image_86472
জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের উদ্দেশ্য হাসিল হয়নি। হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমেদ শফীর সাথে সাক্ষাত্ করলেও বিফল মনোরথ হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। এরশাদ তার সম্ভাব্য জোটে আল্লামা শফীকে টানার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে দোয়া করার অনুরোধ করেন। হেফাজত আমীর এসময় বলেন, কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাইলে হেফাজতে ইসলাম তাকে সমর্থন দেয়া দূরে থাকুক, কাউকে দোয়াও করবে না।

হেফাজতের আমীরকে প্রভাবিত করার জন্য চরমোনাই পীরের সাথে আলোচনা করার কথাও এরশাদ উল্লেখ করেন বলে বৈঠক সূত্র জানায়। জানা গেছে, আল্লামা শফীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা চাইলেও এইচএম এরশাদ কোনো সায় পাননি। হেফাজতের আমীর এরশাদকে জানিয়ে দিয়েছেন, ইসলাম বিরোধী যে কোনো শক্তির ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলাম অবস্থান গ্রহণ করবে। কোনো বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী কাউকে সমর্থন করবে না।

গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম এসে হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সাথে দেখা করেন এইচএম এরশাদ। হেফাজতের প্রধান কার্যালয় হাটহাজারী মাদ্রাসায় দুপুরে তাদের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জাপা প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জিয়াউদ্দিন বাবলু, হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী, নায়েবে আমীর আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ শামসুল আলম, কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি নূর আহমদ, মাওলানা কাতেব সুলায়মান আরমান, মুফতি জসীম উদ্দীন, মাওলানা আহমদ দীদার, মাওলানা মুহাম্মদ আনাস মাদানী, মাওলানা মুনির আহমদ, মাওলানা শফিউল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গতকালের বৈঠক সংক্রান্ত হেফাজতের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হেফাজত নেতাদের উদ্দেশে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ধর্মীয় শিক্ষাসহ বিভিন্ন স্তরে ইসলামের পক্ষে কাজ করেছে জাতীয় পার্টির বিগত সরকার। বর্তমান সরকার সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাসের ধারা বাদ দিয়েছে। আমি প্রতিবাদ করলে তারা জানিয়েছে যে, নাস্তিকদের চাপে তারা এটা করতে বাধ্য হয়েছে; কিন্তু রাষ্ট্র ধর্ম ইসলামকে বাদ দিতে আমি দেই নাই। এরশাদ আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশে মসজিদে মাইকে আযান দেয়া নিষিদ্ধ হবে। ইসলাম বিরোধী অনেক কাজ শুরু হবে। বর্তমান আওয়ামী সরকারের জনসমর্থন ১০ ভাগও নেই। সর্বদলীয় সরকার গঠন হলে তাতে আমার দলের লোকও থাকবে। আমি পূর্ণ আশাবাদী ইনশাআল্লাহ নির্বাচনে আমরা জিতে সরকার গঠন করতে পারব।

বৈঠক শেষে তাত্ক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, এরশাদ সাহেব হুজুরের (আল্লামা শাহ আহমেদ শফী) দোয়া নিতে এসেছিলেন। তাকে আমাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্টভাবে ধারণা দেয়া হয়েছে। আমরা তাকে বলেছি, হেফাজত কোনো দল বা জোটকে সমর্থন করবে না।

এদিকে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী ইত্তেফাককে বলেন, এরশাদ তার দুইজন প্রেসিডিয়াম সদস্য দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছেন। এরশাদ তার পূর্ববর্তী বক্তব্য থেকে সরে এসে নির্বাচন করলে দেশবাসীর নিকট দালাল হিসেবে চিহ্নিত হবেন। নাস্তিকদের পক্ষাবলম্বনের জন্য জনগণের নিকট তাকে জবাবদিহি করতে হবে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here