জনতার নিউজঃ গৌতম কুমার

দীর্ঘ ১৫ মাসপর রমেশ টুডুর লাশ উত্তোলনঃ বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদছে,সাঁওতাল ট্রাজেডির হোতারা বীরদর্পে ঘুরছে। বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনার সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমান শাসনামলেই সাঁওতাল পল্লীতে অগ্নিসংযোগ,লুটপাট ও হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার শুরু হবে। সাঁওতালদের ন্যায়,গোবিন্দগঞ্জবাসী ও দেশ বিদেশের বিবেকবান মানুষরা সরকার কে স্বাগত জানাবে।দেশ কাঁপানো আলোচিত ও বিবেক কে নাড়া দিয়েছিল সাঁওতাল ট্রাজেডি।

 ০৬ নভেম্বর,২০১৬ তে বাগদা ফার্মে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে এমপি কালাম গং এবং তার মদদপুষ্ট পুলিশ বাহিনী সাঁওতালদের দখলকৃত সরকারি জমিতে নির্মিত অস্থায়ী পল্লীতে অগ্নিসংযোগ,লুটপাট ও গুলিতে ৩ সাঁওতাল শ্যামল হেমব্রন,মঙ্গল মাডির লাশের ময়নাতদন্ত হলেও,রমেশ টুডুর লাশ ময়নাতদন্ত হয়নি। ফলে,দীর্ঘ ১৫ মাস পর ১৩/২/২০১৮ ইং সকাল ১০ ঘটিকার দিকে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্টেট (এসিল্যান্ড)পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং সিভিল সার্জনের ডাঃ এর উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করা হয়।
এসময় মামলারবাদী থমাস হেমব্রনও উপস্থিত ছিলেন।রমেল টুডুর উত্তোলনকৃত লাশ গাইবান্ধায় ময়নাতদন্ত করা হবে বলে পিবিআই নিশ্চিত করেছে।

সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় প্রত্যয়-“অপরাধী যেই হোক তার ছাড় নেই।প্রয়াত সাংসদ মুনজুরুল ইসলাম লিটন,আব্দুর রহমান বদি,রানা প্রমুখ বর্তমান জাতীয় সংসদের এমপি, বিতর্কিত ঘটনার জন্য জেলে গেছেন।  হত্যা মামলায় এখনো এমপি রানা জেলে আছেন।সরকারের সুশাসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেলে আছেন।  একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় গুন বা বৈশিষ্ট্য হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠা্‌ সেক্ষেত্রে বর্তমান উন্নয়নের সরকার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশ্ন হলো: এমপি আবুল কালাম আজাদ কি বেগম খালেদা জিয়ার চেয়েও শক্তিশালী ! তাই যদি না হয় তাহলে এমপি কালাম কে এখনো কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না?

সাঁওতালদের মত সচেতন নাগরিক সমাজের ধারণা তার অবৈধ টাকার মোহে সরকার ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতা ও মন্ত্রীদের কারণে এমপি কালাম গ্রেফতার হচ্ছেন না।
এমপি কালামের ভূমিগ্রাসের মোহ থেকে এই সাঁওতাল ট্রাজেডি ঘটনা ঘটেছে তা কিন্তু প্রমাণিত। প্রমাণিত ঘটনাকে ধামাচাপাদেয়ার সুযোগ কিন্তু থাকে না বললে অত্যুক্তি হবে না যে,বঙ্গবন্ধু কন্যার সততা ও বিষ্ময়কর নৈপূন্য ও দক্ষতায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র উন্নয়নশীল রাষ্ট্র পরিণত হওয়ার পথে,এমন একটি রাষ্ট্রে কোন আইন প্রণেতা বা এমপি একটি নৃগোষ্ঠীর জীবন ধ্বংশের খেলায় মেতে উঠতে পারেন না। জনগন চায় অপরাধীর বিচার হোক।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়ন হোক।

