new

পিনাকি দাসগুপ্ত

আজ রবিবার রাজধানীতে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিকে কেন্দ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা থাকবে কঠোর অবস্থানে। নগরীর কোন এলাকায় কেউ জড়ো হবার চেষ্টা করলে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে এ্যাকশনে যাবে। পুলিশ ও র্যাবের পাশপাশি মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি। তাছাড়া সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছে বিপুলসংখ্যক গোয়েন্দা সদস্য। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রাখা হয়েছে র্যাবের এয়ার ইউনিট।

গতকাল সকাল থেকেই নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ ীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের জলকামান ও সাজেয়া যান অবস্থান নিয়েছে। আশপাশের গলির রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়েছে পুলিশ। গোটা নয়াপল্টন এলাকায় কয়েক স্তর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে পুলিশ। নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে হয়েছে যান চলাচল। নাইটিঙ্গেল ও ফরিকাপুল মোড়ে বসানো হয়েছে চেক পোস্ট। অন্যদিকে রাজধানীর প্রবেশপথ কমলাপুর রেল স্টেশন, উত্তরার আব্দুল্লাহপুর যাত্রাবাড়ী, গাবতলী, সদরঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। যাকে সন্দেহভাজন মনে করছে তাকেই তল্লাশি করছে পুলিশ।

নগরবাসীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এ আশংকায় শুক্রবার জোটকে রাজধানীর নয়পল্টনে গণজমায়েতের অনুমতি না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গণজমায়েতের ব্যাপারে আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার জানান, কর্মসূচির নামে কেউ যদি ফৌজদারি আইন লঙ্ঘন করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। গণগ্রেফতার সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন, গণগ্রেফতার করা হচ্ছে না। যারা নাশকতার সঙ্গে জড়িত তাদেরকেই গ্রেফতার করা হচ্ছে।

পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রসাশন) এ কে এম শহিদুল হক জানান, আমরা চাই না, অবৈধ সমাবেশে কেউ যোগ দিক। তারপরও যারা সমাবেশে যোগ দেবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও জানান, যারা গত কয়েক মাসে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির করেছে, গাছ কেটেছে, নাশকতা করেছে, তারাই আবার ঢাকায় এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি চেষ্টা করছে। পুলিশ তাদের এ সুযোগ দেবে না।

ঢাকা মেট্রোপলিপন পুলিশের মুখপাত্র যুগ্ম-কমিশনার (গোয়েন্দা) মনিরুল ইসলাম জানান, জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সতর্কাবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। র্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সদস্যরাও টহলে রয়েছেন। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান জানান, রাজধানীতে পুলিশের পাশাপাশি র্যাবের আড়াই হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। কেউ নাশকতা বা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির চেষ্টা করলে র্যাব সদস্যরা কঠোর হস্তে তা মোকাবেলা করবে। র্যাবের হেলিকপ্টার টহল থাকবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, র্যাবের এয়ার ইউনিট স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে যাতে কোন ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব হলে সঙ্গে সঙ্গে মুভ করতে পারে।

ডিএমপির মাঠ পর্যায়ের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ ীয় কার্যালয় এলাকায় কাউকেই প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। নগরীর অন্য এলাকায় জড়ো হবার চেষ্টা করলেও পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে এ্যাকশনে যাবে। এভাবেই ডিএমপি সদর দফতর থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৩০ এপ্রিল তত্কালীন বিরোধীদল আওয়ামী লীগ রাজধানীতে গণজমায়েত কর্মসূচি দিয়েছিল। ঘোষণা দেয়া হয়েছিল ১০ লাখ লোকের সমাগম হবে। ঐ সময়ও ঢাকা মেট্রোপিলটন পুলিশ গণজমায়েতের অনুমতি দেয়নি। কর্মসূচি প্রতিরোধে পুলিশ বাস, ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়। পুলিশ দেশব্যাপী গণগ্রেফতার চালায়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রেকর্ড থেকে জানা যায়, আওয়ামী লীগের ডাকা গণজমায়েতের আগের দিন ২৯ এপ্রিল (২০০৪ সাল) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছিল ১৭শ’ ব্যক্তিকে যাদের অনেকেই ছিল পথচারী।

 

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here