রপ্তানির অশুল্ক বাধা কাটাতে কেমিক্যাল মেট্রোলজির অবকাঠামোর সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। ফলে খাদ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের রাসায়নিক পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়বে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরীক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে নেটওয়ার্ক স্থাপন করা সম্ভব হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে যেকোনো পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শিল্প ও গবেষণা পরিষদের দেওয়া পরীক্ষা সনদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। এজন্য ‘কেমিক্যাল মেট্রোলজি অবকাঠামো সমৃদ্ধকরণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১৩৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ৬ হাজার ২২৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) ৫ হাজার ৪২১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল হতে ৬৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য আকারে ৭৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রকল্পগুলোর বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

মন্ত্রী জানান, কেমিক্যাল মেট্রোলজি অবকাঠামো সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, পণ্য উত্পাদন, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, পরিবেশ, বাণিজ্য, গবেষণা, জলবায়ু পরিবর্তনসহ রপ্তানির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা দূর করা সম্ভব হবে। ফলে বাংলাদেশি পণ্যের বিদেশি বাজারের প্রবেশের পথ সুগম করা এবং উন্মুক্ত বাজার প্রতিযোগিতায় দেশীয় পণ্যের টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করা সম্ভব হবে। এছাড়া একই বিষয়ে বিভিন্ন পরীক্ষণাগারের পরীক্ষণের ফলাফলের ভিন্নতা দূর করে দেশের পরীক্ষণাগারগুলোর পরীক্ষণের মান আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করা হবে। যে ১৩টি উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে এগুলো হলো-কুমিল্লা সদর উপজেলা, চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম ও বুড়িচং উপজেলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলা, আশুগঞ্জ ও সরাইল উপজেলা, চাঁদপুর জেলার চাঁদপুর সদর উপজেলা, নোয়াখালী জেলার মাইজদি উপজেলা, বেগমগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা, ফেনী জেলার ফেনী সদর উপজেলা এবং লক্ষ্মীপুর জেলার লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা।

একনেকে অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পসমূহ হলো- পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার গাজনার বিলের সংযোগ নদী খনন, সেচ সুবিধার উন্নয়ন এবং মত্স্য চাষ (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কক্সবাজার জেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদী বরাবর পোল্ডারগুলোর পুনর্বাসন প্রকল্প, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশে মসলা জাতীয় ফসলের গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্প, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩য় পর্যায়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে মরজাল-বেলাব সড়ক ও পোড়াদিয়া-বেলাব জেলা মহাসড়ক দুটি যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প। বগুড়া শহর থেকে মেডিক্যাল কলেজ পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প, জিএমডিএসএস এবং ইন্টিগ্রেটেড মেরিটাইম নেভিগেশন সিস্টেম স্থাপন প্রকল্প (১ম সংশোধিত), গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প, ইন্ট্রোডাকশন অব মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) এবং মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) ইন বাংলাদেশ প্রকল্প (৩য় সংশোধিত), অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অধীনে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ বাস্তবায়ন (ভ্যাট অনলাইন)’ প্রকল্প (২য় সংশোধিত), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (২য় সংশোধিত), বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারকে শক্তিশালীকরণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প।

রোহিঙ্গাদের অবিলম্বে প্রত্যাবাসন শুরু করার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের অবিলম্বে প্রত্যাবাসন শুরু করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যাবাসন শুরু করুন…. এতে মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে।’

জাতিসংঘের নবনিযুক্ত আবাসিক সমন্বয়ক ও ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সংসদ ভবনস্থ কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাত্ করতে গেলে তিনি একথা বলেন।

 

সাক্ষাত্ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে চাপ সৃষ্টির জন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের প্রতি তাঁর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের মানবিক আচরণের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মাত্র তিন সপ্তাহে মিয়ানমারের বিপুল সংখ্যক মানুষের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের কথা জানতে পেরে তিনি বিস্মিত। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ব্যবস্থাপনার জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেন।

 

 

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here