২৫ অক্টোবর লালদীঘি মাঠে জনসভা করার ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে এখনো পুলিশের অনুমতি পায়নি কোনো দল। তারপরও উভয় দল জনসভা সফল করার জন্য তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাথে দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা চালিয়ে যাচ্ছে। দুইদলের অনড় অবস্থানের কারণে জনমনে আতংক দেখা দিয়েছে। বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। নগর জুড়ে এখন আলোচনার বিষয় একটিই- কী হতে যাচ্ছে ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে।

এদিকে লালদীঘিতে আওয়ামী লীগ জনসভার সময় আরো একদিন বাড়িয়ে ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত করেছে। গতকাল বিকেল থেকে নগর আওয়ামী লীগ মাইকে ২৫, ২৬ ও ২৭ অক্টোবর জনসভার জন্য প্রচারণা শুরু করে। আজ মঙ্গলবার থেকে ২০টি মাইক এক সাথে নগরীতে প্রচারণা চলাবে। এদিকে বিএনপি এখনো মাইকে প্রচারণা শুরু না করলেও তারা দলের অঙ্গসংগঠনের সাথে মতবিনিময় সভা করছে। লালদীঘির মাঠে জনসভার জন্য কোনো দলকে অনুমতি দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম আজাদীকে জানান, ‘জনসভার ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আলাপ আলোচনা করে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, ‘গণতন্ত্রকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ২৫, ২৬ ও ২৭ অক্টোবরের লালদীঘির জনসভাকে সফল করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করবো। আমাদেরকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে পরিণতি শুভ হবে না।’ তিনি গতকাল তাঁর চশমা হিলস্থ বাসভবনে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে ২২ অক্টোবর সকাল ১১টায় মহানগর ছাত্রলীগের উদ্যোগে ওমরগণি এমইএস কলেজ, ২৩ অক্টোবর সিটি কলেজ, ২৪ অক্টোবর ইসলামিয়া কলেজ ও কর্মাস কলেজ ক্যাম্পাসে এবং ২৩ অক্টোবর বেলা ৩টায় আওয়ামী যুবলীগের, ২৩ অক্টোবর বিকালে শ্রমিক লীগের উদ্যোগে আমিন জুট মিল প্রাঙ্গণে, ২৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় ও ২৫ অক্টোবর পতেঙ্গা জি.ই.এম প্লান্টের সামনে এবং ২৪ অক্টোবর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের উদ্যোগে সমাবেশ করার ঘোষণা দেন। এছাড়া লালদীঘি মাঠে মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ২৫, ২৬ ও ২৭ অক্টোবর বেলা তিনটায় জনসভাকে সফল করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় শ্রমিক দল নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। লালদীঘির জনসভার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘২৫ তারিখের লালদীঘি মাঠে সমাবেশ হবে। সমাবেশের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের জনগণ এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটাবে। ঐদিন চট্টগ্রামের রাজপথ গণতন্ত্রকামী জনতার দখলে থাকবে।’

নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল আজাদীকে জানান, ‘আমরা ঈদ ও পূজার বন্ধের আগেই লালদিঘীর মাঠে সমাবেশ করার বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। ১৮ তারিখ আমরা সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। আমাদের আবেদন রিসিভ করেছে। আমাদের নিষেধ করেনি। তাই আমরা মাইক দিয়ে পাবলিসিটি করছি।

মাঠ ব্যবহারের ব্যাপারেও আমরা অনেক আগে মৌখিক অনুমতি নিয়ে রেখেছি।’

এদিকে, সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ২৫ অক্টোবর নগরীর লালদীঘি মাঠে সমাবেশ সফল করতে বিএনপিও সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে। সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপির চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় নেতারা আজ ও কালের মধ্যে চট্টগ্রামে চলে আসবেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে ১৮ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দlog

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here