জনতার নিউজ

3                            নীলিমা তন্ময়/ জননেতাঃ

দুইজন ব্যারিস্টার ও আরেকজনের পরিচয় তিনি কম্পিউটার বিজ্ঞানী। এদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট হয়তো আছে- কিন্তু বিএনপিতে এমন তিন নেতাও আছেন যারা নামের আগে ব্যারিস্টার, ডক্টর লাগালেও তিনজনের একজনাও সেই ডিগ্রি ধারী নন। তিন কন্যার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় তা ধরা না পড়লেও তিনজনাই উত্তরাধিকার সূত্রে রাজনীতিতে এসেছেন। রাজনীতি বললে নেহাত অন্যায় হবে- এসেছেন মিশন নিয়ে। তাঁদের তিনজনের বিশেষ মিশনে রয়েছে খুন, নাশকতা ও বিদেশী রাষ্ট্রের স্বার্থ উদ্ধার করা। ভয়ানক এই তিন নারীর একজন জেলখানায় থাকলেও কেন এখনো অপর দুইজন গ্রেফতার হচ্ছেন না- তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। হ্যাঁ, প্রতিবেদনে বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের কন্যা শামা ওবায়েদ, রাজনীতিক অলি আহাদের মেয়ে ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা ও বিএনপির সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কন্যা ব্যারিষ্টার শাকিলা ফারজানার কথাই বলা হচ্ছে।

কি করছেন তাঁরা? কি অপরাধ তাঁদের? এমন প্রশ্নের উত্তরে ইতোমধ্যে ফেঁসেছেন ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে পিতা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে কাজ করার ধারাবাহিকতায় একজন শাকিলা ফারজানাও । তিনি বিএনপির এই নেতার কন্যা।

সূত্রমতে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন তাঁর বাবা। বিএনপি নেতা ও বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম ’৭১ সালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ওরফে সাকা চৌধুরীর অন্যতম সহযোগী ছিলেন। আর সেই ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাও যেন যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যার কাজটিই করেছেন।

পিতা ওয়াহিদুল আলম ছিলেন পাকিস্তানের সহযোগী, আর মেয়ে শাকিলা ফারজানা ইসলামি জঙ্গিবাদী সশস্ত্র সংগঠন ‘শহীদ আল হামজা ব্রিগেড’-এর অন্যতম অর্থ জোগানদাতা হিসেবে কাজ করছেন। এ যেন যোগ্য পিতার যোগ্য উত্তরসূরি। সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের বিরুদ্ধেও যেমন মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল টিম তদন্ত করছেন, তেমনি তার মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার ব্যাপারেও র‌্যাব সদস্যরা তদন্ত করে ইসলামি জঙ্গিবাদী সংগঠন ‘শহীদ আল হামজা ব্রিগেড’-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছেন।

চট্ট্রগ্রাম নগরীর রহমতগঞ্জে গুডস হিলে সাকা চৌধুরীদের যে টর্চার সেল ছিল সেখানেই মুক্তিযোদ্ধা ও বাঙালি মুক্তিকামী নাগরিকদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করতেন সাকা চৌধুরী ও তার অন্যতম সহযোগী বিএনপি নেতা ওয়াহিদুল আলম। যুদ্ধাপরাধবিষয়ক ট্রাইব্যুনাল টিমের সদস্যদের কাছেসহ আদালতেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা ও নির্যাতিতরা। সাকা চৌধুরীদের গুডস হিলে নির্যাতনের শিকার প্রবীণ ব্যবসায়ী ওই মামলার অন্যতম সাক্ষী ম. ছলিমুল্লাহ এ প্রতিবেদকসহ ট্রাইব্যুনাল টিমের সদস্যদের কাছে সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।

