ইউরোপ থেকে জনতার নিউজ প্রতিবেদকঃ-

new

একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা, সফল রাষ্ট্রদূত জনাব গোলাম মোহাম্মদকে এথেন্স থেকে সরাতে মরণ কামড় দিয়েছে দালাল সিন্ডিকেট চক্র। গ্রীসের রাজধানীতে দূতাবাসকে ঘিরে আবার লুটপাটের রামরাজত্ব কায়েম করতে চায় গনধিকৃত দালাল গং।

ঢাকায় প্রেরিত বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগনামায় সজ্ঞানে স্বাক্ষরিত শেখ কামরুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান মিজানই ছিলেন ভূয়া-বানোয়াট অডিও টেপের নেপথ্যে, তা তাদের ঔদ্ধত্বপূর্ণ কথায় ও আচরণে আরো পরিষ্কার হয়ে গেল। এই প্রতিবেদককে ‘দেখে নেয়ার’ও হুমকি দিয়েছেন তারা। ‘মাস্টার এডিটিং’র সহায়তায় শতভাগ ভূয়া অডিও টেপ প্রোডাকশনে গিয়ে দিনকে রাত বানানো চক্রান্তকরীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়েছে গ্রীস সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ কমিউনিটি থেকে। ভূয়া অডিও সিডির সাথে চিহ্নিত দালালদের স্বাক্ষরিত বানোয়াট অভিযোগনামার ভিত্তিতেই গত ক’দিনে দেশে-বিদেশে ঘটলো এতো তুলকালাম। আনীত অভিযোগের জবাব দিতে রাষ্ট্রদূতকে ২ সপ্তাহ ঢাকায় অবস্থান করতে হয়, তবে পররাষ্ট্র দফতরের সুচিন্তিত সিদ্ধান্তে স্বপদে বহাল থাকেন রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদ, বৃদ্ধি পায় সরকারের ইমেজ। শেখ কামরুল ও মিজানের নিয়ন্ত্রণাধীন গ্রীসের সর্বনাশা দালাল সিন্ডিকেটের হাতেই বছরের পর বছর জিম্মি ছিল হাজার হাজার নিরীহ বাংলাদেশি। তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন প্রায় চার বছর এথেন্সে কাউন্সিলরের দায়িত্বে থাকা বিএম জামাল হোসেন, যিনি বর্তমানে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (এমআরপি) হিসেবে কর্মরত আছেন। এথেন্সে থাকা অবস্থায় বিএম জামাল সকাল-সন্ধ্যা দালাল পরিবেষ্টিত থাকতেন খোদ দূতাবাসের ভেতরেই। অভিযোগ আছে, পুলিশের চাকরি ছেড়ে পররাষ্ট্র দফতরে যোগ দেয়া এই কর্মকর্তা গ্রীসের রাজধানীতে মুখচেনা দালালদের সহায়তায় হাতিয়ে নেন লক্ষ লক্ষ ইউরো।

স্থানীয় এই দুই দালালও একই সময় কোটি টাকার মালিক বনে যান। তাদের অপকর্মের শতশত প্রমাণ সযত্নে সংরক্ষতি আছে এথেন্সের সাধারণ জনগণের কাছেও। ঐ সময় এথেন্সে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে থাকা অভিজ্ঞ কূটনীতিবিদ মুহম্মদ আজিজুল হক আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেও বিএম জামালকে নিবৃত রাখতে পারেননি। ২০১২ সালের শেষ দিকে রাষ্ট্রদূত আজিজুল হক এথেন্স থেকে বেইজিং বদলি হলে জাকার্তা থেকে এসে যোগ দেন পূর্ণ সচিব পদমর্যাদার সিনিয়র কূটনীতিবিদ গোলাম মোহাম্মদ। সিন্ডিকেট ভিত্তিক পাসপোর্ট বানিজ্য তখন জমজমাট। কাউন্সিলর বিএম জামাল ‘টাকার ম্যাশিন’ ছেড়ে এথেন্সকে বিদায় জানাতে না চাইলেও একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোহাম্মদের জিরো টলারেন্সে কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকায় ফিরতে বাধ্য হন। রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদের উপর বিএম জামালের ক্ষোভের শুরুটা এখানেই। সুচতুর এই অফিসার ঢাকায় বসেই এথেন্সে গুটি চালতে থাকেন। অপেক্ষা সুযোগের, যা এসে যায় এক বছরের মাথায়। দুই শীর্ষ দালাল শেখ কামরুল ও মিজানকে দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগিয়ে অডিও টেপ কেলেংকারির ফাঁদ পাতা হয়।

