Report
রেকর্ড বইয়ে মুস্তাফিজ

মাত্রই নিজের বোলিং শেষ করে বাউন্ডারিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে ক্যাচ তুলে দিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। সে ক্যাচ মুস্তাফিজের থেকে অনেক দুরে। দৌড়ে বল নাগালে পাবেন না বুঝে সামনে ডাইভ দিলেন। দৃষ্টিনন্দনভাবে মাটি থেকে কয়েক ইঞ্চি ওপরে মাত্র লুফে নিলেন ক্যাচ। ক্রিকইনফো লিখল—মুস্তাফিজ ইজ এভরিহোয়ার।

হ্যাঁ, মুস্তাফিজ বুধবারও সব জায়গায় রইলেন। অফ কাটারে, স্লোয়ারে পাগল বানালেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। তবে ভাগ্যটা পক্ষে ছিল না। কখনো নো ম্যানস ল্যান্ডে ক্যাচ উঠলো, কখনো সতীর্থরা মিস করলেন, কখনো অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন ব্যাটসম্যান। ভাগ্যটা সুপ্রসন্ন থাকলে অনায়াসে আরেকবার ৫ উইকেট নিয়ে ওয়াকার ইউনুসের পাশে নাম লেখাতে পারতেন। তা না পারলেও নাম তুলে ফেললেন আরেক রেকর্ডে।

ওয়ানডে ইতিহাসে তিন ম্যাচে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় যৌথভাবে এক নম্বরে এখন বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমান।

তিন ম্যাচে এর আগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার রায়ান হ্যারিস; তিনি অবশ্য পাঁচ ম্যাচ সিরিজের তিনটি খেলেছিলেন। ২০১০ সালে তিনি পাকিস্তানের বিপক্ষে নিয়েছিলেন ১৩ উইকেট। আর ভ্যাসবার্ট ড্রাকেস ২০০২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিয়েছিলেন ১২ উইকেট। তালিকার তিন নম্বরে আছেন বাংলাদেশেরই পেসার, মুস্তাফিজের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তিনি ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ১২ উইকেট নিয়েছিলেন। আর মুস্তাফিজ ভারতের বিপক্ষে এই সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই ১১ উইকেট নিয়ে ফেলেছিলেন।

আর ২ উইকেট নিলে বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করবেন, ৩ উইকেট নিলে সবাইকে ছাপিয়ে যাবেন; এমন হিসাব নিয়ে খেলতে নেমেছিলেন মুস্তাফিজ। ইনিংসের সপ্তম ওভারে যথারীতি রোহিত শর্মাকে আউট করে প্রথম উইকেট নিয়ে নিলেন। এই নিয়ে সিরিজের তিন ম্যাচেই রোহিতকে আউট করলেন মুস্তাফিজ।

আর একেবারে নিজের শেষ ওভারে এসে সুরেশ রায়নাকে ফিরিয়ে হ্যারিসের পাশে নাম লেখালেন মুস্তাফিজ। একটা উইকেটের জন্য আফসোস থাকতে পারে; সেটা হলে রেকর্ডটা তার একারই হয়ে যেতো।

এর আগে প্রথম দু ম্যাচেই ৫ বা ততোধিক উইকেট নেওয়ার ভেতর দিয়ে নানারূপে ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ফেলেছেন মুস্তাফিজুর। সবচেয়ে বড় ইতিহাস হল, বিশ্বের মাত্র দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ওয়ানডেতেই ৫ বা ততোধিক উইকেট নেওয়া। মুস্তাফিজের আগে এই কীর্তি ছিল কেবল জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান ভিটোরির। ২০১১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষেই করেছিলেন তিনি কাজটা।

আসলে ওয়ানডে ইতিহাসেই টানা দুই বা ততোধিক ম্যাচে ৫ বা ততোধিক উইকেট নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১২ বার। এর মধ্যে এক ওয়াকার ইউনুসই ৩ বার করেছেন কাজটা। ইউনুসের মহাত্ম আরও বেশী এই কারণে যে, তিনি প্রথমবার যখন এই কীর্তি করেন, তখন টানা তিন ম্যাচে ৫ উইকেট করে নিয়েছিলেন।

বলাই বাহুল্য বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে এমন ঘটনা আর নেই। কাছাকাছি যেতে পেরেছিলেন কেবল আব্দুর রাজ্জাক। ২০১০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে নিয়েছিলেন ৫ ও ৪ উইকেট।

শুধু এখানেই পাশাপাশি নন এই দুজন। বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে একাধিকবার ৫ উইকেট পাওয়ার কীর্তি আছেন কেবল রাজ্জাক আর মুস্তাফিজেরই। চারবার ৫ উইকেট পেয়েছেন রাজ্জাক, ২ বার নিলেন মুস্তাফিজ। একবার করে পেয়েছেন আরও ৭ বোলার।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here