এদিকে মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বর্তমানে বিএনপি চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এর মধ্যে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা দুই দফায় ৫২ লাখ টাকা শহীদ হামজা ব্রিগেডকে দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে- ব্যারিস্টার শাকিলা ঢাকায় সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশার আড়ালে তার অপর দুই সহযোগী আইনজীবীদের নিয়ে এই ইসলামি জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। যে সংগঠনটি জামায়াতে ইসলামী, শিবির, হেফাজতে ইসলাম, জেএমবিসহ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। ফলশ্রুতিতে ব্যারিষ্টার শাকিলা এখন শ্রীঘরে। ভয়ংকর এই নারীর পরের ভবিষ্যৎ কি তা সময় কথা বলবে।

অন্যদিকে হালের টিভি টক শোতে অনেক বড় মুখ নিয়ে বড় বড় কথা বলেন রাজনীতিক অলি আহাদের কন্যা রুমিন ফারহানা। তিনিও পরিচয় দিচ্ছেন নিজেকে ব্যারিষ্টার বলে। এই প্রসঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নীচের ছবিটি পোষ্ট করে বলা হচ্ছে,rumin farhana

“ছবিতে লাল দাগ দেওয়া লোকটির নাম সাইফ খান খালিদ যার পিতা পাকিস্তানি আইএসআই এর একজন কর্মকর্তা। আর মহিলাটি হচ্ছে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রচেষ্টাকারী অলি আহাদের মেয়ে ব্যরিস্টার রুমিন ফারহানা।

রুমিন ফারহানা দীর্ঘদিন সাইফ খান খালিদের সাথে বিনা কলেমায় একই রুমে রাতের পর রাত যাপন করেছিলেন অর্থাৎ বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন যেটিকে আবার অনেকেই লিভ টুগেদার বলে থাকেন। যাইহোক, এটি তার একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। সে দিকে না যাই…

ইদানিং বাংলাদেশের টিভি টকশোতে এই মহিলা জামাত বিএনপির পক্ষে ব্যাপক ভাবে সরব হয়ে উঠেছেন। টিভি টকশোতে নীতিকথার ফুল-ঝুরি শোনাচ্ছেন! অথচ ছবিতে মদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যাচ্ছে এই মহিলাকে! এসব চরিত্রহীন মহিলাদের মুখে নীতিকথা মানায়?

লক্ষ্য করুন, এই মহিলার বয়ফ্রেন্ডের বাবা একজন আইএসআই কর্মকর্তা। পাকিস্তানি আইএসআইয়ের বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের কথা নতুন ভাবে বলার কিছু নেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রুমিন ফারহানার ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্টে লন্ডন থেকে টাকা জমা হয়। অর্থাৎ আইএসআই এবং বিএনপি জামাত যৌথভাবে এই মহিলাকে ফান্ডিং করছে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারনার জন্যে! আর ইনিও খুনীদের পক্ষে জোড় গলায় সাফাই গেয়ে যাচ্ছেন!

যাইহোক, আমরা টেলিভিশনে ভালো কিছু দেখতে চাই। চরিত্রহীনদের মুখে নীতিকথা শুনতে চাই না। রুমিন ফারহানার মত জামাত বিএনপির পেইড এজেন্ট এবং বিকৃত চরিত্রের মানুষদের টিভি টকশোতে নিষিদ্ধ করা হোক…”

রুমিনের নেত্রী হওয়াটাও হঠাত করেই। সূত্রমতে, পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই গেল বছরের শুরুতে বাংলাদেশের টেলিভিশন টক শোতে প্রমোট করার জন্য যে অর্থনৈতিক বাজেট রেখেছিল তাঁদের মধ্যে নতুন করে সংযোজিত করা হয় তাঁর নাম। সে ছাড়াও শামা ওবায়েদ, নিলোফার মণিকেও আইএসআই নতুন করে প্রমোট করে। সেই থেকে রুমিনের নাম ছড়িয়ে পড়ে। লক্ষ্য, হাসিনা সরকারের পতনে বুদ্ধি বৃত্তিক আলোচনায় থাকা এবং পাকিস্তানের চর হিসাবে যত্রতত্র ঢুকে পড়া। আওয়ামী লীগের ছাদ্দাবরনে বাংলাদেশের টিভি টক শোর উপস্থাপক, প্রযোজকদের সাথে সম্পর্ক করে বিএনপি ও পাকিস্তানের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা।