সাঁওতাল ট্রাজেডির মূলে ছিল রাষ্ট্রের ১৮.৪২ শত একরের বিশাল ভূখন্ড গ্রাসের নীলনক্সা।
১লা জুলাই,২০১৬ ঈদের পূর্ব দিন এমপি কালাম ও তার সহচর ছাত্রলীগের সভাপতি বুলবুলের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে সাঁওতালদের দিয়ে প্রায় ১ শত একর জমি দখলকরে অস্থায়ী বসতি নির্মাণ করে। সর্বপ্রথম ফেসবুকে কালাম ও বুলবুলের জড়িত থাকার কথা প্রকাশ করে এই প্রতিবেদক এছাড়া প্রধানমন্ত্রী,ভূমি,শিল্প মন্ত্রণালয়ের দপ্তর ও বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও নেতাকে  চিঠি দিয়ে জানান এই প্রতিবেদক।
তখন কেউ কর্ণপাত করেন নি,  তারপর দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ০৬ নভেম্বরের ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে  আবুল কালাম এম পি  ও বুলবুল জড়িত।

গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ঘটনা প্রবাহের অন্তরালে ছিল এমপি  কালাম ও ছাত্রলীগ সভাপতি চেয়ারম্যান বুলবুল, এর সঙ্গে কিছু বামপন্থি নেতাও জড়িত আছেন বলে সন্দেহ করা হয়। ঘটনার  অন্তরালে ঢুকলে তা বোঝা সক্ষম।  কিভাবে তারা জড়িত এর ব্যাখ্যা দেয়াটা সহজ ,১৯৫৪-৫৫ সালে পাকিস্তান সরকার রংপুর চিনিকল বা সুগার মিলস প্রতিষ্ঠার কারনে আখ চাষের জন্য ১৮.৪২ শত একর জমি অধিগ্রহণ করে, জমি দাতা অধিকাংশ হিন্দু ও মুসলমান।

সাঁওতাল সম্প্রদায়ের জমি ছিল প্রায় ১০ শতাংশের মত।জমি দাতাদের কাছ থেকে সরকার ন্যায্য মূল্যের চেয়েও তিনগুন বেশী দামে এ জমি কিনে নেয়।পাকিস্তান ভেঙে দু’টুকরো হয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। তারপর স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর অর্থাৎ জমি অধিগ্রহণের পর ২০১৬ সালে ১লা জুলাই হঠাৎ কেন সাঁওতালরা রাষ্ট্রীয় ভূ-খন্ড দখল করলো। দখল করার পেছনে এ নিশ্চয় একটি চক্র বা শক্তি ছিল। এ জমি দখল করার মত শক্তি ও সাহস কিন্তু সাঁওতালদের ছিল না। একটু ফিরে দেখি- বছরের পর বছর সরকারের লোকসান খাত শিল্পমন্ত্রণালয়ের এই রংপুর সুগারমিল। এমডি থেকে শুরু করে জমির লেবার পর্যন্ত কমবেশী সবাই এই লোকসানের সাথে জড়িত। যাই হোক,লোকসানের কারণে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায়আসার পর ২০০৪ সালে লোকসানের অজুহাত এই মিলটি সরকার বন্ধ ঘোষণা করে।

পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে থাকে রাষ্ট্রের এ বিশাল ভূ-খন্ড।চিনিকল শ্রমিকদের আন্দোলন ও  ভোট এবং সরকারের ইমেজের  কথা চিন্তা করে সরকার ২০০৬ সালে আবারো চালু করে মিলটি। কিছু জমিতে আখ চাষ করে মিল আর অধিকাংশ জমি পড়ে থাকে,তৈরি হয় একটি চিহ্নিত শক্তির লোভ-লালসা। মিলের এমডির কাছ থেকে  বিভিন্ন দলের কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি নিজেদের ব্যক্তি উদ্যোগে আখ চাষের জন্য জমি লীজ নেয়া শুরু করে। তাদের মধ্যে বর্তমান এমপি আবুল কালাম আজাদ ও জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন ফকু অন্যতম। মূলতঃ রাষ্ট্রীয় বিশাল সম্পর্তি ভোগদখল করতে এ চক্রটিই কাজ করতে থাকে নানাভাবে। তারাই ভিতরে ভিতরে লালসা মেটাতে ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার জাল বুনতে থাকে।

২০০৯ এ আবুল কালাম আজাদ উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পর তার কামনা চরিতার্থ করার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে, উপজেলাতে তিনশতের অধিক সরকারি জলমহল আছে, এদের অধিকাংশ এই বাগদাফার্ম এলাকা ও সংলগ্ন। উপজেলা চেয়ারম্যান এই জলমহলগুলির কর্তা নিজেকে তৈরি করেন। ফার্মের লীজ প্রথা অব্যাহত থাকে।এক পর্যায়ে কৃষিবীদ হাসান চৌধুরী লিটনও টেন্ডারে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে কিছু জমিলীজ নিয়ে আখচাষ শুরু করেন।তিনি অনুর্বর এ জমিতে কঠার পরিশ্রম ও টেকনোলজি ব্যবহার করে আখের বাম্পার ফলন ঘটান।এ বাম্পার ফলন দেখে চিনিকল কর্তৃপক্ষ খুঁশি হয়ে তাকে আর কিছু জমি লীজ দেন,  সে জমিগুলোতে আখের পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে ধান চাষ শুরু করেন,কৃষিতে বিপ্লব ঘটে,অভিভূত হয় এলাকার লোকজন।

