আহত শতাধিক
আজ সব কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত বিজেএমইএ’র
image_85437
সাভারের আশুলিয়া এলাকার সব পোশাক কারখানা আজ বুধবার নিরাপত্তার কারণে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিকপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনে আশুলিয়া এলাকার পোশাক কারখানার মালিকরা এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মজুরি বোর্ড ঘোষিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে গতকাল বিক্ষোভ চলাকালে শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষে আশুলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার পর মালিকদের তরফে এ সিদ্ধান্ত এলো। সেখানে ২৫০টি পোশাক কারখানা আছে।

বিজিএমইএতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংগঠনের সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদসহ আশুলিয়া এলাকার শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে আব্দুস সালাম মুর্শেদী টেলিফোনে ইত্তেফাককে বলেন, টানা শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার স্বার্থে আশুলিয়া এলাকার কারখানা আজ (বুধবার) বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ আবার বৈঠক করে পরবর্তী কর্মপন্থা ঠিক করা হবে। এদিকে সাভার থেকে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার তুহিন খান জানান, মজুরি বোর্ড ঘোষিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই শ্রমিকরা এই দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভ কর্মসূচির পর ভাংচুর শুরু হলে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে শ্রমিক, পুলিশ, পথচারী, সাংবাদিকহ শতাধিক আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সকালেই দুই শতাধিক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, আইন-শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে টহল দিচ্ছে। পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল আটটার দিকে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার রেডিয়েন্স, মাসকট, সাউদার্ন, পি-কার্ড বাংলাদেশ লিঃ, জামগড়া এলাকার দি রোজ, গ্রীন লাইন, সরকার মার্কেট এলাকার সেতারা ও ডেনিম নীট ওয়্যার গার্মেন্টেস, কাঠগড়া আমতলা বাজার এলাকার আজমত ও ডেকো গ্রুপ, ম্যাগপাই ও কন্টিনেন্টাল কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের সমর্থনে পুকুরপাড়, নরসিংহপুর, শিমুলতলা, পলাশবাড়ি, ইউনিক, জিরানি বাজারসহ গোটা এলাকার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসে। তারা অবিলম্বে মজুরি বোর্ড ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের দাবি জানাতে থাকেন। বিক্ষোভের কর্মসূচির এক পর্যায়ে ভাংচুর শুরু হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বাইপাইল-টঙ্গী সড়ক, নবিনগর-কালিয়াকৈর সড়ক, সরকার মার্কেটসহ বিভিন্ন স্পটে অবস্থান নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ছুঁড়তে তাকে। পুলিশ শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণে সাজোয়া যান ব্যবহার করে। একই সঙ্গে লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শ্রমিকদের দাবি না মানায় প্রতিদিনই এ অঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভ চলছে। গতকালও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে নাশকতা করতে চাইলে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করার পাশাপশি পুলিশের জলকামান, রায়ট কার, সাজোয়া যানের টহল অব্যাহত রয়েছে।

কালিয়াকৈরে ভাংচুরের মুখে ৮ কারখানা বন্ধ

আমাদের কালিয়াকৈর (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিক্ষোভ মিছিল ও কয়েকটি কারখানা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই অবস্থায় ৮টি পোশাক কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়। কারখানাগুলোর নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার চন্দ্রা এলাকার শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল ও কয়েকটি কারখানা ভাংচুর করে। শিল্প ও থানা পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here