RAJSHA2
রাজশাহী নগরের কাজলা এলাকায় আজ শনিবার বিকেলে র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শিবিরের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে দুই পুলিশসহ উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনকে আটক করেছে।
শিবিরের নিহত কর্মীর নাম রাশেদুল ইসলাম (৩০)। তাঁর বাড়ি নগরের ডাঁশমারী এলাকায়। তিনি নগরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ড শিবিরের অর্থ সম্পাদক। তাঁর বাবার নাম আমিনুল ইসলাম। সংঘর্ষে আহত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন মতিহার জোনের উপপুলিশ কমিশনার প্রলয় চিসিম, মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সোবহান।এ ছাড়া এতে মতিহার থানা বিএনপির সভাপতি আনছার আলীও আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কাজলা এলাকায় ১৮ দলের সমাবেশে নেতা-কর্মীরা মিছিল ও ব্যানার নিয়ে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় শিবিরের কর্মীদের ব্যানার নিয়ে র‌্যাবের সঙ্গে হাতাহাতি হয়। একপর‌্যায়ে ১৮ দলের সমাবেশে আসা বিএনপির কর্মীরাও সংঘর্ষে যোগ দেন। ওই সময় সমাবেশে দায়িত্বরত পুলিশের সদস্যরা র‌্যাবের সঙ্গে যোগ দেন। দুপক্ষের মাঝে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। ১৮-দলীয় কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য ইটপাটকেল ও ককটেল ছোড়েন। পুলিশ ও র‌্যাব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। আধা ঘণ্টা পর বিকেল পাঁচটার দিকে ১৮-দলীয় কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান।রাজশাহী নগরের কাজলায় পুলিশের সঙ্গে শিবিরের সংঘর্ষ। ছবি: শহীদুল ইসলাম
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সোবহান বলেন, ছাত্রশিবিরের কর্মীরা আসার সময় র‌্যাবের গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল ছুড়লে র‌্যাব তাদের ধাওয়া করে। তখন র‌্যাবের সঙ্গে শিবিরের কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক জিয়া উদ্দিন সাংবাদিকদের মুঠোফোনে জানান, তাঁদের একজন নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে তিনি নিজেসহ কমপক্ষে ২০ জন রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন। তিনি জানান, নগরের নওদাপাড়ায় ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁদের নয়জন চিকিত্সাধীন। সেখানেই রাশেদুলের লাশ রয়েছে।
সন্ধ্যায় সেখানে গিয়ে জানা যায়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তাঁর লাশ রয়েছে। নগরের রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ বি এম রেজাউল ইসলাম রাশেদুলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, তাঁর লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নগরের মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুস সোবহান বলেন, শিবিরের ছোড়া ককটেলের স্প্লিন্টারে তিনি এবং মতিহার জোনের উপকমিশনার আহত হয়েছেন।

প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

সংঘর্ষে দলের কর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে সন্ধ্যা সাতটার দিকে শিবিরের কর্মীরা নগরের কাদিরগঞ্জ এলাকায় রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের সামনে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় বোয়ালিয়া থানার পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, শিবিরের কর্মীরা ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটালে পুলিশ প্রায় ৫০টি রাবার বুলেট ছোড়ে। এ সময় শিবিরের কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তিনি বলেন, ধাওয়া দেওয়ার সময় বিদ্যুত্ চলে যাওয়ার কারণে তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here