১৯৭৫ সাল। ধানমন্ডি ৩২ এ রক্তাক্ত ইতিহাসের কালি মুছতে না মুছতে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহাসিক বাড়ি শামচুজ্জোহার বাড়িতে একটি টেলিফোন আসলো। অপর প্রান্ত থেকে একটি কন্ঠ আমি খন্দকার মোসতাক। তোর স্বামীকে মন্ত্রীসভায় যোগ দিতে বল।

তখন এই প্রান্ত থেকে তার শামীম ওসমানের মা বলেছিলেন যদি আমার স্বামী মন্ত্রিসভায় যোগ দেয় তাহলে হয় তাকে আমি মারবো না হয় আমি নিজে মরবো। এমন পিতা ও মায়ের সন্তান শামীম ওসমান।

তার পিতা মৃত্যুর আগে সন্তানদের বলেছিলেন আমার তিন সন্তান যেন বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিশোধ নেয় এটাই আমার শেষ চাওয়া। বিয়ের নববধূ রেখে বড় ভাই তার মায়ের গহনা ও স্ত্রীর গহনা নিয়ে ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে ঘর ছেড়েছিল। এগুলো গল্প নয় শতভাগ সত্যি ইতিহাস।

আর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়লে বঙ্গবন্ধুর নিজের লেখা কিছু কথাও জানতে পারবেন।

যাই হোক গত কিছুদিন শামীম ওসমান ও সেলিনা হায়াত আইভির বিষয়টি নিয়ে বার বার নিউজ হচ্ছে; আলোচনা, সমালোচনা চলছে। শ্রদ্ধেয় আইভি রহমান একজন ডাক্তার পেশার মানুষ ছিলেন। তার বাবা ছিলেন আওয়ামী লীগের একজন সমৃদ্ধ নেতা। বাবার অনুসারী হয়ে তিনিও রাজনীতিতে আসেন। পৌর মেয়র হন দুবার।
এরপর মেয়র পদে সতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মেয়র পদে বিজয়ী হলেন।

আপনাদের মনে আছে নির্বাচনের আগের রাতে বিএনপি নেত্রী তাদের প্রার্থীকে জোর করে নির্বাচন থেকে বয়কট করিয়ে সব ভোট আইভিকে দেন? কিন্তু কেন?

কারণ বিএনপি নিশ্চিত ছিল বিএনপি জিততে পারবে না তাই জামায়াত ও বিএনপি এক হয়ে সব ভোট আইভিকে। দিলেন কাটা দিয়ে কাটা তুলতে।

কেন শামীম ওসমানকে আটকাতে বিএনপি নিজ দলের প্রার্থীকে জবাই করলেন? এর পিছনে ইতিহাস আছে।

ইতিহাস হল সেই তরুণ বয়সে যখন স্কুলে গোলাম আজমের বই পড়াচ্ছিলেন স্কুলের মাস্টার। তখন তার মাথা ফাটিয়েছিলেন এই গড ফাদার।

১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের গাড়ী আটকিয়েছিলেন এই গড ফাদার।

যুদ্ধাপরাধী রাজাকার আলিম চৌধুরী সহ সকল রাজাকার এমপি মন্ত্রীদের নারায়ণগঞ্জে আসা বন্ধ করেছিলেন এই গড ফাদার।

নিজামী মুজাহিদদের কখনওই ঢুকতে দেননি এই গড ফাদার। বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহর আটকিয়েছিলেন এই গড ফাদার।

ঢাকায় আওয়ামী লীগের জনসভা হলে এক থেকে দেড় লক্ষ লোকের মিছিল নিয়ে ঢাকার জনসভাকে সাফল্যমণ্ডিত করেন এই গড ফাদার। সারাদেশ জানে শামীম ওসমান একটা নাম, সংগ্রাম, সাহসের নাম।

প্রিয় সেলিনা হায়াত আইভি আপনি কথায় কথায় উদ্যত সুরে ওসমান পরিবার নিয়ে বাজে বকেন। কথায় কথায় শামীম ওসমানকে নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেন। একজন ডাক্তার হয়ে আপনার আচরণ হবে বিনম্র। অথচ আপনার উচ্চস্বরে কথা বলা বড়ই বেমানান।

আওয়ামী লীগ এক বড় যাদুর কাঠি। এখানে ঠিকঠাক থাকলে কেউ বার বার সমৃদ্ধ হয়। আবার যদি কখনওই পাকামি করে তা আস্তাকুড়ে নিবৃত্ত হয়।

শামীম ওসমানকে এই দেশের বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা প্রিয় সকলে ভালবাসে। শামীম ওসমানেরা পথ ঘাট পরিষ্কার করেছিলেন বলেই আপনি নারায়ণগঞ্জবাসীর মেয়র।
ভাল,মন্দ বুঝিনা। গড ফাদার,মাদার বুঝি না। আমরা বুঝি শামীম ওসমান শেখ হাসিনার বিপদের সময়ে পরীক্ষিত সেনা। তাই তাকে অন্ধের মতন শত কষ্টেও ভালবাসি। ভালবাসি এমন একজন গড ফাদারকে। আমি এমন গড ফাদার বারে বার হতে চাই।

শেয়ার করুন
  • 129
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here