1385235225.বিএনএফ কোনো ভুঁইফোড় সংগঠন নয় দাবি করে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, বিএনএফের নিবন্ধন না দিতে বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে। বিএনএফ কারো পক্ষ নয়, রাজনীতিতে ফ্যাক্টর হতে চায়। বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টির সঙ্গে আমাদের কোনো বৈরিতা নেই। বিএনএফ নির্বাচনে অংশ নেবে বলেও জানান তিনি। গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পাওয়ার পর প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এদিকে, প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই নাম ঘোষণা নিয়ে হাতাহাতি হয়। পরে তা বহিষ্কার পর্যন্ত গড়ায়।
এরশাদের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে আবুল কালাম আজাদ বলেন, এরশাদ পাকা প্ল্যানার। সর্বদলীয় জোটে ঢোকার সময় এরশাদ বলেছেন, যে কোনো সময় বের হয়ে যেতে পারি। তিনি প্ল্যান করে বিএনপিকে
বাইরে রেখে নির্বাচনে আসতে চাইছেন। ওনার প্ল্যান আমরা বুঝে গেছি। কোনোদিন তা বাস্তবায়ন হবে না। বিএনএফ থাকতে এরশাদ ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার যে পরিকল্পনা করছেন তা কোনোদিন সফল হবে না। সর্বদলীয় সরকার নিয়ে তিনি বলেন, এটি সর্বদলীয় নয়। মহাজোট সরকারের সংস্কার মাত্র। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জনগণের ওপর আস্থা থাকলে নির্বাচনে আসতে বাধা কোথায়। নির্বাচন দেরি হলে শেখ হাসিনার মসনদ দীর্ঘায়িত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচন নিয়ে আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য দুই দলের সমঝোতা ও সংলাপে মধ্যস্থতায় অবতীর্ণ হতে চায় বিএনএফ। সমঝোতার জন্য আমরা বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চাই। আমরা এ সমঝোতার উদ্যোগ গ্রহণে প্রস্তুত আছি, পাশাপাশি দুই জোটের মধ্যে সমঝোতা করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
বিএনএফের উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক আন্দোলন নয়, বিএনএফের আদর্শ হবে নতুন ধারার রাজনীতি করা। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এক সঙ্গে হওয়া। রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতায় ভারসাম্য থাকা।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। তাই তফসিল ঘোষণার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে যেদিনই তফসিল ঘোষণা হোক বিএনএফ নির্বাচনে অংশ নেবে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনএফের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে অধ্যাপিকা জাহানারা বেগমকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
প্রথম সংবাদ সম্মেলনে হাতাহাতি, বহিষ্কার : ১৮ নভেম্বর নিবন্ধন ও টেলিভিশন প্রতীক পায় বিএনএফ। গতকাল শনিবার সকালে প্রথম সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সম্মেলনের শুরুতে নাম ঘোষণা ও বেশকিছু বিষয় নিয়ে হট্টগোল শুরু হয়। বিএনএফের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিসের নাম কয়েকজনের পরে ঘোষণা করায় হট্টগোল, বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়।
বিএনএফ প্রধান আবুল কালাম আজাদ এ সময় মাইকে ঘোষণা করে বলেন, আমি পার্টির প্রধান হিসেবে আপনাকে (খান মজলিস) সংবাদ সম্মেলনস্থল থেকে বের হয়ে যেতে বলছি। এ সময় মজলিসের লোকজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। মজলিস চেয়ার ছাড়তে না চাইলে আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা তাকে বের করে দেন।
পরে আবুল কালাম আজাদ ঘোষণা দেন, ‘আপনাকে (মজলিস) পার্টির কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হলো। একই সঙ্গে প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হলো।’ তিনি বলেন, মজলিস বিএনএফে অনুপ্রবেশকারী ও নাজমুল হুদার লোক।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here