জনতার নিউজঃ

মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন সবার চোখে পানি। কেউ কাঁদছেন নীরবে আর কেউ চিৎকার করে। কেঁদে কেঁদে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন দুই বোন জিয়াসমিন ও পপি। এমন করুণ দৃশ্য দেখে শুভাকাক্সক্ষী ও এলাকাবাসীর চোখেও ঝরছে পানি। কান্নার ফাঁকে ফাঁকে বিলাপ করছে আর বলছে, কি দোষ ছিল রুপার? স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শেষ করে বড় উকিল হবে। সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই পৃথিবী থেকে কেন নির্মমভাবে শেষ করে দেওয়া হলো তাকে?

টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে গণ ধর্ষণের পর পৈশাচিকভাবে খুনের শিকার জাকিয়া সুলতানা রুপার লাশ বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থান থেকে তোলা হয়। এরপর ছয়টার দিকে রুপার নিজ গ্রাম সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়িতে পৌঁছায়। লাশ বাড়িতে আসার পর এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। এ খবর আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে হাজারো মানুষ একনজর দেখার জন্য নিহতের বাড়িতে ভিড় জমায়। লাশের কফিন জড়িয়ে কান্না শুরু করে স্বজনরা।

বোনের কফিনে বার বার চুমো খেতে থাকে জেসমিন ও রুপা। এলাকার লোকজন বিক্ষোভে ফেটে পড়নে। তাদের মুখে ছিল একটাই স্লোগান- ‘রুপা হত্যাকারীদের অবিলম্বে ফাঁসি চাই’। লাশবাহী গাড়ির সঙ্গে আসেন বড় ভাই হাফিজুর রহমান এবং আরো কয়েকজন নিকট আত্মীয়।

এ সময় রুপার লাশের পাশে বিলাপ করতে থাকা রুপার বড় ভাই হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি কিশোর কাল থেকে নিজের পড়ালেখার পাশাপাশি দিনমজুর খেটে রুপার পড়ালেখার খরচ যুগিয়েছি। সেই আদরের ছোট্ট বোনটি আমার অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেছে। স্বপ্ন ছিল বড় উকিল হবে। ঢাকা আইডিয়াল ল কলেজ থেকে এ বছরই তার ওকালতি পড়াও শেষ হয়ে যেত। অথচ এক নৃশংস হত্যায় লাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হলো তাকে। হাফিজুর কেঁদে কেঁদে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমার বোনের ধর্ষণ ও খুনের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনের বিচার দ্রুত বিচার আইনে করা হোক। এমন এক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক যাতে আর কোনো ভাইয়ের বোনকে এভাবে দুনিয়া ছেড়ে যেতে না হয়।’

বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব জানাযা শেষে তার লাশ আসানবাড়ির কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাযায় অংশ নেন তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম ফেরদৌস ইসলামসহ বহু মানুষ। রুপা (২৭) সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়ি গ্রামের মৃত জেলহকের মেয়ে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে চলন্ত বাসে রূপাকে ধর্ষণের পর হত্যা করার অভিযোগ ওঠে পরিবহনশ্রমিকদের বিরুদ্ধে। রাত ১১টার দিকে মধুপুর থানার পুলিশ রূপার লাশ উদ্ধার করে। শনিবার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে তাকে দাফন করা হয়।

 

শেয়ার করুন

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here