সরকার ও সরকারের মন্ত্রীদের কঠোর সমালোচক রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদ, অডিও টেপের ‘হোমমেড’ কারুকাজে এমনটাই বোঝানো হলে নড়েচড়ে বসে ঢাকার পররাষ্ট্র দফতর। মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদের ঢাকায় যাওয়ার পথ প্রশস্ত করতে তথা এর ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরীর পেছনে এথেন্সের দুই শীর্ষ দালালকে বিএম জামালই গাইড করেছেন সুনিপুনভাবে, নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র ইতিমধ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে ১৭ মে শনিবার ঢাকা থেকে মুঠোফোনে এই প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। সিন্ডিকেট বানিজ্য দূরের কথা, চার বছর এথেন্সে কাউন্সিলর থাকাকালীন কোন দালাল নাকি দূতাবাসে ঢোকারই সুযোগ পায়নি, এই প্রতিবেদকের প্রশ্নের এমনটাই জবাব দেন বিএম জামাল। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে জানান তিনি। রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে মিথ্য অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী শেখ কামরুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান মিজানের সাথেও শনিবার যোগাযোগ হয় এই প্রতিবেদকের।

এথেন্সে একাধিক নামে পরিচিত মিজান কোন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বরং কেন তাকে ফোন দেয়া হলো পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে ফোন রেখে দেন। শেখ কামরুল অকথ্য ভাষায় শাসিয়ে দেন এই প্রতিবেদককে এবং ‘দেখে নেয়া হবে’ বলে হুমকি দেন। গ্রীস আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে পরিচয়দানকারী শেখ কামরুলের উপর অনেক আগ থেকেই আস্থা নেই নেতা-কর্মী কারোই। রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডায় গ্রীস আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনসমূহের একজন নেতা-কর্মীকেও কাছে টানতে পারেননি শেখ কামরুল বরং নেক্কারজনক এই ইস্যুতে আজ সাধারণ জনগনের রোষানলের মুখে তিনি।

বাংলাদেশ-গ্রীস চেম্বারের সেক্রেটারি হিসেবে মিজানুর রহমান মিজানের একটি ‘সাইনবোর্ড সর্বস্ব’ পরিচয় থাকলেও শেখ কামরুলের মতো তারও মূল ব্যবসা অবৈধ হুন্ডি ও দুই নম্বর ডকুমেন্টের এবং এসবের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ঠকবাজির ধান্ধা। রাষ্ট্রদূত পহেলা মে এথেন্স ত্যাগ করার বেশ ক’দিন আগ থেকেই মিজান ঢাকায় অবস্থান করে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন বিএম জামালের সাথে। গ্রীসে বিএম জামালের পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রত্যক্ষ মদদে গড়ে ওঠা সর্বনাশা দালাল চক্রকে জঘন্য সিন্ডিকেটবাজি থেকে নিবৃত করতে তখন এথেন্সের কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ কতটা আন্তরিক ছিলেন তা নিয়েও বিভিন্ন দেশে কথা উঠছে আজ। পাসপোর্ট বানিজ্যের ‘সুপার সিন্ডিকেট’ নিষ্ক্রিয় করতে তথা তাদের অপকর্ম ঠেকাতে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের ভূমিকা আরো ইতিবাচক হতে পারতো বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিএম জামাল সহ এথেন্সের চিহ্নিত দালালদের বিরুদ্ধে চরম ক্ষুব্ধ আজ গ্রীসের শোষিত-নির্যাতিত হাজার হাজার বাংলাদেশি। সবার একই কথা, দালাল সিন্ডিকেটের নোংরামির শেষ কোথায় ? সমাজবিরোধীদের অপকর্ম আর কতকাল?

 

একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা, সফল রাষ্ট্রদূত জনাব গোলাম মোহাম্মদকে এথেন্স থেকে সরাতে মরণ কামড় দিয়েছে দালাল সিন্ডিকেট চক্র। গ্রীসের রাজধানীতে দূতাবাসকে ঘিরে আবার লুটপাটের রামরাজত্ব কায়েম করতে চায় গনধিকৃত দালাল গং।

 

২০০৭-০৮ সালের কথা। সেনা সমর্থিত ‘কথিত’ তত্তাবধায়ক সরকার বাংলাদেশে চালকের আসনে। নির্জন কারাগারে দিন যায় রাত আসে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তাঁর হয়ে আইনী লড়াইয়ের জন্য পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন মন্ট্রিলের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, কানাডীয় শীর্ষ আইনজীবি ড. পায়াম আখাভান। আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী এই আইনজীবি ঢাকায় যাবার প্রক্রিয়া যখন প্রায় শেষ ঠিক তখনই বিধিবাম। অটোয়াস্থ বাংলাদেশ মিশন ফিরিয়ে দিলো ড. পায়ামের ভিসার আবেদন। কানাডীয় আইনজীবি বাংলাদেশের ভিসা পাচ্ছেন না, তাই অনিশ্চিত হয়ে যায় তাঁর ঢাকায় যাবার সব আয়োজন।

