে বিজয়ী হন মহানগর সাবেক সভাপতি আরিফুল হক চৌধুরী। এবারের জনসভায় খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর বেশ কিছু ডিজিটাল ব্যানার ও তোরণ সবার দৃষ্টি কাড়ে।
সর্বশেষ ২০১১ সালের ১১ অক্টোবর এই মাদ্রাসা মাঠে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া জনসভা করেন। ওই জনসভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী। দুই বছর পর এই একই মাঠে তাঁর অনুপস্থিতিতে সকল পর্যায়ের নেতা তাঁদের বক্তব্যে ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দিতে সরকারের ব্যর্থতার জন্য ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
জনসভার মূল মঞ্চের চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। দলীয় স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ ও গোয়েন্দাদের পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। সকাল থেকেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও মোতায়েন করা হয়।
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি এম এ হকের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন ১৮দলীয় নেতাদের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব) অলি আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদের সাংসদ আ ন ম শামসুল ইসলাম, ইজ্জত উল্লাহ, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, ইসলামী ঐক্যজোটের আমির আবদুল লতিফ নেজামী, বিজেপির ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মোঃ ইসহাক, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হাসনাত আমিনী, খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জমিয়তে উলামা ইসলামের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব শাহীনুর পাশা চৌধুরী, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, সেলিমা রহমান, শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, এ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, মহিলা সাংসদ শাম্মী আখতার, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মহিলা দলের সভাপতি নুরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব প্রমুখ।
স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম জালালী পঙ্কী, জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গাফফার, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল হাসান কয়েস লুদি, জেলা সিনিয়র সহ-সভাপতি দিলদার হোসেন সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আহমেদ, স্থানীয় ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, মৌলভীবাজারের সভাপতি এম নাসের রহমান, সুনামগঞ্জের সভাপতি ফজলুল হক আসপিয়া, হবিগঞ্জের সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়সল, শাহ মোজাম্মেল নান্টু, মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ডা. সায়েফ আহমেদ, উত্তরের সভাপতি হাফেজ আনোয়ার হোসাইন, দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর ইসলামী ঐক্যজোটের সভাপতি মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী, মহানগর খেলাফত মজলিশের সভাপতি হাজী নুরুজ্জামান, জমিয়তে উলামা ইসলামের মহানগর সভাপতি মাওলানা মনসুরুল হাসান রায়পুরী, জেলা সভাপতি মাওলানা জিয়াউদ্দিন, জাগপার সভাপতি মখসুদ আহমেদ, সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন চৌধুরী, শফি আহমেদ চৌধুরী, ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন, ছাতক উপজেলা বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান প্রমুখ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ১৮দলীয় জোটের এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্তুজা, ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মুসলিম লীগের নির্বাহী সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খান, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ারুল হক, এনপিপির মহাসচিব ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আবদুল মালেক চৌধুরী, ডেমোক্র্যাটিক লীগের মহাসচিব সাইফুদ্দিন মনি, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এ জেড জাহিদ হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা গাজী মাজহারুল আনোয়ার, নিলুফার চৌধুরী মনি, সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, মনির খান, চিত্রনায়ক হেলাল খান, যুবদল নেতা এনামুল হক লিটন, শরিফুল হক সাজু।
ঈদের পর নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসূচী ঘোষণার আগে খালেদা জিয়া গণসংযোগের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনসভা করছেন। সিলেটের জনসভাটি তারই অংশ। ইতোমধ্যে বিরোধীদলীয় নেতা গত ৮ সেপ্টেম্বর নরসিংদী, ১৫ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহী ও ২৯ সেপ্টেম্বর খুলনায় জনসভা করেন।khaleda

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here