image_86735সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এখন সংলাপই খুব জরুরি। মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের পর এখন সংলাপ খুবই আবশ্যক। মহাসচিব পর্যায়ে দায়িত্ব দিয়ে সংলাপ হতে পারে। অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্যই সংলাপ দরকার। আমরা সংলাপের জন্য সরকারি দল ও বিরোধী দলকে আহবান জানাই।

বাংলাদেশে তিনদিন সফরশেষে গতকাল সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই মার্কিন নীতিনির্ধারক। গতকাল বিকালে গুলশানে আমেরিকান ক্লাবে এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বক্তব্য রাখেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে নিশা দেশাই বিসওয়াল নির্বাচন নিয়ে সংকট, সংলাপ, সহিংসতা, অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক, জিএসপিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ও প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি বলেন, অবিলম্বে এখন সংলাপ দরকার। প্রধান দুই দলের মহাসচিবকে দায়িত্ব দিয়ে সংলাপ করা যায়, যাতে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথ তৈরি হয়। আর এই নির্বাচন জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে। বাংলাদেশের জনগণের মূল্যায়নের উপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নির্ভর করবে। এটাই হলো মূল কথা। ‘আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করলে যুক্তরাষ্ট্র তা গ্রহণ করবে কীনা-এমন প্রশ্নের জবাবে নিশা দেশাই বিসওয়াল পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, বাংলাদেশের জনগণের কাছে তেমন নির্বাচন গ্রহণযোগতা পাবে কী? বাংলাদেশের জনগণের কাছে নির্বাচন বৈধতা পেলে তা বিশ্ববাসীও গ্রহণ করবে। তাই এখনই সংলাপ করে সবকিছু ঠিকঠাক করতে হবে। আমি নিজে এ ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। আশাবাদ জাগ্রত হওয়ার কারণ আছে। আমরা মনে করি এখনও সুযোগ আছে। সংলাপটা হওয়া দরকার।

মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে আমরা সুনির্দিষ্টভাবে কোন কিছুতে আগ্রহী নই। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্সাহী। তার অর্থ হল বিশ্বাসযোগ্য, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত, জনগণের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির জন্য একযোগে কাজ করা। এ ধরনের বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহায়তা দেবে।

নিশা দেশাই আরো বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ সবকিছু হতে হবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। যেকোন ধরনের সংঘাত, সহিংসতার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল অবস্থান ও বিশ্বাস রয়েছে। যেকোন গণতান্ত্রিক সমাজে শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশ ও প্রতিবাদ করার অধিকার নিশ্চিত করা হয়। এটাই নিয়ম।

‘বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে মতপার্থক্য বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান খুবই পরিষ্কার। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও আমাদের মিল রয়েছে। কোন মত পার্থক্যের বিষয়ে আমার জানা নেই।

ঢাকা ও ওয়াশিংটনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিষয়ে নিশা দেশাই বলেন, দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গত কয়েক দশকে অনেক দূর এগিয়েছে। বাংলাদেশের সুশাসন, দুর্নীতি বিরোধী কর্মকান্ড, টেকসই উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় অংশীদার ও সহযোগী। জিএসপি ইস্যুতে ঘোষিত রোডম্যাপ পূরণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে জিএসপি পুনর্বিবেচনা হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও গণতন্ত্র অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ সহসাই নতুন ‘এশিয়ান ইকনমিক টাইগার’ এ পরিণত হবে।

তিন সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেন নিশা দেশাই। ২০১০ সালে ইউএসএআইডির সহকারী প্রশাসক হিসাবে প্রথম বাংলাদেশ সফর করেন তিনি। জাপান থেকে শনিবার দুপুরে ঢাকা আসেন তিনি। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশকেই তিনি বেছে নেন সফরের জন্য।

নিশা দেশাই গতকাল সন্ধ্যায় সংসদ ভবনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদেরের সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাত্ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠক করেন নিশা দেশাই। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here