রাজনৈতিক সমঝোতার অপেক্ষায় এখনো তাকিয়ে আছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যে কারণে তফসিল ঘোষণায় কিছুটা বিলম্ব করছে তারা। একতরফা নির্বাচনে ইসি যেমন আগ্রহী নয়, তেমনি সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করাও দুরূহ মনে করছে তারা। এ রকম বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতির কাছে সাক্ষাতের অনুমতি চাইবে কমিশন। যদিও ইসির দাবি নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি অবহিত করতেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত্ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ সাক্ষাত্ অনুষ্ঠিত হতে পারে। কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সমঝোতার ব্যাপারে গতকালও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় নির্বাচনের বিকল্প নেই। সব দলের অংশগ্রহণেই আগামীতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইসি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই মুহূর্তে তফসিল ঘোষণা করে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী রাজনৈতিক জোটের মধ্যে সমঝোতার পথ রুদ্ধ করতে চায় না কমিশন। কমিশন বিশ্বাস করে শেষ মুহূর্তে হলেও প্রধান বিরোধী দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যে সমঝোতা হবে। এছাড়া দশম সংসদের নির্বাচিত এমপিদের শপথ গ্রহণের সময়েও সাংবিধানিক জটিলতা সৃষ্টির আশংকা রয়েছে।

সংবিধানের ১২৩ (৩) (ক) অনুচ্ছেদ অর্থাত্ সংসদের মেয়াদের শেষ ৯০ দিনের একেবারে শেষভাগে (২৪ জানুয়ারির পূর্ববর্তী সপ্তাহে) নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

এদিকে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশিত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে স্পিকার শপথ পড়াতে ব্যর্থ হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়াবেন। তফসিল ঘোষণার ক্ষেত্রে এ বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে চায় ইসি। তারা বলছেন, একই সময়ে পুরনো ৩০০ ও নব-নির্বাচিত ৩০০ এমপি কার্যভার গ্রহণের বিষয়টি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এসব বাস্তবতায় নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৬ জানুয়ারি অথবা ১৮ জানুয়ারি ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণের কথা ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের পরিবর্তে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বিশেষ করে ১ অথবা ২ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনাররা তফসিল ঘোষণার আগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কমিশন সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিককে আজকালের মধ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

সংক্ষিপ্ত সময়ে সেনা চাইবে ইসি

তফসিল ঘোষণার পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী নির্বাচনে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের আবেদন করবে কমিশন। কমিশন রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে নির্বাচনে আগে এবং পরে সবমিলিয়ে ৫ দিনের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়নের বিষয়ে অনুরোধ করবে। কমিশন বলছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্রবাহিনী অন্তর্ভুক্ত না থাকায় সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সেনাবাহিনী মোতায়েনের আবেদন জানাবে।

এদিকে তফসিল ঘোষণার আগে বিগত সংসদ নির্বাচনগুলোর বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে ইসি। এরই অংশ হিসেবে বিগত ৯টি নির্বাচনের বিষয়ে তারা একটি খতিয়ান তৈরি করেছে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here