runews

সহকর্মীর গবেষণা কর্ম জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের গবেষণায় ব্যবহারের দায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ১০ বছরের শাস্তি দিয়েছে সিন্ডিকেট। শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিন্ডিকেট সভাপতি অধ্যাপক মু. মিজানউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৪৫৬ তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষক কৃষ্ণপদ মণ্ডল সঙ্গীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই শিক্ষক শুধু বিভাগের ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। কিন্তু তিনি কোনো প্রকার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডেÑ এমনকি পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো কাজেও অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এই সময়ে তিনি পদোন্নতিও পাবেন না।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মামুন হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত এবং একই বিভাগের শিক্ষক আবদুল মাজেদ চৌধুরীকে শোকজ করা হয়েছে। পরীক্ষার খাতা হারানোর অভিযোগে মামুন হোসেনকে এবং চাকরি দেয়ার শর্তে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মাজেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে উপরোক্ত ব্যবস্থা ছাড়াও উভয়ের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তের জন্য পৃথক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

জানা গেছে, বিভাগীয় শিক্ষক ড. অসিত রায়ের গবেষণাকর্ম জালিয়াতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল। ওই কমিটির প্রতিবেদনে আগামী ১০ বছর কৃষ্ণপদ মণ্ডলের সকল প্রকার পদোন্নতি, পরীক্ষা, গবেষণার তত্ত্বাবধান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

এ বিষয়ে অসিত রায় বলেন, কৃষ্ণপদ মণ্ডল ‘বাংলার রাজসঙ্গীত, দ্বিতীয় খণ্ড’ নামে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে একটি বই বের করেন। ওই বইয়ের বেশ কিছু অংশে তার পিএইচডি’র গবেষণাপত্র থেকে লেখা হুবহু তুলে দিয়েছেন। কিন্তু তার কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি, এমনকি রেফারেন্সও দেয়া হয়নি। এ কারণে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন।

অভিযুক্ত  শিক্ষক কৃষ্ণপদ মণ্ডল বলেন, ‘শাস্তির বিষয়ে তিনি  কিছু জানেন না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যা ভালো মনে করেছে তাই করেছে।’

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here