জনতার নিউজ

সাত খুন : বিউটির সাক্ষ্য ও জেরা

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটির মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টা থেকে দুপুর পৌনে ২টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ হয়। এ সময় র‌্যাবের সাবেক মেজর আরিফ হোসেনসহ ৩২ আসামির আইনজীবীরা মামলার বাদী সেলিনাকে জেরা করেছেন। একই সময়ে মামলার তিন আসামি নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও এম এম রানার পক্ষের আইনজীবীরা বাদীকে জেরা করতে সময় প্রার্থনা করলে আদালত আগামী ১০ মার্চ তার জন্য দিন ধার্য করে।

পাবলিক প্রসিকিউটর ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, সকাল ৯টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে ৭ খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৩ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার চার সহযোগীকে হত্যার মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি সাক্ষ্য দেন বলে জানান তিনি। ওই সময় কাগঠড়ায় উপস্থিত র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা আরিফ হোসেনসহ ২০ আসামি এবং র‌্যাবের ৮ সদস্যসহ পলাতক ১২ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা বাদীকে জেরা করেন।

সেলিনা ইসলাম বিউটি আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আসামিরা কীভাবে আমার স্বামীসহ অন্যদের অপহরণের পর হত্যা করেছেন সেসব ঘটনা আদালতে বলেছি এবং আদালতের কাছে ন্যায় বিচার চেয়েছি। নূর হোসেন মূল পরিকল্পনাকারী ছিল। তার পরিকল্পনাতেই র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, এম এম রানা ও আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে নূর হোসেনের সহযোগীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিযেছে।

সাত খুনের দুটি মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইতিপূর্বে মামলাটিকে প্রভাবিত ও দীর্ঘায়িত করার কয়েকজন অপকৌশল হিসেবে আসমিপক্ষ সময়ের আবেদন করে সময়ক্ষেপন করেছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন আসামি অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের কথা উল্লেখ করে সময়ের আবেদন নাকচ হয়েছে। তবে পরবর্তীতে জেরা করার জন্য সময়ের আবেদন করলে আগামী ১০ মার্চ তারিখ নির্ধারণ করা হয় বলে জানান সাখাওয়াত।

মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী আশরাফুজ্জামান জানান, মামলার বাদী আদালতে কোথায়, কখন, কীভাবে, এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে তার বিশদ বর্ণনা করতে পারেননি।

এর আগে একই আদালতে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি নিহত আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যা মামলার বাদী বিজয় কুমার পাল আদালতে সাক্ষ্য দেন। ওইদিন ২৩ আসামির মধ্যে ২২ জনের আইনজীবীরা বাদীকে জেরা করেন।

গত  ৮ ফেব্রুয়ারি ৭ খুনের দুটি মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৩ আসামির উপস্থিতিতে আদালত অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন নির্ধারণ করেন। তবে র‌্যাবের ৮ সদস্যসহ পলাতক ১২ আসামির অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্য শুরু হয়। গত বছরের ৮ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here