বিএনপির শেষ সমালোচিত নারী প্রতিনিধিত্ব শামা ওবায়েদ। গেল বছরের শুরুতেই তাঁর নাম প্রস্তাব করেন তৎকালীন পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার আইএসআই এর ঢাকাস্থ দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ব্রিগেডিয়ার শেহজাদ। সেই থেকে তিনি আইএসআই এর হয়ে কাজ করছেন। বড় পদের জন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের সাথে তাঁর বিছানায় যাওয়ার খবরও এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে মুখরিত খবর হিসাবে বিবেচিত।

অপরদিকে শামা ওবায়েদের আরেকটি রাজনৈতিক সুবিধা রয়েছে। তিনি যৌথ পরিবারের বাসিন্দা। নিজের ভাসুর হলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য চয়ন ইসলাম। ঠিক সে কারনে বিএনপি যখন নাশকতার আন্দোলনের ডাক দেয়- তখন তাঁদের শীর্ষ নেতাদের তাঁর বাসায় আশ্রয় দেয়া হয়। কারণ, ভাসুর চয়ন ইসলামের জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনেরা সেখানে প্রবেশ করে না। অন্যদিকে শামা নিজেই মধ্যপ্রাচ্যের একজন বিশেষ কুটনীতিকের সঙ্গে প্রেম ভালবাসার সম্পর্কে আটকে আছেন। বিএনপিতে সিনিয়র নেতাদের জন্য কাপড় খোলা, আইএসআই কে তথ্য দেয়া, সেনা বাহিনীর অভ্যন্তরেও বিচ্ছিন্নভাবে চলাফেরা করে শামা ইন্ধন জোগানোর কাজ করেন বলে কথিত আছে।

আজব বহুমুখী মিশনে এই তিন কন্যা। গডফাদার হিসাবে লন্ডনে বসবাস করা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা সেই তারেক রহমান- এমন কথাই চাউর রয়েছে। এমন কি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ খবর নেয়ার জন্য তাঁরা নিজেদের শরীর, ছল ব্যবহার করছেন। বিএনপি তো গন মানুষের রাজনীতি করছে না। কেও আছেন, ক্ষমতাসীন দের শীর্ষ পর্যায়ে হত্যা করার পরিকল্পনায়, কেও আছেন উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থানে কাজ করার মিশনে, আবার কেও আছেন অন্তত তৃতীয় হাতে ক্ষমতা যাক- এমন অগনতান্ত্রিক শক্তি নিয়ে আসবার ছলাকলার রাজনীতিতে। সাম্প্রতিক সময়েই আওয়ামী লীগের ক্রাইসিস ম্যান খ্যাত সৈয়দ আশরাফ বলেছেন, বিএনপি রাজনীতিতে সময় দেয় কম, তাঁরা ষড়যন্ত্র করে বেশী। বিএনপির তৃনমূলেরও দাবী, জনস্বার্থে রাজনীতি করতে পারলে ৪৮ ঘন্টা লাগে না এই সরকারকে বিদায় করতে। কিন্তু সাড়ে সাত বছর হতে চলল, আমরা পারছি না। হয়তো সে কারণেই, তিন খল নায়িকাদের মিশন ও ভিশন দেখা যাচ্ছে। এছাড়া আর কি বা করার আছে খালেদা বাহিনীর! কারন বি,এন,পির জন্মই হয়েছে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে, তারা গনতন্তের মাধ্যমে কোন দিন ক্ষমতায় যেতে পারবে বলে বিশ্বাস ও করে না, তাই একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন,

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here