japannews

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে মোটেও ‘রাশভারী’ স্বভাবের স্বামী নন। যেসব স্বামী নিজে ভুল করে স্ত্রীর ওপর দোষ চাপান, তিনি তাদের মতোও নন। বরং নিজে ভুল করলে স্ত্রীর ধমক হজম করেন বিনা বাক্য ব্যয়ে। ঘরের নানা কাজ করেন নিজ হাতে। খাওয়ার পর থালাবাসন পরিস্কার করা এবং ময়লার ঝুড়ি বাইরে ফেলতে যাবার কাজও করেন অবলীলায়! আর স্ত্রীর বকাঝকার ভয়ে ঘরের যেখানকার জিনিস সেখানে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখেন তিনি। ঘরদোরও পরিস্কার করেন।

 

মনে হতে পারে জাপানের মতো ক্ষমতাধর দেশের প্রধানমন্ত্রী আবার এসব কাজ করেন নাকি! এসব কথা গুজব রটনাকারীদের বানানো। কিন্তু কথাগুলো গুজব রটনাকারীরা নয়, বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ফার্স্টলেডি আকি আবে নিজেই। সম্প্রতি টোকিওতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। আকি জানান, তার যখন অনেক ব্যস্ততা থাকে তখন স্বামী তাকে এভাবে সাহায্য করেন। আর জাপানি মেয়েদের এগিয়ে চলার জন্য এটুকু সমঝোতা দরকার বলে ফার্স্টলেডি মনে করেন। তিনি বলেন, ‘‘যখনই সুযোগ পান স্বামী আমাকে সংসারের কাজে সহায়তা করেন। অনেক সময় ভুল করে ‘বেচারা’ আমার কাছে বকাঝকাও খান। অনেক সময় দাঁত রাগে গজগজ করতে দেখেছি। তারপরেও শব্দ না করে সুবোধ বালকের মতো কাজ করে যান।’’

তিনি বলেন, নারীদের প্রতি তার স্বামীর কোনো সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নেই। স্ত্রীর ব্যস্ততাকে তিনি মোটেও খারাপ চোখে দেখেন না। বরং পুরুষের সমানতালে কাজ করার উত্সাহ যোগান। আকির মতে, পৃথিবীর অনেক দেশে মেয়েরা পুরুষদের সমানতালে কিংবা কখনো কখনো বেশি পরিশ্রম করেন। কিন্তু সমান সম্মান কিংবা পারিশ্রমিক তারা পায় না। নারীরা তাদের যোগ্য সম্মান না পেলে সেই সমাজ ‘আলোকিত’ হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে না থেকে বেশিরভাগ সময় নিজের বাড়িতে থাকেন আবে। তাই সরকারি কাজের লোকের ‘সার্ভিস’ পান না। একারণেই প্রায়শই নিজেদের কাজ নিজেদের করতে হয় তাদের। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও এবিসি নিউজের।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here