image_14015.index
জিয়ার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ায় ওয়াক আউট।

জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে যোগ দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা তুলে ধরেছে বিএনপি।
বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের নেতৃত্বে বিএনপি ও শরিক দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশনে যোগ দেন। এর আগে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের রুমে বৈঠক করেন।
মাগরিবের নামাজের বিরতির পর সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা সংসদে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান সংবিধানের আলোকে নির্বাচন করলে বেশ কিছু সাংবিধানিক জটিলতা সৃষ্টি হবে। তিনি সাবেক উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাবনা স্পিকারের মাধ্যমে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করেন।
ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার এ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনার জন্য পেশ করে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়া ও সংসদ সদস্যপের পক্ষে প্রস্তাব রাখছি যে, আলোচনার মাধ্যমে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায় সরকারের বিষয়টি সুরাহার হওয়া দরকার। এ বিষয়ে যত দ্রুত সমাধান হয়, ততই মঙ্গল।
খালেদা জিয়ার ওই প্রস্তাব মতে জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দুটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। ওই সরকারের উপদেষ্টারা তাদের নিরপেক্ষতার জন্য সকল মহলে প্রশংসিত হয়েছিলেন। ওই দুটি নির্বাচনের একটিতে আওয়ামী লীগ এবং একটিতে বিএনপি বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে।
এই দুই সরকারের ২০ উপদেষ্টার মধ্য থেকে বর্তমাননে সরকারি দল পাঁচজন এবং বিরোধী দল পাঁচজনের নাম প্রস্তাব করবে। তারা আসন্ন নির্বাচনকালীন সরকারের উপদেষ্টা হবেন। আর সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিকে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন সম্মানিত নাগরিককে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নির্ধারণ করা হবে। জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, আশা করি দেশের শান্তি ও স্থিতিশিলতার জন্য, গণতন্ত্রের স্বার্থে এই প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করবেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ ভেঙে দেয়ার আগে প্রয়োজনে ওই অন্তর্র্বতী সরকারকে নির্বাচিত করে দিতে পারে। সংসদ যেভাবে রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্যদের নির্বাচিত করেন, ওই উপদেষ্টাদেরও সেভাবে নির্বাচিত করা হবে।
একতরফা নির্বাচন করলে দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হবে উল্লেখ করে জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমেই গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখা সম্ভব।
তবে জমিরউদ্দিন সরকারের এই প্রস্তাবের পরে আওয়ামী লীগের সিনিয়র সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিরোধী দল এই প্রস্তাবটি যদি পয়েন্ট অব অর্ডারে না এনে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী সুনর্দিষ্টভাবে প্রস্তাব দেয়, তাহলে এটির ওপর সংসদে আলোচনা হতে পারে।
পরে বিএনপির সিনিয়র সংসদ সদস্য এমকে আনোয়ার ফ্লোর নিয়ে বলেন. দেশে এখন সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আগামী নির্বাচন নিয়ে এই সংকট নিরসন করতে হলে দুদলকে আলোচনা করতে হবে। আলোচনা হবে সংসদের বাইরে। এরপর তা সংসদে এনে উত্থাপন করা হতে পারে। তিনি বিএনপির নির্বাচনকালীন সরকারের রুপরেখা প্রধানমন্ত্রীকে বিবেচনার আনুরোধ জানান। এ পর্যায়ে সরকারি দলের সিনিয়র সংসদ সদস্য শেখ ফঝরুল করিম সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগ সংবিধান সংশোধন করতে বাধ্য হয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তিনি জিয়াউর রহমানের শাসনামলকে অবৈধ বলে আদালতের রায় উল্লখ করলে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের নেতৃত্বে বিএনপি সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here