রসিদ নম্বর ১৬৭০০৮। বই নম্বর ৪১৮। বিবরণ—সোনারগাঁও আবাসিক প্রকল্প। পরিমাণ—১০ হাজার টাকা। খাত—কিশোরকণ্ঠ বৃত্তি।’ এভাবে একটি রেজিস্টারি বইয়ে খাতওয়ারি টাকা উত্তোলন ও ব্যয়ের যাবতীয় হিসাব-নিকাশ সংরক্ষিত। আর্থিক ব্যয়ের যথারীতি অডিটও করা রয়েছে।
২০০৭ সালের জুন থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছরের আর্থিক লেনদেনের হিসাব সংরক্ষিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার নগরের দর্শনদেউড়ির পায়রা আবাসিক এলাকার একটি মেসবাড়ি থেকে এসব উদ্ধার করা হয়। পায়রা আবাসিক এলাকার ৮২ নম্বর বাসার তৃতীয় তলার কয়েকটি কক্ষ শিবিরের মেসবাড়ি হিসেবে পরিচিত ছিল।
পুলিশ দাবি করছে, মেসবাড়িতে সংরক্ষিত আর্থিক লেনদেনের হিসাবপত্রের মধ্যে ছাত্রশিবিরের নাশকতা সৃষ্টির আর্থিক জোগানদাতার তালিকাও পাওয়া গেছে। যার উৎস, ব্যয় ও স্থিতি— সবই রেজিস্টারি খাতায় ছক আকারে সংরক্ষিত রয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ আয়ুব জানান, গত দুই দিনের হরতালে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা নগরে চোরাগোপ্তা হামলার মাধ্যমে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে পায়রা-৮২ নম্বর বাসা থেকে এসব নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়। এমন খবরে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে বাসা থেকে ছাত্রশিবিরের বিপুল পরিমাণ সাংগঠনিক কাগজপত্র, আয়-ব্যয়ের হিসাবের খাতা, অর্থের জোগানদাতাদের তালিকা, ছবি, লিফলেট, কর্মপরিকল্পনার বই ও সিডি উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানকালে বাসায় কাউকে পাওয়া যায়নি।
সিলেট কোতোয়ালি থানার সহকারী কমিশনার (এসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন মো. সামি  বলেন, ‘শুধু আর্থিক হিসাব-নিকাশের এমন ছক দেখে আমরা অবাক হয়েছি। যেহেতু জামায়াত-শিবির নাশকতার তৎপরতায় সক্রিয়, তাই তাদের আর্থিক জোগানদাতারাও নাশকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারেন। এতে অন্তত গত পাঁচ বছরে কোটি টাকার আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষিত রয়েছে। এখান থেকে আর্থিক জোগানদাতার নামও বের করা হবে।’
পায়রা আবাসিক এলাকার মেসবাড়ির চারটি কক্ষ মহানগর শিবিরের কার্যালয় হিসেবে উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে শিবির দাবি করেছে, পুলিশ তালাবদ্ধ কক্ষগুলো থেকে লুটপাটও করেছে। কার্যালয়ে থাকা কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, বইপত্রসহ প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার জিনিসপত্র পুলিশ নিয়ে যায়। বিবৃতিতে মহানগর শিবিরের সভাপতি আনোয়ারুল ওয়াদুদ, সেক্রেটারি আবদুর রাজ্জাক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাশুক আহমদ নিন্দা জানিয়ে বলেন, পুলিশের অতি উৎসাহী ভূমিকা নাগরিক জীবনে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ প্রশাসনের মনে রাখা উচিত, এক মাঘে শীত যায় না।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here