জনতার নিউজঃ

 

‘শিক্ষককে উঠবসের ঘটনায় দায় এড়াতে পারেন না এমপি’

নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশে কান ধরে উঠবসের ঘটনার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তবে জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকার চিফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) শেখ হাফিজুর রহমান এই তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিও ফুটেজটি পর্যালোচনা করে এটাই প্রতীয়মান হয় শিক্ষক কোন অবস্থায় স্বেচ্ছায় কান ধরে উঠবস করেননি। বরং এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশেই তিনি তা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ফলে এমপি কোনভাবেই দায় এড়াতে পারেননা।

৬৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুল ছাত্র রিফাত হাসানকে শিক্ষক শ্যামল কান্তি উপর্যুপরি মারধর করেছেন। অন্যদিকে স্কুল কমিটির সভা চলাকালে জনৈক শামসুল হকের পুত্র অপুর নেতৃত্বে ১০/১২ জন লোক সভাকক্ষে প্রবেশ করে শ্যামল কান্তিকে মারধরের সত্যতা পাওয়া গেছে। উক্ত শিক্ষক ইসলাম ধর্ম ও আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন এমন দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। শ্যামল কান্তিকে গাল ও কান জড়িয়ে এমপি কর্তৃক চারটি থাপ্পর মারার দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭১ টিভির ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় শিক্ষক শ্যামল কান্তি দুই হাতে দুই কান ধরে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তার একটু সামনে ডান দিকে এমপি সেলিম ওসমান আঙ্গুলের ইশারা করে দাঁড়িয়ে আছেন। শিক্ষক কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকলেও উঠবস করতে চাচ্ছিলেন না। এমপি ডান হাত উঠানামা করে তাকে বসার নির্দেশ প্রদান করেছেন। শিক্ষক ছয় সেকেন্ড কান ধরে দাঁড়িয়েছিলেন। এমপি পরপর দুইবার হাত উঁচিয়ে তাকে বসার নির্দেশ দেন। পাঁচবার উঠবস করার পর শিক্ষক মাটিতে পড়ে যান। কয়েকজন লোক তাকে ধরে উঠায় এ পর্যায়ে এমপি হাত জোর করে ক্ষমা চাইতে বলেন।

শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে ‘কান ধরে উঠ-বস’ করানোর ঘটনায় পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন নাকচ করে দিয়ে গত ১০ আগস্ট ওই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন। ওই নির্দেশের পরই ঢাকার সিএমএম তদন্ত কাজ সম্পাদনে মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম নবী ও মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলামকে সহযোগী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করেন। এরপর প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিবেদন এবং সরেজমিনে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করে তদন্ত কমিটি। প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা করে বৃহস্পতিবার এফিডেভিট আকারে হাইকোর্টে দাখিল করেন।

এ প্রসঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করেছে কমিটি। রবিবার এ প্রতিবেদনের ওপর বিস্তারিত শুনানি হবে।

ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গত ১৩ মে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে লাঞ্জনার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট গত ১৮মে স্বত:প্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here