রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে লিচু-আমসহ মৌসুমী ফল পাকানো ও আকর্ষণীয় করার চেষ্টা এখনি প্রতিরোধ করতে হবে। এই সব মৌসুমী ফল বাজারে আসতে এখনো কিছুটা সময় বাকি থাকলেও ফলগুলোকে দ্রুত ভোক্তাদের হাতে তুলে দিতে বিভিন্ন রাসায়নিকের প্রয়োগ শুরু হয়েছে। রাসায়নিক দ্রব্য প্রয়োগ করে লিচুসহ মৌসুমী ফল বড় করা, পাকানো ও আকর্ষণীয় করার চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে না পারলে, মৌসুমী ফলে প্রয়োগ করা বিষক্রিয়ায় শিশু মৃত্যুসহ মানবদেহে বিভিন্ন জটিল রোগ দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

এ বছর পহেলা এপ্রিলে তোলপাড় করা খবর ছিল খুলনার পাইকগাছায় তরমুজ খেয়ে ৪ শিশুসহ একই পরিবারের ৬ জন অসুস্থ হওয়ার ঘটনা। গত বছর ২০১১-১২ সালে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁয়ে বিষাক্ত লিচু খেয়ে ২২ জন শিশু মারা গেছে। চিকিত্সকরা প্রাথমিকভাবে সেটাকে অজ্ঞাত রোগ বললেও আইসিডিডিআরবি’র তদন্ত কমিটি জানিয়েছিল, লিচুতে বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগের কারণে সেই লিচু খেয়ে এই শিশুদের মৃত্যু হয়েছে।

কাওরান বাজারের ফল বিক্রেতা মাহমুদ আলী বলেন, ‘আমরা ফলে কিছুই দেই না। ফলে যদি কিছু দেয়, হেইড্যা আগেই দেওন থাকে। আমরা পাইকারের কাছ থেইক্যা ফল কিনি। যেইড্যা ফল দেখতে টসটসে হেইড্যাই কাস্টমার কেনে। আমগোর বাড়ির গাছের ঔষধ না দেয়া ফল যদি বাজারে আনি; তয় বেচতে পারি না। কারণ হেইড্যা ঔষধ দেওন ফলের মতো সোন্দর দেখায় না, হের লাইগ্যা কাস্টমার দামও দিবার চায় না। বাইধ্য হইয়া দোকানদাররা দেখতে সোন্দর ফল দোকানে রাহে।’

অধিক লাভের আশায় লিচু ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা লিচুর ফলন বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কীটনাশকসহ নানান ওষুধ প্রয়োগ করছেন। বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা লাভের জন্য অতিরিক্ত মাত্রায় বিষ প্রয়োগ না করে সে ব্যাপারে এখনই সংশ্লি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নিতে হবে। ভোক্তার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কীটনাশক প্রয়োগে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা গেলে এ জাতীয় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

গত কয়েক বছর ধরে এক শ্রেণির অতিলোভী ব্যবসায়ী কীটনাশক ছিটিয়ে লিচু বড় করছেন। একইভাবে লিচু পাকাতেও কীটনাশক ছিটাচ্ছেন। যেসব বাগানে গাছের সংখ্যা বেশি, সেসব বাগানে এই বিষ প্রয়োগ প্রতি বছর বাড়ছে। লিচু বড় করতেও ছিটানো হচ্ছে এক ধরনের হরমোন।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেন, কাঁচা লিচুতে পাকা রং ধরাতে পানির সঙ্গে ক্যামোমেথ্রিন ও টিডো নামের দুই ধরনের কীটনাশক ও ম্যাগনল নামের একপ্রকার হরমোন মিশিয়ে ছিটানো হয়। রং ধরার পর লিচু দ্রুত বড় করতে ফের টিডো ও ম্যাগনল ছিটানো হয়। এসব কীটনাশক ও হরমোন ছিটালে লিচু লাল রং ধারণ করে এবং দ্রুত আকারে বড় হয়ে ওঠে। এই লিচু গাছ থেকে পাড়ার পর কয়েক দিন রাখলেও বোটার কাছে পোকা ধরে না এবং পচে না। এসব দেয়ার চার-পাঁচ দিন পর বিক্রেতারা বাজারে বিক্রির জন্য লিচু নিয়ে আসেন।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, লিচুতে কীটনাশকের ব্যবহার মানুষের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই বিষমিশ্রিত ফল খেয়ে মানুষের কিডনি ও যকৃতের ক্ষতি হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতিক্রিয়ায় মানবদেহে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here