log5বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষক অধ্যাপক রেহমান সোবহান এবং সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থ সচিব ড. আকবর আলী খানকে ‘অথর্ব’ বলেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মন্ত্রী অভিযোগ করেন, এদের সময় থেকেই গ্রামীণ ব্যাংকে নানা সমস্যার সৃষ্টির হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার নয় বরং নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসই গ্রামীণ ব্যাংক ধ্বংস করছেন। উনার জন্য গ্রামীণ ব্যাংকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না। গতকাল সচিবালয়ে মদনমোহন কলেজের সঙ্গে টেলিটকের চুক্তি বিষয়ক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু ইউজলেস পিপল (‘অপ্রয়োজনীয় বা অথর্ব ব্যক্তি) এখন জোরেশোরে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যাপারে কথা বলছেন। ড. আকবর আলী খান, মি. রেহমান সোবহান- এরা কারা? এদের সময়ই গ্রামীণ ব্যাংকে সব অনর্থ হয়েছে। তারা চেয়ারম্যানগিরি করেন নাই। তারা শুধু গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারে বসেছেন। এখন এরাই জোরেশোরে কথা বলছেন।
ড. ইউনূস অনেক চালাক। তিনি জাতির জন্য কাজ করেন না, নিজের জন্য করেন। তিনি গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমতি নিলেন গ্রামীণফোনের শেয়ার নেয়ার জন্য। তারপর আবার গ্রামীণফোনের জন্য বললেন, এটার জন্য একটা নন-প্রফিট (অলাভজনক) প্রতিষ্ঠান করবো গ্রামীণ টেলিকম। এরকম আরো অনেক কিছুই আছে, বলেন আবদুল মুহিত।
তবে ড. ইউনূস কিছু বিষয়ে ভালো কাজ করেছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রথমত, তিনি একজন নোবেল বিজয়ী। তিনি কিছু ভালো কাজও করেছেন। এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। জামানত ছাড়া ঋণ দেয়া এটা উনিই (ড. ইউনূস) প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এটা আগে থেকে থাকলেও এস্টাব্লিশ করেছেন উনি। ড. ইউনূস শুধু এটাকে প্রতিষ্ঠিতই করেননি, জামানত ছাড়া ঋণ দেয়াকে জনপ্রিয়ও করেছেন। এগুলো তো অস্বীকার করা যায় না। আজকে যে সঞ্চয় ব্যাংক করা হলো, এর পেছনেও স্পিরিট হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংক কাজ করেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের আমানত বাড়ানোর কৌশলটাও খুব সফল।
এতোকিছুর পরও ড. ইউনূস মিথ্যাচার করছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, উনি অনবরত মিথ্যা কথা বলছেন। ইউনূস সেন্টার প্রতিষ্ঠা ‘আনইথিক্যাল’ হিসেবে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, তিনি সেখানে বসে পলিটিক্যাল আলোচনা করেন। তিনি তো রাজনীতিবিদ। কিন্তু এটা তো তার প্রপার্টি (সম্পত্তি) নয়।
গ্রামীণ ব্যাংককে পরিচালনা করতে দিচ্ছেন না ইউনূস- বরাবরের মতো আবারো এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, হোয়াট ইজ দিস মিজারি (দুর্দশা)? এটা মাইজারি নয়, উদ্দেশ্যমূলক। ড. ইউনূস অনবরত গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মচারীদের ইনফ্লুয়েন্স (প্রভাবিত) করছেন। তিনি গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা করতে দিচ্ছেন না। উনি এটা ভালোভাবেই করে যাচ্ছেন।
গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচন বিধিমালা পাস হলে ‘নির্বাচিত পরিচালকরা’ পদ হারাবেন কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, অবশ্যই। এটার জন্যও ড. ইউনূসই দায়ী। তিনিই আইন করেছিলেন, ইলেকশন রুলস করতে হবে। তিনি কিছু দিকনির্দেশনাও দিয়েছিলেন। কিন্তু কোন উপায়ে বা ভোটের মাধ্যমে কিভাবে হবে তা তিনি বলে যাননি। এখন নির্বাচন হবে। তাই স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এরা পদ হারাবেন। এখন গ্রামীণ ব্যাংকের ২ হাজার ৬০০ শাখায় ৮০ লাখ ভোটার ভোট দেবেন।
নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক বিভিন্ন সময় বলেছেন, গ্রামীণফোনের সাথে গ্রামীণ ব্যাংকের কোন সম্পর্ক নেই। বিষয়টি সত্যি কিনা তা খতিয়ে দেখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী।
ট্যাক্স ফ্রি পাওয়ার জন্য ‘গ্রামীণ’ নামটা ড. ইউনূস চুরি করেছেন অভিযোগ এনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ট্যাক্স ফ্রি পাওয়ার জন্য গ্রামীণ নামটা ইউনূস সাহেব চুরি করেছেন। এটা পরিষ্কার চুরি। একটা প্রতিষ্ঠান তুমি সৃষ্টি করতে পারো। কিন্তু তার নাম তুমি কি করে নিজের বলে চালিয়ে দাও? যেখানে প্রতিষ্ঠানটিই নেই, সেখানে এটি চলে না। জনস্বার্থে হলেও এটা চুরি।
বুধবার সংবাদ মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে ড. ইউনূস বলেছেন, গ্রামীণ ব্যাংক আইন, ১৯৮৩ সংশোধন করে নতুনভাবে আইন করায় গ্রামীণ ব্যাংকের ধ্বংস অবধারিত হয়েছে। এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা তো তিনি কয়েক বছর ধরেই বলছেন। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সরকার নয়, ইউনূস সাহেবই গ্রামীণ ব্যাংক ধ্বংস করছেন।
গ্রামীণ ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান কবে নাগাদ দেয়া হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা করিনি। তবে করবো। করিনি কারণ, উনি (ড. ইউনূস) যখন অনর্থ করা বন্ধ করবেন তখন দিবো। কারণ, নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিলে উনি তখন চেয়ারম্যানের পেছনে লাগবেন- এটা আমি নিশ্চিত। নতুন চেয়ারম্যানের পেছনে লাগার ব্যাপারে যা কিছু পদক্ষেপ নেয়ার উনি সেটা নেবেন- এটাও আমি নিশ্চিত।
এ আইন পাস করার পর আন্তর্জাতিক কোন চাপ এসেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, কোন চাপ আসেনি। কারণ, আমরা তেমন কিছুই পরিবর্তন করিনি। গ্রামীণ ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে নেয়াসহ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এসেছে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here