rumiনারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলায় সঙ্গীতশিল্পী আরফিন রুমিকে গত ১২ অক্টোবর নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার সঙ্গে গ্রেফতার হন রুমির বড় ভাইও। প্রথম স্ত্রী লামিয়া ইসলাম অনন্যার অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর জামিনে বেরিয়ে এলেও ১১ নভেম্বর রুমিকে আদালতে হাজির হতে হবে। কেউ কেউ বলছেন, সেদিন রুমি-অনন্যা কাহিনী নতুন মোড় নেবে। কারণ জামিনে বের হবার পর অনন্যাকে সহযোগিতা তো দূরের কথা উল্টো তাকে নাকি শাসাচ্ছেন রুমি। এমনটাই দাবি অনন্যার।

গ্রেফতারের একদিনের মাথায় কারাগার থেকে বের হয়ে এলেও শর্তের বেড়াজালে হাবুডুবু খাচ্ছেন হালের অন্যতম আলোচিত এই সঙ্গীতশিল্পী। সেইসময় রুমি ও তার পরিবারকে কয়েকটি শর্ত দেন অনন্যা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অনন্যা বলেন, আমি কয়েকটি শর্ত দিয়েছি। এরমধ্যে রয়েছে- ১. আমাকে কোনোদিন সে তালাক দিতে পারবে না। ২. ছেলে আরিয়ানের ভবিষ্যতের জন্য দুই মাসের মধ্যে ব্যাংকে ২০ লাখ টাকার এফডিআর করতে হবে। ৩. আমার ভরণপোষণের জন্য প্রতিমাসের ৫ তারিখের মধ্যে ২০ হাজার টাকা ও ছেলের জন্য আলাদা খরচ দিতে হবে। ৪. আমাকে পড়াশুনার পাশাপাশি গান করতে দিতে হবে। ৫. ভবিষ্যতে নতুন করে যৌতুকের ব্যাপারে আর কোনো চাপ দেয়া যাবে না। ৬. বিয়ের সময় আমার যে গহনা ছিল তা শাশুড়ির কাছে রাখা আছে। ওই গহনাগুলো আমাকে ফেরত দিতে হবে।

তবে এসব শর্ত রুমি মানবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনন্যা। তিনি বলেন, আমাকে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে তার মা ও ভাই জামিনের ব্যবস্থা করেছেন। বলতে পারেন ঈদের আগে অনেকটা চাপে পড়েই জামিনদার হয়ে তার মুক্তি ত্বরান্বিত করি। সেই সময় একটি আপোসনামা করা হয়। যেখানে এসব শর্তাবলি উল্লেখ করা হয়। এমনকি এসব শর্তাবলী লেখার সময় সিডি চয়েজের এমদাদ ভাই, প্রিন্স ভাই, কাজী শুভ, ইলিয়াস, খেয়া, আরমান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া রুমির ব্যান্ড দলের মামুন, লিটন ও শান্তরাও ছিলেন। এরা সবাই এ শর্ত সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। বলতে খারাপ লাগছে, তারপরও বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, রুমির মা ও ভাবী আমার কাছে করজোড়ে মাফ চেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত রুমিকে জামিনের ব্যবস্থা করি, যা আরেকটা ভুল। কারণ জামিনে বের হওয়ার পরই সে এখন উল্টাপাল্টা কথা বলছে। চেষ্টা করছে আমি যেন নিজে নিজেই ওকে ডিভোর্স দিয়ে দিই। এ ডিভোর্স প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অনন্যা আরও বলেন, কামরুন নেসা চেষ্টা করছে রুমিকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব দেওয়ার। কিন্তু আমার সঙ্গে ডিভোর্স না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া সে সম্পন্ন করবে না। এ শর্ত দিয়েই রুমিকে সে ঘুরাচ্ছে। রুমি নিজেও আমাকে এ কথা বলেছে। অথচ মিডিয়ায় সে বলে বেড়াচ্ছে আমি নাকি তাকে ডিভোর্সের কথা বলেছি।

রুমি ও অনন্যার ঘনিষ্ঠজনদের ধারণা, তারা হয়তো আর একই ছাদের নিচে থাকতে পারবেন না। অন্যদিকে, এসব শর্তের ব্যাপারে নিজ সিদ্ধান্তে অটল অনন্যা। তিনি কোনো অবস্থাতেই তার স্বামীকে ছাড় দেবেন না বলে জানিয়েছেন। অনন্যা বলেন, এসব শর্তে রুমি যদি রাজি না থাকে তাহলে আগামী ১১ নভেম্বর তার জামিন বাতিলের আবেদন করবো।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here