Noyakhali AL officeRoad Noyakhali

 

 

 

জামাতি তান্ডবে পুড়ে যাওয়া জেলা আওয়ামীলীগ  অফিস                                                                                     জামাত শিবিরের কেটে ফেলা গাছের গোড়া

 

নাসির দ্রুব তারাঃ নোয়খালী  প্রতিনিধিঃ জনতার নিউজ

বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় জামাতি তাণ্ডবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল লক্ষীপুর জেলা । এই জেলায় ভাংচুর, আগুন, সরকারি স্থাপনায় হামলাসহ বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী কেটে ফেলা হয়েছে ৬৮৭টি গাছ । জেলার সদর উপজেলায় ৩১০টি, কমলনগরে ১১০টি, রামগতিতে ১০০টি, রামগঞ্জে ১১৭টি এবং রায়পুরে ৫০টি গাছ কেটে মহাসড়ক অবরোধ করে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। এইসব নাশকতাকে ধর্মীয়ভাবে জায়েজ করে সাধারন মানুষের ভিতর ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরির কাজে এখানকার কিছু মসজিদের ইমাম রেখেছেন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা, এমনকি অংশগ্রহন করেছেন সরাসরি নাশকতায় । তেমনি একজন লক্ষীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চররমিজ ইউনিয়নে অবস্থিত হাসমত আলী মিয়া পন্ডিত বাড়ির জামে মসজিদের ইমাম ছাত্রশিবিরের ক্যাডার আহসান উল্ল্যা । অনুসদ্ধানে বেরিয়ে আসে এই ইমাম সম্পকে চমকপ্রদ তথ্য । বছর পাঁচেক আগে এই আহসান উল্ল্যা বসবাস করতেন রাজধানী ঢাকায়, ছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিজবুত তাহরীর সক্রিয় সদস্য । নিষিদ্ধ ঘোষনার পর সে এলাকায় ফিরে আসে লক্ষীপুরের একটি মাদ্রাসায় ছাত্রত্ব গ্রহন করে এবং পাশাপাশি হাসমত আলী মিয়া পন্ডিত বাড়ির জামে মসজিদ এর পাঞ্জেগানা ইমামের চাকুরী পায় । তার নিয়োগের পর জেলার শিবিরের সক্রিয় নেতাদের আনাগোনা বেড়ে যায় ঐ এলাকায়। উক্ত ইমাম এতটাই বেপরোয়া যে মসজিদের ভেতর মিম্বরের পাশে ঝুলিয়েছেন শিবিরের ক্যালেন্ডার, এছাড়া ও ঝুলিয়েছেন ইসলামী ব্যাংক এর বিভিন্ন সেবাসংবলিত ব্যানার । উক্ত এলাকার বেশ কয়েকজন স্থানীয় লোকজনজনের সাথে আলাপ করে এবং সরজমিনে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় । এলাকার জনৈক দায়িত্বশীল ব্যাক্তি নাম প্রকাশ না করার শতে জনতার কথাকে জানান ঐ ইমাম প্রতি জুম্মার খুতবায় সরাসরি সরকার বিরোধী ও জামতি বক্তব্য একটি নিয়মে পরিনত হয়েছে । তার খুতবা সম্পকে ঐ ব্যাক্তি উদারহন টানতে গিয়ে বলেন রাজাকার দেইল্লা রাজাকারের ছেলের মৃত্যূর পরের জুম্মার খুতবায় এই জামাতি হুজুর বলেন দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলের মৃত্যুতে যারা ইন্নালইল্লা পড়েননি তারা কাফের, এই সরকার আলেম ওলামাদের উপর জুলুম চালাচ্ছে, এই জুলুমবাজ সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো প্রত্যেক মুসলমানের ইমানী দায়িত্ব। উক্ত মসজিদের পাশে ইমামের থাকা ও একটি পাঠাগার বানানো হয়েছে । অভিযোগ রয়েছে ঐ পাঠাগারে মওদুদির বই, জামাতি বই ছাড়া ও রয়েছে সরকার বিরোধী বিভিন্ন বই, লিফলেট, পোস্টার । এই কক্ষেই জামাতি নাশকতার পরিকল্পনা হয় । কিছুদিন আগে ১৮ দলের অবরোধে এই উপজেলায় ১০০টিগাছ কেটে রাস্তা অবরোধ করা হয় । আর এই গাছ কাটার হীন কাজে আহসান উল্ল্যা সরাসরি অংশগ্রহন করে । এই উগ্রপন্থী ইমামকে গ্রেফতার করে জিঞ্জাসাবাদে বেরিয়ে আসবে অনেক জামাতি নাশকতার পরিকল্পনা । তাই এলাকার সচেতন মানুষের দাবী এখনই এই জামাতি ইমামকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নেয়া ।