new

যৌন হয়রানি করার অভিযোগে মাগুরা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন এক নারী। নিজেকে নুরুল ইসলামের গৃহকর্মী দাবি করে ৪২ বছর বয়সী ওই বিধবা নারী আজ বুধবার মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি করেন।

তবে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর দাবি, মামলার বাদী তাঁর গৃহকর্মী নন এবং তিনি তাঁকে যৌন হয়রানিও করেননি। তাঁকে অপদস্ত ও হয়রানি করতেই একটি মহল ওই নারীকে দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করিয়েছে।

মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাগুরা এলজিইডি কার্যালয়সংলগ্ন নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলামের সরকারি বাসভবনে গৃহকর্মীর কাজ করেন। বাদীর ভাষ্যমতে, নুরুল ইসলাম স্ত্রী-সন্তান নিয়ে যশোরে থাকেন। মাঝেমধ্যে মাগুরায় বেড়াতে আসেন এবং সরকারি বাসভবনে থাকেন। ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে তিনি রান্না করছিলেন। এ সময় নুরুল ইসলাম তাঁর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। তাঁর (গৃহকর্মী) চিত্কারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে সম্ভ্রমহানির হাত থেকে রক্ষা পান তিনি।

ওই নারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই ঘটনার পর আমি নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা করতে সদর থানায় গিয়েছিলাম। কিন্তু থানার পুলিশ মামলা নেয়নি। তাঁরা আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। এ কারণে আমি আদালতে মামলা করেছি।’
বাদীর আইনজীবী আ খ ম মোখলেছুর রহমান বলেন, শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ মো. আমিনুল ইসলাম অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম  বলেন, ‘স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আমি সরকারি বাসভবনে থাকি। যশোরে আমার স্ত্রী-সন্তান থাকার বিষয়টি ঠিক নয়।’ তিনি বলেন, ওই নারীও তাঁর বাসার গৃহকর্মী নন। ওই নারী এলজিইডির রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে নারীকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। গত বছরের জুন মাসে ওই প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেলে তাঁর মতো অনেক নারীকর্মী চাকরি হারান।

নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ওই নারীর এক ভাই এলজিইডি কার্যালয়ে বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত। তিনি তাঁর ভাইয়ের কাজে সহযোগিতা করতেন।’
নির্বাহী প্রকৌশলীর দাবি, তাঁকে হয়রানি করতেই মামলাটি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কাজ বুঝে নেওয়ার ব্যাপারে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নির্দেশ রয়েছে। ঢাকা থেকে তাঁরা প্রায়ই সরেজমিনে কাজ দেখতে আসেন। ইদানীং

এলজিইডির সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কাজ ঠিকমতো না করে বিল তোলার জন্য কয়েকজন ঠিকাদার আমাদের ওপর খুব চাপ সৃষ্টি করছেন। কিন্তু আমরা কাজের মান নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে কঠোর। কাজ ঠিকমতো বুঝে না নিয়ে বিল উত্তোলনে ঠিকাদারকে সহযোগিতা করায় কিছুদিন আগে আমরা দুই উপসহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। এসব কারণে ক্ষুব্ধ ঠিকাদারেরা আমাকে হেয় ও হয়রানি করতে ওই মামলা করেছেন। ওটা নিয়ে আমি চিন্তিত নই।’
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ হাসেম বলেন, আদালতে ওই মামলা দায়ের হওয়ার ব্যাপারে আমি এখনো কিছু জানি না। আদালতের নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here