লিটন চৌধুরী একটি কৃষি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। এ ফার্মে শতশত পুরুষ ও নারী লেবারের কাজ করতো। তারা সবাই ছিলেন সাঁওতাল।তারা দীর্ঘদিন কাজ করেছে কিন্তু কোনদিন শোনা যায় নি এ জমি তাদের।বাগদা ফার্মের জমি লীজ নিয়ে জনৈক পাটোয়ারির গড়ে উঠেছিল  একটি পটেটো ফ্লেক তৈরির কারাখানা।  তার এ বিপ্লব দেখে শুরু হয়ে যায় চিহ্নিত ঐ মহলটির ষড়যন্ত্র। ২০১২ থেকে তারা এলাকার কিছু ব্যক্তিবর্গের সাহায্যে সাঁওতালদের সংগঠিত করতে থাকে।তারা উপজেলার সাপমারা ইউপির মাদারদহ ও জরিপপুর ঐ দুটি মৌজা বা গ্রামের সাঁওতাল ছাড়াও পার্শ্ব বর্তী জেলা দিনাজপুর,রংপুর,বগুড়া, নাটোর,পাবনা, ও রাজশাহী জেলার সাঁওতালদেরও অর্ন্তভুক্ত করা হয়। এছাড়া স্থানীয় ও উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কিছু গরীব মানুষদের নিয়ে গড়ে ওঠে আদিবাসী ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম পরিষদ।

এ পরিষদের সভাপতি হন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাকিল আকন্দ বুলবুল।সেক্রেটারী হন জাতীয় পার্টির শাহজাহান আলী। ২০১৪ সালের ০৫ জানুয়ারীতে স্বতন্ত্র  এমপি  নির্বাচিত হন আবুল কালাম আজাদ ।ক্ষমতা ও টাকা দুটোই বৃদ্ধি পায় তার।  বাড়তি ক্ষমতা পান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য হবার পর।হাসান চৌধুরী লিটন নৌকার এমপি ও প্রার্থী মনোয়ার চৌধুরীর ভাই হওয়ার কারণে তার কোটি টাকার এই কৃষিফার্ম দখল করে লুটপাট করেন বুলবুল গং। বুলবুলের নেতৃত্বে সাঁওতালরা উপজেলা শহরে মিছিল করে। হৈ হৈ রই রই লিটন চৌধুরী গেল কই। বুলবুলের এ শক্তির নেপথ্যে থাকে  এমপি কালাম।ইস্যু তৈরি হয় সাঁওতালদের বাপ-দাদার জমি ফিরিয়ে দেয়া হবে। বাগদা ফার্মের জমির লোভ দেখানো হয় ।জমি উদ্ধার করতে যে টাকা খরচ হবে তার জন্য সপ্তাহে শনিবার মিটিং বসতো।

টাকা উত্তোলন করা হতো।টাকা জমা হতে থাকে বুলবুলের কাছে।এমপি কালাম উপজেলায় নিজেকে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী করতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগাঠনিক সম্পাদক, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন সহ জেলা সভাপতি ও সেক্রেটারী বিশেষ ভূমিকা রাখেন। অভিযোগ আছে যে,দলের গঠণতন্ত্রের বাইরে কালাম কে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করতে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ৩ কোটি টাকা নিয়েছেন। ২০১৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের নামমাত্র সম্মেলনের পর অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন এমপি কালাম।আদিবাসী ভূমি উদ্ধার পরিষদের সাথে চলে তার নিয়মিত যোগাযোগ।