ড. ফখরুদ্দিনের প্রশাসনও তাদের সিদ্ধান্তে অনড়, যে কোন মূল্যে কারারুদ্ধ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কানাডীয় আইনজীবিকে ঢাকায় আসতে দেয়া হবে না। ঠিক এমন সময় সুদূর জর্ডানে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে থাকা গোলাম মোহাম্মদ ঘটালেন ‘নিরব বিপ্লব’। বিশেষ কিছু প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কানাডীয় আইনজীবির ভিসার আবেদনটি জমা পড়ে আম্মানের বাংলাদেশ দূতাবাসে। রাষ্ট্রদূত হিসেবে চাকরির মায়া ছেড়ে গোলাম মোহাম্মদ সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহিতার ঝুঁকি মাথায় নিয়ে ড. পায়াম আখাভানকে বাংলাদেশে যাবার ভিসা ইস্যু করলেন একান্ত নিজ দায়িত্বে। বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কঠোর গোপনীয়তায় আম্মান থেকেই সবকিছু করা হয়ে যায়। একই গোপনীয়তায় ২৮ জানুয়ারি ২০০৮ ঢাকায় এলেন ড. পায়াম। পরদিন পত্রপত্রিকায় ফলাও করে সংবাদ প্রচারের পর টনক নড়লো ড. ফখরুদ্দিন প্রশাসনের। তোলপাড় শুরু হয় পররাষ্ট্র দফতরে। কারারুদ্ধ শেখ হাসিনার হয়ে আইনী লড়াই চালাতে বিশ্বখ্যাত এই আইনজীবি কিভাবে কোন দেশ থেকে বাংলাদেশের ভিসা পেলেন তা জানতে বাংলাদেশ সরকারেরই সময় লেগে গেলো দু’দিন।

সব জানাজানি হবার পর আম্মান থেকে রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদকে ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয়ে কানাঘুষা চলছে জর্ডানের রাষ্ট্রদূতের চাকরিতো শেষই, এই বুঝি ডিজিএফআই তাঁকে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রবল শংকার মধ্যেই সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র দফতরে গিয়ে গোলাম মোহাম্মদ ব্যাখ্যা দিলেন, আন্তর্জাতিক রীতিনীতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে কেন তিনি একজন কানাডীয় নাগরিককে বাংলাদেশের ভিসা ইস্যু করেছেন। ভাগ্য শেষতক সহায় হলো একাত্তরের এই বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি। মাত্র ক’দিন আগে এ্যাডিশনাল সেক্রেটারি হিসেবে তাঁর প্রমোশনটি বাতিল করেনি ড. ফখরুদ্দিনের সেনা সমর্থিত সরকার। রাষ্ট্রদূত হিসেবেই গোলাম মোহাম্মদ সসম্মানে ফিরে এলেন জর্ডানে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালে আম্মানে দায়িত্ব পালনকালীন অবস্থায় পূর্ণ সচিব হিসেবে ‘স্বাভাবিক পদোন্নতি’র পর একই বছর রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেন ইন্দোনেশিয়ার রাজধানীতে। জাকার্তায় প্রায় আড়াই বছর সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে সিনিয়র এই ডিপ্লোম্যাট ২০১৩ সালের গোড়ার দিকে বদলি হন গ্রীসে।

