পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবেও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। সততা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম, সব মহলে গ্রহণযোগ্যতা এবং দলমত নির্বিশেষে সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করে যাওয়ার জন্যই তাঁর প্রতি অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে সরকারের। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার এ তথ্য জানান। এদিকে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন উপলক্ষে আগামীকাল বুধবার রাত ৮টায় গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের এক সভা ডাকা হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ ও দলের সংসদীয় বোর্ডের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি সভায় সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের এ বৈঠকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সংসদীয় বোর্ডের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন। তবে এখনো রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের বিকল্প নিয়ে কিছু ভাবছে না আওয়ামী লীগ। এদিকে আওয়ামী লীগ যাকে মনোনয়ন দেবে সেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কারণ সংসদে ২৩২টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি রয়েছে। এদিকে সরকারি দল যাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচন করবেন তাতে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির আপত্তি থাকছে না। এ ব্যাপারে সমঝোতার জন্য আওয়ামী লীগ শিগগিরই জাতীয় পার্টির সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে। প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। আগ্রহী প্রার্থীরা ৫ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ৭ ফেব্রুয়ারি যাচাই বাছাইয়ের পর ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। প্রার্থীর সংখ্যা একজনের বেশি না হলে তাকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর একাধিক প্রার্থী হলে সংসদের অধিবেশন কক্ষে বিধিমালা অনুযায়ী ভোট হবে। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মোঃ আবদুল হামিদ। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ অবসানের কারণে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির তারিখের আগের নব্বই থেকে ষাট দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। ফলে ২৪ জানুয়ারি থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here