PM mবিরোধী দলের ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে গভীর ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব নয়, শান্তি চান। আজ রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে খতিব ও শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামদের জাতীয় সম্মেলনে ভাষণে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। খবর বাসস ও ইউএনবির।

‘বিএনপি ও জামায়াত ক্যাডাররা এখন হরতালের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারছে’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বাস করেন, যখন দেখি এভাবে মানুষ পোড়ায়, তখন এত কষ্ট লাগে, মনে হয় প্রধানমন্ত্রিত্ব দরকার নাই। আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না। মানুষের শান্তি ও উন্নয়ন চাই। মানুষের এত কষ্ট সহ্য হয় না।’ ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী হাবিবুল আওয়াল স্বাগত বক্তব্য দেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম মোহাম্মদ আফজাল, জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমাম মাওলানা মো. নিজামউদ্দিন নোমানী ও জাতীয় খতিব সম্মেলনের আহ্বয়ক মাওলানা জালালউদ্দিন কাদেরী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত ক্যাডাররা পেট্রল ঢেলে ঘুমন্ত মানুষকে হত্যা করছে। এ ধরনের নৃশংসতা সহ্য করা যায় না। সাম্প্রতিক হরতালের সময় বিএনপি-জামায়াতের নির্মমতায় নিহত ১৫ বছরের শিশু মনির হোসেনের কথা উলে­খ করে তিনি বলেন, ‘তাদের ক্যাডাররা মানুষকে অগ্নিদগ্ধ হতে দেখে হেসেছে।’

শেখ হাসিনা হরতাল প্রত্যাহারের জন্য গত ২৬ অক্টোবর বিরোধীদলীয় নেতাকে তাঁর টেলিফোন করার কথা আবার উল্লেখ করে বলেন, ‘বিরোধী দলের নেতা হরতাল প্রত্যাহারে আমার অনুরোধ রাখেননি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধে মরিয়া হয়ে উঠেছে। মানুষের কল্যাণে এ বিচার সম্পন্ন হতে হবে। … কারণ, যুদ্ধাপরাধীরা গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ এবং মা-বোনদের সম্ভ্রমহানির মতো অপরাধ করেছে। বাংলার মাটিতে তাদের বিচার হতেই হবেই।’

‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। এখানে সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই’ উল্লেখ করে যারা তাদের অপতত্পরতার মাধ্যমে ইসলামকে জঙ্গিবাদী ধর্মে পরিণত করে ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চায় ও মানুষের ওপর নির্মমতা চালায়, তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী আলেম, উলেমা, খতিব ও ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত আজ এক হয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বন্ধের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ছিল অন্যতম শর্ত। এজন্য যেকোনো মূল্যে এই বিচার বাংলার মাটিতে বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলামে মিথ্যার কোনো স্থান নেই। কিন্তু আজকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল আওয়ামী লীগের নামে অপপ্রচারে নেমেছে। এরা পবিত্র কোরআন শরিফ পোড়ায়। মসজিদ ভাঙচুর করে। ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করে। অথচ পবিত্র ইসলাম এ ধরনের কাজের অনুমোদন দেয় না।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার সব সময়ই ছিল। কিন্তু মিথ্যার বিজয় সব সময় হয় না। আজ জনগণের কাছে স্পষ্ট যে, এ দেশের মানুষের আর ইসলামের প্রকৃত উন্নয়ন আওয়ামী লীগের দ্বারাই হয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী জাতীয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমাম এবং শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here