মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা বর্বরতার মুখে থেকে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের ফেলে আসা গ্রামগুলো এখন ‘আদর্শ বৌদ্ধ গ্রামে’ রুপান্তরিত করতে কাজ করছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। 
 
মিয়ানমারের দাবি, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যেসব রোহিঙ্গা রাখাইনে ফিরবেন, তাদের জন্যই পুড়ে যাওয়া গ্রামগুলো পুনর্গঠনের কাজ চলছে। কিন্তু ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুলডোজার দিয়ে রোহিঙ্গা স্মৃতি গুড়িয়ে এখন বৌদ্ধ মডেল গ্রাম নির্মাণ করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদে, রাখাইন-বৌদ্ধদের অর্থায়ানে পরিচালিত সংস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে রোহিঙ্গাশূন্য রাখাইন গ্রাম গড়ে তোলার প্রকল্প। 
 
এএফপি’র প্রতিবেদনে রাখাইন বৌদ্ধদের জন্য নির্মিত ‘আদর্শ বৌদ্ধ গ্রাম’ কোয়ে তান কাউক এর কথা তুলে ধরা হয়েছে। কিছুদিন আগেও এটি ছিল রোহিঙ্গা আবাস। এক সময় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাটি এখন উত্তর দিকে সরে রাখাইন অভিবাসীদের দখলে। গ্রামের প্রবেশমুখে বাঁশের মাথায় উড়ছে বৌদ্ধ ধর্মের প্রতীক খচিত পতাকা। বুলডোজার দিয়ে গ্রাম গুড়িয়ে দিয়ে এখন অভিবাসী রাখাইনদের বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব অভিবাসী রাখাইনরা গরিব হলেও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং সংখ্যায় বেশ কম। এক সময়ের মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে রাখাইনীকরণের পরিকল্পনায় এখন তারা অনেকটাই আশাবাদী।  
 
কোয়ে তান কাউকের কুঁড়ে ঘরে স্বামী-সন্তান নিয়ে ওঠা ২৮ বছর বয়সী চিত সান ইয়েইন এএফপিকে বলেন, ‘আমার সত্যিই ওই ‘কালারদের’ (রোহিঙ্গাদের এই নামেই সম্বোধন করে স্থানীয়রা) ভয় পাই এবং এখানে আসার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু এখন, তারা আর এখানে নেই। তাই আমরা সুযোগ পেয়েছি এখানে বসবাসকারী আমাদের আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে আবারও মিলিত হওয়ার। 
 
রোহিঙ্গাদের জমি কেড়ে নেয়াটা রাখাইনদের পুরোনো কৌশল। সেখানে রাখাইন বৌদ্ধদের অর্থায়নে এবং সেনা মদদে বেসরকারি প্রকল্প পরিচালনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাশূন্য রাখাইন গ্রাম গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। সিআরআর নামে পরিচিত ‘অ্যান্সিলারি কমিটি ফর দ্যা রিকন্সট্রাকশন অফ রাখাইন ন্যাশনাল টেরিটোরি ইন দ্যা ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার’ তেমনই এক প্রকল্প। প্রকল্পটি রাখাইন নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের টাকায় চলছে। এএফপি বলছে, সেনাবাহিনীর মদদ ছাড়া এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। 
 
সিআরআর প্রকল্পের উপদেষ্টাদের একজন রাখাইনের আইনপ্রণেতা ও হ্লা সও বলেন, সিআরআরের উদ্দেশ্য হলো রাজ্যের রাজধানী সিত্তুয়ে থেকে শুরু করে মংডু শহর পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার দৈর্ঘের একটি রোহিঙ্গাশূণ্য ‘বাফার জোন’ প্রতিষ্ঠা করা। এএফপিকে তিনি বলেছেন, এই পুরো এলাকা রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ছিল। সেনাবাহিনীর অভিযানের পর তাদেরকে পালাতে হয়েছে। এখাইন রাখাইন জনগোষ্ঠী দিয়ে এলাকাটি গড়ে তোলা হবে। তার ভাষ্য, এলাকাটি জনবসতিতে পরিণত হয় সেজন্য সিআরআর বাসস্থান নির্মাণ ও কর্মসংস্থানে অর্থের যোগান দেবে। সিআরআরের স্থানান্তরিত ৬৪টি পরিবার ও প্রায় ২৫০ জনকে নিয়ে এখন পর্যন্ত বসতির খুব সামান্যই গড়ে উঠেছে, যদিও অপেক্ষা তালিকায় রয়েছে প্রায় ২০০ পরিবার।
শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here