pm

Reportপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কর্মতত্পরতায় এ খাতে বাংলাদেশ এক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে, যা বিশ্বের অনেক দেশকে বিস্মিত করেছে। পারমাণবিক ও বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানিসহ বহুমখুখী বিদ্যুৎ উৎসের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ এখন বিদ্যুৎ পাচ্ছে। সব বাড়িতে বিদ্যুতের আলো জ্বলতে আর বেশি সময় লাগবে না।
বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় পরিদর্শন ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তার প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও তাদের কর্মতত্পরতা জোরদার করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়গুলো পরিদর্শনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো এ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয়টির ইতিমধ্যে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
শেখ হাসিনা বলেন, এ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের কঠোর পরিশ্রমের কারণে মাত্র ছয় বছরে বিদ্যুতের উত্পাদন তিন হাজার মেগাওয়াট থেকে ১৩ হাজার ২৬৫ মেগাওয়াটে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের যে বিশাল সমুদ্র সীমা অর্জিত হয়েছে সেখানে গ্যাসের পাশাপাশি তেল পাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। আর এজন্য অনুসন্ধান কার্যক্রম আরো জোরালো করতে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেন তিনি।
বৈঠকে গ্রাম পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, গ্রামে বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়লে শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরি হবে, মানুষের কর্মসংস্থান হবে। সর্বোপরি শক্তিশালী হবে দেশের সামগ্রী অর্থনীতি। গত ছয় বছরে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অগ্রগতি আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে কিভাবে ভূমিকা রেখেছে তার বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যেই মানুষের জীবনমান অনেক উন্নত হয়েছে। কারণ আমরা প্রত্যেকটা পদক্ষেপ নিয়েছি এক একটা লক্ষ্য ঠিক করে। আগে মানুষের ভাত ও ঘরের চাহিদাই মুখ্য থাকলেও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে এখন বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। চাহিদাটা কিন্তু এখন বদলে গেছে। অর্থাত্ তার জীবনটা আস্তে আস্তে উন্নত হচ্ছে। এখানেই তো স্যাটিসফেকশন। তবে  দেশবাসীর জন্য আরো অনেক কাজ এখনো বাকি আছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত অবরোধ-হরতালের নামে তিনমাস ধরে নারী-শিশু, অন্তঃসত্ত্বা মহিলাসহ নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা ও দেশের সম্পদ ধ্বংস করেছে। সরকারি অফিস-আদালতের সাথে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রও। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ইঞ্জিনিয়ারদেরও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে। এটা সত্যিই দুর্ভাগ্য ও দুঃখজনক ঘটনা। সত্যিকারের কোন রাজনীতিবিদ যার দেশের জন্য এতটুকু ভালবাসা আছে, দরদ আছে, মায়া আছে বা দেশের স্বার্থের জন্য যে রাজনীতি করে সে কখনোই এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড করতে পারেন না।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here