মার্চ-এপ্রিলে অনুষ্ঠিতব্য সাপমারা ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন বুলবুল। সাঁওতালদের জমি ফিরিয়ে পেতে তাকে চেয়ারম্যান বানাতে হবে। বুলবুল তাদের আশ্বাস দেন যে,সে চেয়ারম্যান হলে শপথ নেয়ার আগেই সাঁওতালদের বাপ-দাদার জমি ফিরিয়ে দেবেন।এক নির্লজ্জ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় বুলবুল।এবার কথা রাখার পালা। অবশেষে ৩০ শে জুন,২০১৬ তে এমপি কালামের নির্দেশে ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম পরিষদের সভা আহবান করা হয়।এই সভায় কেন্দ্রীয়,জেলা ও উপজেলার বামনেতারাও অংশ নেন।ঐ সভায় সিদ্ধান্ত হয় বাগদা ফার্মের জমি দখল করার। ১ লা জুলাই বুলবুলের নেতৃত্বে সাঁওতালরা রংপুর চিনিকলের প্রায় ১ শত একর জমি দখল করে নির্মাণ করেন অস্থায়ী ছাউনি।দখলকৃত জমিতে কয়েকটি পুকুর খনন করা হয়।বাকী জমিতে ধান ও কালাই বীজ বপন করা হয়।জমি দখল হওয়ার পর রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ভূমি উদ্ধার আন্দোলনে নামেন।এ নিয়ে তারা মিছিল,মিটিং ও সমাবেশ করে বিভিন্ন সময়।আন্দোলনরত শ্রমিক ও চিনিকল কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকবার বসে এমপি কালামের সাথে।কার্যত কোন সমাধান মেলে না। দখলকারীদের উচ্ছেদ করতে রংপুর চিনিকল ভূমি উদ্ধারে আন্দোলনকারীদের চাপ প্রশাসনের উপর বাড়তে থাকে।প্রশাসন বলতে থানার ওসি ও ইউএনও কে নিজের কব্জায় রাখে এমপি কালাম।স্বাধীনভাবে তারা তাদের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।ফেসবুকে এ সম্পর্কিত ধারাবাহিক প্রতিবেদন লিখতে থাকে এই প্রতিবেদক।১৩ আগষ্ট  হঠাৎ সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার সময় এই প্রতিবেদকের মোবাইল ফোনে কল আসে এবং এমপি কালাম তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে,মেরে ফেলার হূমকি দেন। এবং গুন্ডাদের পাঠান তাকে  তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য। জানের ভয়ে প্রতিবেদক এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। এলাকা ও পরিবার ছাড়তে বাধ্য করেন ।সময় গড়তে থাকে।সাঁওতালদের দখলকৃত বাগদা ফার্মে গড়ে ওঠে নিষিদ্ধ পল্লী। বিশাল সাইনবোর্ড লাগানো হয়। তাতে লেখা থাকে- জনসাধারণের প্রবেশ নিষেধ।

  মাদক ও অসামাজিক কাজের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। নিয়ন্ত্রণে চেয়ারম্যান বুলবুল। পাহারা থাকে বুলবুল বাহিনী।দেখে মনে হয়-এ যেন স্বাধীন বাংলাদেশের মধ্যে আরেকটি নতুন এক দেশ। নতুন স্বাধীন এক দেশ।  অবশেষে আসে কলংকজনক ও প্রাণসংহারের দিন ০৬ নভেম্বর। এ দিন বাগদা ফার্মে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করতে প্রশাসন সমর্থ হয়।উচ্ছেদ অভিযানে চালাতে গিয়ে পুলিশের সাথে যোগ দেয় এমপি কালাম ও চেয়ারম্যানের গুন্ডা বাহিনী।উচ্ছেদ অভিযানের সময় মাননীয় ইউএনও ও ওসির সাথে এমপি কালামের ব্যক্তিগত পিএস আতিক,চেয়ারম্যান বুলবুল সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।শান্তিপূর্ণ অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশ সাঁওতালদের অস্থায়ী ছাউনীতে পুলিশ অগ্নিসংযোগ করে। লুটপাট করা হয়।সাঁওতালরাও তীর ছোড়ে। পুলিশ গুলি চালায়। সংঘর্ষে ৩ সাওতাল নিহত হয়।পুলিশসহ উভয়পক্ষে  ৩০ জন মারাত্নক আহত হয় । এতোবড় একটি ঘটনা গণমাধ্যমে আসে না। মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন এমপি কালাম।

