g1news

৯২ বছর বয়সে বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকালে অবস্থার অবনতি ঘটলে রাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এরপরপরই তার মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
এর মধ্যে রাত পৌনে ১২টার দিকে হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল মজিদ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের সামনে এসে জামায়াত নেতার মৃত্যুর ঘোষণা দেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে গোলাম আযমের মৃত্যু হয়।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের হেফাজতে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন জামায়াত নেতা।
ঢাকার জেলার মো. নেছার আলম সাংবাদিকদের বলেন, “গোলাম আযমের লাশ এখন আমাদের হাতে আছে। সকালে কারা কর্তৃপক্ষ চিঠির মাধ্যমে তার আত্মীয়-স্বজনকে জানাবে। এরপর একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।”
সুরতহাল শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্তের পর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।
বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণগোপাল এর আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, একটি স্ট্রোক হওয়ার পর জামায়াত নেতাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
গোলাম আযমের ছেলে আব্দুল্লাহিল আমান আযমী রাত সোয়া ১১টার দিকে দেখে এসে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “মনে হল, আমার বাবা আর নাই। নিস্তেজ অবস্থায় আছেন। তবে তার মৃত্যুর বিষয়ে ডাক্তাররা এখনও আমাকে কিছু জানায়নি।”
মুক্তিযুদ্ধকালে জামায়াতের আমির বিচারাধীন অবস্থা থেকে এই হাসপাতালে প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন। গত বছর ১৫ জুলাই যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায়ের পরও এখানেই ছিলেন তিনি।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে প্রসিকিউশন ও আসামি পক্ষের আপিলের শুনানির দিন ঠিক হওয়ার একদিন পর গোলাম আযমের অবস্থার অবনতি ঘটার খবর আসে।
হাসপাতালের পরিচালক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “বিকালে তার প্রেসার কমে যায়। এ কারণে ওষুধ দিয়ে প্রেসার স্বাভাবিক রাখা হয়। এক কথায় ওষুধ দিয়ে টিকিয়ে রাখা হয়েছে তাকে।”
বিকাল থেকেই গোলাম আযমের কথা বলায় জড়তা দেখা দেয় বলে মজিদ ভূইয়া জানান।
জিয়ার আমলের মন্ত্রী আব্দুল আলীমেরও যুদ্ধাপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছিল। কারাভোগ করা অবস্থায়ই কয়েকমাস আগে মৃত্যু হয় তার।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here