এমন এক সময় তিনি এথেন্সে যোগদান করেন যখন দূতাবাসে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে স্থানীয় দালাল সিন্ডিকেট দূতাবাসকে ঘিরেই গড়ে তোলে পাসপোর্ট পিসি, কেনাবেচা, সার্টিফিকেটের লক্ষ ইউরোর রমরমা বানিজ্য। হাজার হাজার নিরীহ জনগণকে জিম্মি করে দালাল–অফিসার একাট্টা হয়ে দূতাবাসকে পরিণত করে লুটপাটের অভয়ারন্যে। দেশে বিদেশে সহায় সম্পদ বাড়তে থাকে দালালদের। ৩ বছরে ৫ কোটি টাকার মালিক হবার অভিযোগ উঠে জনৈক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। দায়িত্ব নেয়ার পরপরই রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদ এথেন্সের দালাল সিন্ডিকেটের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ দেখিয়ে সাড়ে ৩ বছরে গড়ে ওঠা জঞ্জাল দূর করতে সময় নেন মাত্র কয়েক মাস। দালালদের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া যেখানে লোকজন কোন সার্ভিস দূতাবাস থেকে পেতো না, সেখানে এথেন্সের বাংলাদেশ দূতাবাস আজ কলংকমুক্ত। কিন্তু আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দালাল চক্র তাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করে গোলাম মোহাম্মদকে এথেন্স থেকে সরাতে, বিনিয়োগ করে কয়েক হাজার ইউরো। রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য সম্বলিত একটি ভূয়া অডিও ক্লিপ তৈরী করে অনলাইনে ছেড়ে এবং ঢাকায় পররাষ্ট্র দফতর সহ যত্রতত্র পাঠিয়ে এমনটাই বোঝাবার অপচেষ্টা চালায় যে, রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচক এবং তিনি সরকার বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, দালাল সিন্ডিকেটের তৈরী বানোয়াট অডিও ক্লিপের সূত্র ধরেই নড়েচড়ে বসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

২০০৮ সালের মতো ২০১৪ সালে এসে আবার তলব করা হলো গোলাম মোহাম্মদকে ঢাকায়। পহেলা মে সাময়িক ছুটির কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রদূত গ্রীস ত্যাগ করার পর এথেন্সের দালাল চক্র নিজেদের মাঝে মিষ্টি ভাগাভাগি করে উল্লাসও প্রকাশ করে। তবে রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদকে ঢাকায় তলব করায় এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান ইউরোপের ৩০ টি দেশের বাংলাদেশিদের কেন্দ্রীয় সংগঠন অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন (আয়েবা)’র প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ড. জয়নুল আবেদিন, যিনি একাধারে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রীসেরও সভাপতি। দালালদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন এথেন্সের সাধারন বাংলাদেশিরা, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অবশ্য তাদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন আইন হাতে তুলে না নিতে। ওদিকে ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এমপি সহ পররাষ্ট্র দফতরের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের সাথে দেখা করেছেন রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদ। ১০ মে এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘‘আমি আশাবাদী, সরকার সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্তটিই নেবেন এবং তাঁর সততার স্বীকৃতি নিশ্চিত করবেন।

দালাল সিন্ডিকেটের মিথ্যা প্রোপাগান্ডায় প্রভাবিত হলে আমার প্রতি চরম অন্যায় করা হয়ে যাবে।’’ এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদ বলেন, ‘‘২০০৮ সালে জীবনের মায়া ছেড়ে কানাডীয় আইনজীবিকে ভিসা দিয়েছিলাম শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে। একাত্তরে আমরা অস্র জমা দিয়েছিলাম ঠিকই কিন্তু চেতনা বিসর্জন দেইনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আইনী লড়াই নিশ্চিত করতে তখন আমার মধ্যে কোন রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ কাজ করেনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতি অকৃত্তিম ভালোবাসা এবং তাঁর কন্যার প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধাবোধের কারণেই রাষ্ট্রদূত হয়ে রাষ্ট্রদ্রোহিতার ঝুঁকি নিতে কার্পন্য করিনি সেদিন’’। দালালদের মিথ্যা প্রোপাগান্ডার উপর ভিত্তি করে ঢাকায় যেতে হওয়ায় একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোহাম্মদ আজ ভিষন লজ্জিত, ‘যার পর নাই’ অপমানিত।

শনিবার এই প্রতিবেদকের সাথে মুঠোফোনে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদ। আবেগভরা কন্ঠে বললেন, ‘‘ছোট মেয়েটি মাস্টার্সে পড়ছে, সরকারের যে কোন ভুল সিদ্ধান্তে হয়তো তাঁর পড়ালেখা শেষ করার খরচটি যোগান দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে’’। রাষ্ট্রদূতের সাথে কথা বলার পরপরই এই প্রতিবেদক ব্যক্তিগত পরিচয় সূত্রে কথা বলেন ২০০৮ সালের ড. ফখরুদ্দিন সরকারের একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টার সাথেও। তিনি নিশ্চিত করে বলেন, ‘‘শুধুমাত্র একজন মুক্তিযোদ্ধা বলেই আমরা তখন গোলাম মোহাম্মদ সাহেবকে সসম্মানে জর্ডানে ফেরত পাঠিয়েছিলাম।’’ রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদ ইস্যুতে সরকার এ সপ্তাহে কি সিদ্ধান্ত নেন তাই এখন দেখার বিষয়। তবে পর্যবেক্ষক মহলের সচেতন আহবান,

শেয়ার করুন

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here