শত চেষ্টার পরেও গণমাধ্যমে আসে উচ্ছেদ অভিযানের কথা। এই ঘটনার অন্তরালে যে ঘটনা রয়েছে তা আড়ালেই থাকে।তারা সাম্প্রদায়িকতার অজুহাত তুলে এ ঘটনাটি সরকার ও প্রশাসনেরর উপর দোষ দিতে থাকে।গোবিন্দগঞ্জবাসী  হতবাক হয়ে যায়। এরকম একটি ঘটনা কেন মিডিয়া প্রচার করছে না। ৯-১০ তারিখে  অবশেষে সময় টিভি  বেলা ২ টার  নিউজ প্রচার করলো-ক্ষতিগ্রস্থ সাঁওতালদের ঘর তুলতে টিন  এলাকায়বিতরণ করা হবে ও তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরণের সহযোগিতা করা হবে।

সাঁওতাল ট্রাজেডি।সাঁওতাল পল্লীতে অগ্নিসংযোগ,লুটপাট ও প্রাণহানীর ঘটনায়  সাঁওতালদের পক্ষে দুটি মামলায় করা হয়। একটিতে অজ্ঞাত দেখিয়ে ৫০০-৬০০ জনের নামে মামলা করা হয়।অপর মামলায় এমপি আবুল কালাম আজাদ কে ১ নং ও বুলবুলকে ২ নং ইউএনও এবং ওসিকে আসামী করা হয়। গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীতে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ ও জানতে ঘটনাস্থলে আসলেন- ভারতীয় হাইকমিশনার,ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তদন্ত দল,জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রধান, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সহ সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।সরকারের পক্ষ থেকে বিচার বিভাগীয় তদন্ত টিম গঠণ করা হয়। এই প্রতিবেদক ও গোবিন্দগঞ্জের উন্নয়নের রূপকার ও নৌকার নমিনী এবং সাবেক এমপি প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সাথে ২১ নভেম্বের সাঁওতালদের নিবাস মাদারদহ গ্রামে গিয়েছিলেন ।গোবিন্দগঞ্জ শহর থেকে ৭-১০ কিঃমি দূরে এই গ্রামে  যাওয়ার সময় তারা দেখলেন বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশ ও গুন্ডাদের পাহারা। তীব্র শীতে এক কাপড়ে  আগুন জ্বালিয়ে কুন্ডলী হয়ে রাত কাটে তাদের।পুরুষরা অনেকই গ্রাম ছাড়া। অনেকেই বিভিন্ন হাসপাতালে।স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা গুন্ডাদের ভয়ে স্কুল ও কলেজে যেতে পারে না।এক ভয়ানক ভীতি ও আশংকার মধ্যে সাঁওতালরা।

পেটে ভাত নেই যাদের পরের ক্ষেতে কাজ না করলে একবেলা খাবার জোটে না তারা ঘরের বাইরে বের হতে পারেন না, এমন একটি পরিবেশে জীবনের শংকা নিয়ে কাটছে তাদের জীবন, নারী ও পুরুষরা তাদের গির্জার সামনে বসে আছে।পুলিশী পাহারায় তারা।প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া বেশ সংখ্যক উপস্থিত আছেন। দুজন করে পুরুষ ও মহিলা প্রকাশ্যে মিডিয়ার সামনে বর্ণনা করলেন তাদের জমি দখলের পেছনে ও পূর্বের ঘটনা ও বর্ণনা করলেন ০৬ নভেম্বর তাদের সেই লোমহর্ষক পরিণতির কথা।যারাই গেছেন তাদের সামনেই তারা অশ্রুজলে বলেছেন- তারা এমপি কালামের নির্দেশ ও পরামর্শে বাগদা ফার্মের জমি দখল করে। এই আন্দোলনে চালাতে গিয়ে তাদের কাছ থেকে  মোটা অংকের  টাকা নেয় বলে এলাকায় গুঞ্জন আছে ।এমপি নির্বাচনে তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা নেয়। বুলবুল তাদের টাকা ও সহযোগিতায় চেয়ারম্যান হয়।আবার তারাই আমাদের পিছন থেকে সরে গিয়ে পুলিশ ও গুন্ডাবাহিনী লেলিয়ে দেয়। তাদের জীবন নিয়ে কেন তিনি এ সর্বনাশা খেলা খেললেন তাদের ৩ জন নিহত হয়েছেন। অনেকেই আজ আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।কি অপরাধ ছিল তাদের! তাদের বর্ণনায় ও অশ্রুতে অনেকেই আবেগরুদ্ধ হয়ে পড়েন।তারা সরকারের কাছে এমপি কালাম ও চেয়ারম্যান বুলবুলের বিচার দাবী করেন।

