জনতার নিউজঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেছেন, আমরা বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ। সেই স্বপ্ন একদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেখেছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে সকল জেলা-উপজেলায় অনুষ্ঠিত উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার যে কাজগুলো করেছে এবং ভবিষ্যতে যে কাজগুলো করতে যাচ্ছে তা সম্পর্কে জনগণকে ধারণা দিতেই এই মেলার আয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দেশবাসীকে এটুকু বলবো, উন্নয়ন মেলা যেটি তার সরকার করে যাচ্ছে, এই উন্নয়ন হচ্ছে জনগণের উন্নয়ন। গ্রামের মানুষ, তৃণমূলের মানুষের উন্নয়ন। এই উন্নয়ন হচ্ছে বাংলাদেশকে সমগ্র বিশ্বের দরবারে একটি সন্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই মেলায় যারা সম্পৃক্ত রয়েছেন তাদেরকে বলবো, যে কাজগুলো আমরা করতে পেরেছি এবং যে কাজগুলো ভবিষ্যতে করার পরিকল্পনা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে সেগুলো সম্পর্কে যেমন জনগণকে সচেতন করা দরকার, তেমনি আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় তার জন্য সকলের সহযোগিতা একান্তভাবে দরকার।’ তিনি বলেন, ‘এই উন্নয়ন যেন অব্যাহত থাকে সেই লক্ষ্য নিয়েই এই উন্নয়ন মেলার সূচনা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর এই দেশকে গড়ে তোলার জন্য জাতির পিতা মাত্র সাড়ে ৩ বছর সময় পেয়েছিলেন। এত স্বল্প সময়ে কোনো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল কি না আমার জানা নেই। সেই অসাধ্য সাধন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর মতো বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ছিল বলেই এটা সম্ভব হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের ভাগ্য গড়ায় পঁচাত্তর পরবর্তী শাসকগোষ্ঠী যতটা ব্যস্ত ছিলেন, দেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে তারা কিছুই করেননি। সেই সময়ে ১৯টি ক্যু হয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ২১ বছর পর সরকার গঠন করার পরই সরকার যে জনগণের সেবক সেটা জনগণ বুঝতে পারেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ বাংলাদেশের মানুষের জন্য স্বর্ণযুগ ছিল। কারণ ২১ বছর পর জনগণ প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করেছিল সরকার সত্যিই জনগণের জন্য কাজ করে এবং সে সময়েই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে।

জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট বেশি দিলেও আসন কম পাওয়ায় দুর্ভাগ্যবশত পরের ৫ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরপর ৭টি বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা আওয়ামী লীগের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো আর অব্যাহত রাখেনি। কারণ সেগুলো নিয়ে তাদের মাথাব্যথা ছিল না বরং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালানো, দুর্নীতি, লুটপাট, মানিলন্ডারিং করা ও হাওয়া ভবন খুলে দেশে-বিদেশে ঘুষ দুর্নীতি করাই তাদের লক্ষ্য ছিল। এভাবেই তার সরকারের উন্নয়ন অর্থনীতি পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে দেয়া হয়।

গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নে তার সরকার ৫ বছর মেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ইতোমধ্যে ৫ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যার সুফল দেশের মানুষ পাচ্ছে। এই দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলাই তার সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ ঘর পাবে, প্রতিটি ঘর আলোকিত হবে, প্রতিটি ছেলে-মেয়ে বিদ্যালয়ে যাবে, পড়াশোনা করবে, চিকিত্সা ব্যবস্থা মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে যাবে এবং মানুষ মানুষের মতো বাঁচবে, সেই স্বপ্ন দেখতেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চাঁদপুর ইলিশ মাছের জন্য বিখ্যাত। এখানে একটি ইলিশ গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে গবেষণাও হচ্ছে। আমরা অপেক্ষায় আছি, পুকুরে কবে ইলিশ মাছ চাষ করা যাবে। তা অবশ্য সম্ভব নয়। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

বরগুনায় আশ্রয় প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগী একজনের সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. মোখলেসুর রহমানকে জেলায় কিছু অগ্রসর দ্বীপ চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, সেখানে জাহাজ নির্মাণ শিল্প গড়ে তোলার ইচ্ছা রয়েছে সরকারের। বরগুনায় পর্যটনের উন্নয়নেও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। ঝিনাইদহের পুনর্বাসিত ভিক্ষুক মর্জিনা বেগমের সঙ্গেও কথা বলেন শেখ হাসিনা। ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে মর্জিনা এখন একটি ছোট মুদি দোকান চালান। শেখ হাসিনা বলেন, কোনো জেলার প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা একদিনের বেতন দিয়ে তহবিল করে ভিক্ষুক পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিলে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকেও সেখানে অর্থ দেওয়া হবে।

হবিগঞ্জে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের একজন উপকারভোগী এবং একজন চা শ্রমিকের সঙ্গেও ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন শেখ হাসিনা। চায়ের জন্য প্রসিদ্ধ হবিগঞ্জ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হবিগঞ্জের চা তো নামকরা। শীতের সকালে, এখনই সবার মনে হচ্ছে এককাপ চা পান করি। চায়ের কথা শুনে সবার চা খেতে ইচ্ছে হচ্ছে। কী সবার ইচ্ছে করছে না? হবিগঞ্জের কথা শুনে তো নিশ্চয়ই চা খাওয়ার কথা মনে হবে।’ এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার জন্য চা পরিবেশনের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। শিগগিরই তিনি ওই অঞ্চলে যাবেন বলে জানান। গাইবান্ধার সরকারি ভাতাভোগী এবং মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আগামী মাসেই বালাসী ঘাট ও বাহাদুরাবাদ ঘাটের মধ্যে পুনরায় ফেরি পারাপার শুরু করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এই পথে যমুনা নদীর তলদেশে ভূগর্ভস্থ পথ তৈরির একটি পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here