রাজৈর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের আলমদস্তার গ্রামের রং মিস্ত্রি আ. রাজ্জাক শেখের দুই সন্তান ও এক বোন প্রতিবন্ধী। ৪০ বছর বয়সী বোন ইসমত আরা শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধী। বিছানাতেই যার জীবনযাপন। বড় মেয়ে শারমীন আক্তারের (২৪) একই দশা। ছোট মেয়ে আদুরী আক্তার (১৭) প্রতিবন্ধী জীবন কাটিয়ে বিনা চিকিত্সাতেই মারা যায় তিন বছর আগে। একমাত্র ছেলে আব্বাস শেখ (১৩) জন্মের পর ডান পা মোটা ছাড়া প্রায় স্বাভাবিকই ছিল। তার চিকিত্সায় বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক হাসপাতালে ঘুরেছেন। এখন তার ডান পাটি ফুলে আরো মোটা হয়েছে। তার সারা শরীর জুড়েই রয়েছে ছোট বড় অসংখ্য আঁচিল। বয়সের চেয়ে শারীরিক গঠনও ক্ষীণ।

আব্বাসের বাবা রাজ্জাক শেখ বলেন, আমার দুই মেয়ে জন্ম থেকেই হাঁটতে পারেনি। বোনেরও একই অবস্থা। বিছানায় রেখেই ওদের লালন-পালন করেছি। চিকিত্সার জন্য দরকার টাকা-পয়সা। তা আমার নেই। তাই এখন সন্তানদের মৃত্যুর প্রহর গণনা ছাড়া উপায় নেই। আব্বাসের মা আল্পনা বেগম বলেন, সরকার যদি আমাগো সাহায্য করতে তাইলে আমাগো একমাত্র ছেলে আব্বাস মনে হয় সুস্থ হইয়া যাইতো।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার মণ্ডল বলেন, আব্বাস এ্যালিফেন্ট ডিজিজে আক্রান্ত। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বড় হাসপাতালে বিশেষ ধরনের অপারেশন ও ওষুধের মাধ্যমে এর চিকিত্সা সম্ভব। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আরো দুই জনের শারীরিক অবস্থা দেখাবো। ওদের চিকিত্সার ব্যাপারে কথা বলব। পৌরসভার মেয়র শামীম নেওয়াজ মুন্সী বলেন, সরকারিভাবে ওদের উন্নত চিকিত্সা প্রদানের ব্যবস্থা করা হলে ওরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। আর কেউ যদি এই অসহায় পরিবারটিকে সাহায্য করতে চান তাহলে আব্বাসের বাবা রাজ্জাক শেখের ০১৯৪৫৬০৫৩৯২ এই মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা গেল।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here