তারা তাদের বাপ-দাদারজমি ফেরত চান।তারা আরো বলেন যে,পাকিস্তান সরকারের ভূমি অধিগ্রহণ শর্তে উল্লেখ ছিল কখনো সুগার মিল বন্ধ হয়ে গেলে বা বাগদা ফার্মের জমিগুলোতে আখ ব্যতিত অন্য কোন চাষ হলে তারা তাদের পৈত্রিক জমি ফিরে পাবেন।সবশেষে সাবেক এমপি প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরী তাঁর বক্তৃতায় তাদের কে দুঃখজনক ঘটনার জন্য সমবেদনা জানান।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের পক্ষে তাদের সব ধরণের সহযোগিতা ও পুর্ণবার্সনের আশ্বাস এছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন  বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও আ.স.ম আব্দুর রব। এমপি কালাম ও বুলবুলের কিছু চিহ্নিত ক্যাডাররাও ঐ সময় উপস্থিত ছিলেন। জনাব সিদ্দিকীর পুর্নবার্সনের কথা শুনেই উপস্থিত সাঁওতালরা মানি না মানি না প্রতিবাদ জানাতে থাকে এবং জনাব সিদ্দিকী ও রব তাদের দাবীর প্রতি সমর্থন জানায়।একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।এরপর শ তিনেক কম্বল সাঁওতালদের দিয়ে  মাদারপুর গ্রাম ত্যাগ করে গোবিন্দগঞ্জে ফিরে আসি।আজ প্রায় ১৫ মাস পেরিয়ে যাচ্ছে সাঁওতাল ট্রাজেডির মূলহোতাদের আজও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়নি তদন্ত টিম সাঁওতাল পল্লীতে যাওয়ার আগে এমপি কালামের সাথে  ডাক বাংলোয় বসে খাওয়া-দাওয়া করেন।

সাঁওতাল পল্লীতে উপস্থিত সাঁওতালদের মুখে শোনেন সেই বর্ণনা ও তাদের নানা সমস্যার কথা।এ সময় খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর তদন্ত দলের সাথে ছিলেন সাঁওতাল  হত্যার অন্যতম আসামী জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ হোসেন ফকু।সরকারের পক্ষে ও মহামান্য হাইকোর্টের আদেশে ক্ষতিগ্রস্থ সাঁওতালদের পূনবার্সনে নানা কর্মসূচীর উদ্যোগ নেয়ার কথা শোনা গেলেও এখনো তাদের জন্য নেয়া হয়নি কোন কার্যকরী পদক্ষেপ। এই ১৫ মাসে যদিও সাঁওতালরা এমপি কালাম সহ অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার ও বিচারসহ ৭ দফা দাবী  নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ ও জেলা সদরে বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। অত্যন্ত মানবিকতার সাথে বলতে চাই- একটি প্রমাণিত বিষয় নিয়েপ্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার ও বিচার করতে রাষ্ট্র বা সরকারের কোন বাঁধা থাকতে পারে না।

এ ঘটনায় মাননীয় শিল্পমন্ত্রী ও শিল্প সচিব প্রেস ব্রিফিং এ বলেছিলেন- “সাঁওতালরা অধিগ্রহণকৃত  জমি কখনো ফেরত পাবে না।এখানে একটি ভূমিদস্যু চক্র জড়িত। তারা কৌশলে সাঁওতালদের ব্যবহার করেছে।তাদের এমনও পরিকল্পনা ছিল, সাঁওতালদের দিয়ে জমি দখল করার পর ওদের একরাতে উচ্ছেদ করার।এই ঘটনায় যারা জড়িত তারা যত শক্তিশালীই হোক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”-শিল্প মন্ত্রণালয়ের এমন বক্তব্যে  দেশের মানুষ বিশ্বাস ও আস্থা রাখতে শুরু করলো। গণমাধ্যমের নজর জুড়ে এমপি কালাম ও চেয়ারম্যান বুলবুল।বুলবুলের জড়িত  থাকার বিষয়ে বুলবুলের মন্তব্য জানতে   গণমাধ্যম কে সে জানিয়েছে- “সাঁওতালদের আদিবাসী ভূমি উদ্ধার পরিষদের সাথে সে জড়িত ছিল।পরে সে এ আন্দোলন থেকে সে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে।”- এ ব্যাপারে জড়িত থাকার বিষয়ে   এমপি কালাম গণমাধ্যম কে বলেছেন- “০৬ তারিখে এ ঘটনা ঘটার সময় আমি আমার পরিবারের সঙ্গে টাঙ্গাইলে ছিলাম।আমি এ ঘটনায় জড়িত নই।”- গণমাধ্যম যখন এই ট্রাজেডিকে সংখ্যালঘু নির্যাতন বলে প্রচার করেছে তখন সরকার ও দলেরও টনক নড়ে।সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাকে বেশ তোপের মুখেদেয়া হলে ভাল। যদি মানবিক কারণে না দেয়া হয় তাহলে তারা রোপণ করেছে তাই তাদের দেয়া হয়েছে। এই শর্তে কিন্তু তারা যে পুকুরগুলো খনন করেছে সেটাও কিন্তু তাদের প্রাপ্য।কথা হলো যে,ঐ বিশাল সম্পত্তি  রাষ্ট্রের।