এদিকে নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষীপুরে আওয়ামীলীগ ও এর অংগসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলা ও হত্যার হুমকি অব্যাহত থাকলে ও যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হয়নি উল্লেখযোগ্য কেউ, তিন জেলায় প্রতিদিন ব্যাপক বোমাবাজি চললে ও উদ্ধার হয়নি ব্যাপক কোন বোমা কিবাং বোমা তৈরির সরঞ্জাম । নোয়াখালীর সদর উপজেলার ১নং চরমটুয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতির ছেলে ও ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মনির হোসেনকে স্থানীয় সফি বাজার এলাকায় গুলি করে জখম করেছে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত মনির হোসেন (৩২) ইউপির আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল আলীর ছেলে। সে স্থানীয় যুবলীগের সদস্য। ইউপির আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল আলী ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, শনিবার দুপুরে সন্ত্রাসীরা ইউপির চরবাঞ্চারাম গ্রামের সফিপুর বাজার থেকে মনিরকে তুলে নিয়ে যায় এবং বাজারের পশ্চিম পাশে সড়কের উপর নিয়ে তাকে গুলি করে ফেলে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আব্দুল আলী আরো জানান, মনিরের বাম পায়ের হাটুতে গুলি লেগেছে। তবে, মনিরের জ্ঞান ফেরার পরে তার সাথে কথা বললে জানা যাবে কারা তাকে গুলি করেছে। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন তরফদার জানান, ঘটনাটি আমরা শুনেছি। তবে, এখনো পযর্ন্ত থানায় কোন অভিযোগ আসেনি। এছাড়াও জেলা শহর মাইজদীর হাউজিং এস্টেট সেন্টাল রোড এলাকায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি পিকআপ ভ্যান জ্বালিয়ে দিয়েছে দুবৃর্ত্তরা। পিকআপ ভ্যানের মালিক যুবলীগ কর্মী হারুন জানান, পিকআপ ভ্যানটি তার হাউজিংয়ের বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে অন্যান্য দিনের মত রাখা ছিলো। বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে কয়েকজন দুবৃত্তরা গাড়িটিতে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘন কুয়াশার কারণে দুর্বৃত্তদের কাউকে চেনা যায়নি। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন তরফদার এই নোয়াখালী সদর ও চরজব্বর থানা মিলিয়ে নোয়াখালী-৪ আসনে দায়িত্বরত রয়েছেন ৮বছরের কাছাকাছি । বিগত জামাত-বিএনপি জোট ক্ষমতার শেষসময় সাবেক বিএনপি সাংসদের মাধ্যমে সুধারাম মডেল থানায় পোস্টিং পেলেও বতমান সরকারের আমলে এই আসনের আওয়ামীলীগের নবনির্বাচিত এমপির আনুকূল্যে তিনি আছেন বহাল তবিয়তে । সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)হিসেবে দায়িত্বরত অবস্থায় বিগত ৬ই ডিসেম্বার ২০১১ইং তারিখে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সমাহিত করার আগে রাষ্ট্রীয় সন্মান দেননি এই ওসি । এই বিষয়ে তখন সরাসরি মাননীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব, এডভোকেট শামছুল হক টুকু সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠনের নিদেশ দেন এবং তদন্তে ওসি মোশাররফ হোসেন তরফদার দোষী প্রমাণিত হয় । কিন্তু অদৃশ্য মহলের ইশারায় তিনি বহাল থাকেন । এর কিছুদিন পর জেলা আওয়ামীলীগ অফিস ভাংচুরের সময় ঘটনাস্থলে নির্লিপ্ত দাঁড়িয়ে থাকার অভিযোগে তখনকার পুলিশ সুপার জনাব হারুনুর রশিদ হাজারী তাকে প্রথম পুলিশ লাইনে ক্লোজ এবং পরেরদিন বান্দরবন শাস্তিমূলক বদলি করা হয় । কিন্তু সকল বিধিবিধান ডিঙ্গিয়ে মাত্র ১৫ থেকে ১৬ দিনের মাথায় পুনরায় নোয়াখালী-৪ আসনের অপর থানা চরজব্বর থানায় ফেরত আসেন । বিগত ২৫শে আক্টোবর তারিখ জেলা আওয়ামীলীগ অফিস জামাতি তাণ্ডবের স্বীকার হলে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহিদুল হক রনিকে ক্লোজ করে চরম নাটকীয়ভাবে মোশাররফ হোসেন তরফদারকে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)হিসেবে পদায়ন করা হয় । পুলিশ মহলে জামাতি আদশের লোক হিসেবে পরিচিত এই মোশাররফ হোসেন তরফদার জামাত জোট আমলে মতিঝিল থানার এসআই থাকা অবস্থায় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন সবার জানা । মহাজোট সরকারের ৫বছরে বিশেষ মহলের কথায় অভিযোগ ব্যাতিত নোয়াখালী শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাধারন সম্পাদকসহ আওয়ামীলীগের অংগ সহযোগী সংগঠনের কমপক্ষে ৫০জন নেতাকর্মীকে থানায় ধরে এনে নির্যাতন করেছেন এই পুলিশ কমকতা । বিএনপির সাবেক এমপির সাথে সখ্যতা ওপেন সিক্রেট। তাই এই ওসিকে অপসারন ছাড়া এই এলাকায় জামাতি নাশকতা নিমূল কল্পনাপ্রসূত।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here