J News

শেষ পর্যন্ত বিশ্বের সহানুভূতি আদায় করল ছোট্ট আয়লান

শরণার্থী প্রশ্নে শেষ পর্যন্ত বিশ্বের সহানুভূতি আদায় করল ছোট্ট আয়লান। তুরস্কের সমুদ্র সৈকতে তার নিথর দেহের ছবি ঘিরে তর্কে উত্তাল হল ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

তুরস্কের মর্গ থেকে বেরিয়ে ভেঙে পড়লেন আবদুল্লা কুর্দি। একই সঙ্গে স্ত্রী রেহান ও দুই শিশুপুত্র গ্যালিপ ও আয়লানের দেহ শনাক্ত করার পর চোখের জল বাধ মানছিল না সিরিয়ার হতভাগ্য শরণার্থীর। উপস্থিত সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে তাঁর আর্জি, ‘যুদ্ধ থেকে বাঁচতে ভিনদেশে আশ্রয় নিতে এসে আমাদের কী অবস্থা হয়েছে তা গোটা বিশ্ব দেখুক। সকলে মিলে চেষ্টা করলে হয়তো এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। এটাই যেন শেষ মৃত্যু হয়’।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়া ছেড়ে পালাচ্ছেন কাতারে কাতারে মানুষ। আশ্রয়ের জন্য তাঁরা কেউ পৌঁছাতে চাইছেন ফ্রান্স, কেউ জার্মানি, কেউ বা সুদূর কানাডা। সেই উদ্দেশ্যে একের পর এক শরণার্থী বোঝাই নৌকা রুক্ষ ভুমধ্যসাগর পাড়ি দিচ্ছে। মাঝপথে নৌকাডুবি হয়ে মারা যাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।

হাঁটাপথে কিছু শরণার্থী আবার বলকান পর্বত পেরিয়েও ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করছেন। বহিরাগতদের ভিঁড় প্রথমেই আছড়ে পড়ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ব ও দক্ষিণ প্রান্তে। জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো কয়েকটি দেশ শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে তুলনায় কিছু উদার হলেও তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ঋণের ভারে ন্যুব্জ গ্রিস, ইতালি ও স্পেন। দেনার দায়ে তুবড়ে যাওয়া অর্থনীতি ও নড়বড়ে পরিকাঠামো নিয়ে উদ্বাস্তু সমস্যার মোকাবিলা করা যে অসম্ভব, স্পষ্টই তা জানিয়ে দিয়েছে ইউনিয়নের বেশ কিছু সদস্য দেশ।

শরণার্থী সমস্যা মোকাবিলা করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ইংল্যান্ড। গত ৪ বছর ধরে যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার মোট ৫০০০ উদ্বাস্তুকে আশ্রয় দিয়েছে ব্রিটেন। কিন্তু সম্প্রতি টিভি সাক্ষাত্কাসরে বিতর্কিত মন্তব্য করে ঘরে-বাইরে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।

শরণার্থীদের বাধ্যতামূলক আশ্রয়দানের ইউরোপীয় ইউনিয়ন নীতির বিরোধিতায় তিনি জানিয়েছেন, ‘শুধু মানুষকে ঠাঁই দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না’।

ক্যামেরনের তীব্র নিন্দা করে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নিকোলা ব্ল্যাকউড টুইট করেছেন, ‘মানবিকতার পরীক্ষায় ব্যর্থ প্রজন্ম হিসাবে আমরা চিহ্নিত হতে চাই না। আমাদের যথাসম্ভব চেষ্টা করতে হবে’।

একদিকে লাগাতার যুদ্ধের জেরে আতঙ্কে অস্থির মানুষ ভিটেমাটি ছেড়ে পাড়ি দিচ্ছেন অজানা ভবিষ্যতের দিকে। অন্যদিকে উদ্বাস্তুদের প্রতি চরম উদাসীনতায় সামিল ইউরোপের অধিকাংশ অঞ্চল। দুই বিষম মনোভাবের মাঝে মানবিকতার খেয়ায় পাল তুলেছে ৩ বছরের আয়লান কুর্দির মৃত্যু। নিষ্পাপ শিশুর প্রাণহানি আশ্রয়দাতাদের পাষাণ হৃদয়ে যে আবেগের ঝড় তুলেছে, আপাতত তার উপরেই ভরসা রাখতে বাধ্য হচ্ছেন ঠাঁইনাড়া সিরীয়রা।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here