জনতার নিউজ

লংকায় টাইগারদের লংকাকাণ্ড!

এ তো লঙ্কাকাণ্ডই! যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারত না বাংলাদেশ, তাদের বিপক্ষে টানা দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয়! শততম টেস্টের পর প্রথম ওয়ানডে। দুই ইনিংস মিলিয়ে আজ খেলা হলো মোট ৯৫.১ ওভার। একবারের জন্যও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ব্যাটে-বলে ছিল টাইগারদের দাপট। ৩২৫ রানের পাহাড়সম টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে ২৩৪ রানেই থামল স্বাগতিকরা। ৯০ রানের বড় জয় পেল মাশরাফি বাহিনী। এর আগে সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে গিয়ে প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিল টিম টাইগার।

লঙ্কানদের ইনিংসে বল হাতে আঘাতের শুরু করেন চোট কাটিয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা অধিনায়ক মাশরাফি। ইনিংসের তৃতীয় বলেই দানুশকা গুনাথিলাকাকে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন ম্যাশ। ০ রানেই লঙ্কানদের প্রথম উইকেটের পতন ঘটে। ৬ষ্ঠ ওভারের শেষ বলে সাফল্য পান মিরাজ। তার বলে বদলি ফিল্ডার শুভাগত হোমের তালুবন্দী হন কুশল মেন্ডিস (৪)। এটি অভিষিক্ত মিরাজের প্রথম ওয়ানডে উইকেট। মিরাজের পর আক্রমণে এসেই ওভারের শেষ বলে লঙ্কান দলপতি উপুল থারাঙ্গাকে (১৯) মাশরাফির ক্যাচে পরিণত করেন স্পিডস্টার তাসকিন।

দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কাকে পথ দেখাচ্ছিল দিনেশ চান্দিমাল এবং অ্যাশলে গুনারত্নের ৫৬ রানের জুটি। শেষ পর্যন্ত বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান গুনারত্নেকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন। ৬২ বলে ক্যরিয়ারের ২১তম হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন চান্দিমাল। ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে ওঠা লঙ্কান উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানকে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন মিরাজ। তার বলে উইকেটের পেছনে সৌম্য সরকারের দারুণ ক্যাচে পরিণত হন ৭০ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৫৯ রান করা চান্দিমাল।

চান্দিমালের বিদায়ের পর হাত খুলে মারতে শুরু করেছিলেন মিলিন্দা শ্রীবর্ধনা। তাকে ব্যাক্তিগত ২২ রানে শুভাগত হোমের ক্যাচে পরিণত করে প্রথম শিকার ধরেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। আউট হওয়ার আগের বলে বিশাল এক ছক্কা হাঁকান তিনি। এরপর পাথিরানাকে (৩১) মাহমুদ উল্লাহর ক্যাচে পরিণত করে দ্বিতীয় শিকার করেন মাশরাফি। লাকমলকে (৮) সাব্বিরের তালুবন্দী করে নিজের দ্বিতীয় শিকার করেন কাটার মাস্টার। ৮ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে দাপট দেখিয়ে ২৮ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি করেন থিসারা পেরেরা। তবে এতে টাইগারদের জয় আটকানো যায়নি। লঙ্কানদের লেজটা ছেঁটে দেন মেহেদী মিরাজ আর মুস্তাফিজ। কাটার মাস্টারের বলে ৫৫ রান করা পেরেরা মাহমুদ উল্লাহর ক্যাচ পরিণত হন। এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। ২টি করে মাশরাফি, মিরাজ এবং ১টি করে উইকেট নেন তাসকিন এবং সাকিব।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে তামিম ইকবালের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভর করে ৫ উইকেটে ৩২৪ রানের পাহাড় গড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় উইকেটে ৯০ রানের দারুণ জুটি গড়েন তামিম-সাব্বির। ৫৬ বলে ১০ বাউন্ডারিতে ৫৪ রান করেন সাব্বির। এরপর বন্ধু তামিমের সঙ্গে ৪র্থ উইকেটে ১৪৪ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়েন সাকিব। স্বভাবিরুদ্ধ ধীরগতির ব্যাটিং করে ১২৭ বলে ১২ বাউন্ডারিতে তামিম পূরণ করেন ক্যারিয়ারের ৮ম সেঞ্চুরি। অবশেষে ১৪২ বলে আরও ৩টি বাউন্ডারি এবং ১ ছক্কায় ১২৭ রানে শেষ হয় তার এই অসাধারণ ইনিংস।

ওভার কমে আসায় বলের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে আউট হন সাকিব। ৭১ বলে ৪টি বাউন্ডারি এবং ১টি ওভার বাউন্ডারিতে ৭২ রান করে আউট হন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এরপর ধামাকা ব্যাটিংয়ে রিয়াদ এবং মোসাদ্দেকের ১৩ বলে ৩৫ রানের ঝড়ো জুটিতে বড় সংগ্রহ পায় টাইগাররা। মোসাদ্দেক ৯ বলে ৩ চার এবং ১ ছক্কায় ২৪ আর মাহমুদ উল্লাহ ৭ বলে ১ ছক্কায় ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here