দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় সব ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শুল্ক-কর আগামী জুন পর্যন্ত যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ইউটিলিটি (গ্যাস, পানি, বিদ্যুত্) বিল বকেয়া থাকলে ওই লাইন বিচ্ছিন্ন না করার অনুরোধ জানায় সংগঠনটি।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ দুটিসহ কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে আজ রোববার দুপুরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো স্মারকলিপি আকারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জরুরি ভিত্তিতে উপস্থাপন করবে এফবিসিসিআই।

এফবিসিসিআইয়ের পর্ষদ সভায় বলা হয়, রাজনীতিবিদেরা তাঁদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য যেমন সমতার ক্ষেত্র (লেভেল-প্লেয়িং ফিল্ড) চান, তেমনি ব্যবসায়ীরাও তাঁদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য সুষ্ঠু ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের নিশ্চয়তা চান।

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় সংগঠনের দুই সহসভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী ও হেলাল উদ্দিনসহ পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।

পর্ষদ সভায় ব্যাংক ঋণের সুদের স্প্রেড (আমানত ও ঋণদানের সুদের পার্থক্য) ৩ শতাংশে নামিয়ে আনতে সরকারের কাছে দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে কমপক্ষে আগামী দুই বছর শূন্য মার্জিনে এলসি খোলার সুবিধা দেওয়া, সব শিল্পের মেয়াদি ঋণে ১৫ বছর এবং চলতি মূলধন ঋণে ১০ বছর মেয়াদি পুনঃতফসিলের সুবিধা দেওয়ার দাবিও জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ পুনঃতফসিল, এককালীন জমা বা ডাউন পেমেন্ট দেওয়া থেকে সুদ স্থগিতসহ সব ক্ষেত্রেই নমনীয় হতে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

১৮ ডিসেম্বর জারি হওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্দেশনায় বলা হয়, এসএমই খাতে দেওয়া ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে এককালীন জমার বিষয়টি ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিবেচনা করা, অশ্রেণীকৃত ঋণ (স্ট্যান্ডার্ড ও এসএমএ) পুনর্গঠনের মেয়াদকাল যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ, প্রয়োজনে ঋণের সুদ স্থগিত বা ব্লক হিসাবে স্থানান্তর এবং সুদ হার নির্ধারণে নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এসব সুবিধা বলবত্ থাকবে।

এফবিসিসিআইয়ের পর্ষদ সভায় সব খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও রপ্তানিকারকদের ঋণের ক্ষেত্রেও এ সুবিধা দেওয়ার দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here