রাষ্ট্রের সম্পত্তি দখল করে যদি তারা যে ধান,কালাই বীজ রোপণ করলো তা কিন্তু চরম  অন্যায়।চরম শাস্তিযোগ্য অপরাধ।এখানে কিন্তু অপরাধ ও ধান কালাই নেয়া বা দেয়া দুটোই সমান্তরাল ।অবাক হবেন যে, উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাঁপাতে গিয়েই কিন্তু এ হযবরল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।জজমিয়া নাটক সাজানো হয়েছে।মূলঘটনাকে আড়াল করা হয়েছে।ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হয়েছে।সাম্প্রদায়িকতার অজুহাত তুলে সরকার কে বেকায়দায় ফেলানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সরকার বা দল ব্যক্তির অপরাধ নিজের ঘাড়ে নিয়ে রেখেছে। এদের খপ্পরে পড়ে  ইউএনও ,ওসি পর্যন্ত জাতির কাছে বিতর্কিত হয়েছে।পুলিশ উচ্ছেদ করার পর কার আদেশে আগুন দিয়েছে ও গুলি করেছে?সাঁওতালরাই কেন বারবার পুলিশের উপর তীর ছুড়েছে-কোন শক্তির বলে বা কাদের মদদে?-এসব প্রশ্নের   উত্তর জানা দরকার।  কে নাড়ালোকলকাঠি;শান্তির গোবিন্দগঞ্জে অশান্তি! এই সাঁওতাল ট্রাজেডি শুধু গোবিন্দগঞ্জকেই রক্তাক্ত করেনি। হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে দেশবাসী ও বিশ্ববিবেকের।  এই বিশাল ভূখন্ড দখলের পেছনে ছিল এমপি কালাম ও তার আদর্শ ও বিপ্লবের বামদলের কিছু নেতার ভূমিগ্রাসের মহাপরিকল্পনা। ২। নিরীহ, অভাবী,খেটে- খাওয়া সাঁওতালরা ছিল ভূমিদস্যুদের দাবার গুটি। ৩।সরকারের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অভিযোগ ছিল দুরভিসন্ধি ও গভীর ষড়যন্ত্রের চিন্তন। -যা কিছু গণমাধ্যম,মানবাধিকার কর্মী বা সংস্থা , বামপন্থি ও সুশিলদের চক্রান্তের ফসল ।বাঙালি নৃগোষ্ঠী আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে আত্নার সাথে মিশে আছে।দেশে বৈচিত্রময়তা এনেছে।তারা তাদের বাপ-দাদার জমি ফেরত পাবে না বা পেতে পারে না-এটা সু নিশ্চিত । বর্তমান সাঁওতালদের ৭ দফাদাবীর অন্যতম দাবী হলো -এই ঘটনায় মূলহোতা ও আসামীদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় নিয়ে আসা ।তাদের এটা যৌক্তিক দাবী।দেশবাসী তাদের এ দাবীর সাথে একমত পোষণ করে। বর্তমান সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে যথেষ্ট আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছে।যা জাতি দেখেছে জাতির পিতা ও তাঁর সপরিবারে হত্যাকান্ড ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে। তাই,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কাছে  আজ এলাকাবাসীর দাবী – রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখলের মূলহোতা  এমপি কালাম ও চেয়ারম্যান বুলবুল সহ সাঁওতালদের দায়ের করা মামলার আসামীদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনা হোক। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে  সরকার কে বিপদে ফেলানোই ছিল-এই চক্র বা গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য। 

 

 

 

শেয়ার করুন
  • 70
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here