জনতার নিউজ

যুদ্ধাপরাধী ফাঁসির বদলা নিতে জেএমবি নামিয়েছে জামায়াত

 দেবীগঞ্জের সন্তগৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ পুরোহিত মহারাজ যজ্ঞেশ্বর রায়কে (৫০) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ২০০৫ সালের ১৭ আগস্টের বোমা হামলা মামলার আসামি জেএমবির সদস্য খলিলুর রহমান ওরফে খলিল প্রধান, বাবুল হোসেন ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হত্যা মামলায় ১০ দিন ও বিস্ফোরক মামলায় ৫ দিন মোট ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে জেলা প্রশাসক অফিসে স্থাপিত দেবীগঞ্জ আদালত। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেছে, যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় কার্যকর করার প্রতিশোধ নিতে জঙ্গী সংগঠন জেএমবি’র সদস্যদের মাঠে নামিয়েছে জামায়াত-শিবির। পঞ্চগড় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ঢাকার পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা এই ধরনের তথ্যের কথা জানিয়েছেন।

 দুপুর প্রায় পৌনে একটা। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক অফিসে স্থাপিত দেবীগঞ্জ আমলী আদালত-০৪। আদালতের বাইরে প্রাঙ্গণে উৎসুক জনতার ভিড়। বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি। হেলমেট ও পুলিশের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে আনা হয় পুরোহিত হত্যার তিন আসামিকে। এই তিন আসামি হচ্ছে দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ প্রধানপাড়া এলাকার মৃত তাজউদ্দিনের ছেলে জেএমবি সদস্য খলিলুর রহমান ওরফে খলিল প্রধান (৫৮), একই উপজেলা সদরের কামাতপাড়া মহল্লার রফিকুল ইসলামের ছেলে শিবির কর্মী জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) ও পাবনা জেলার আটঘরিয়া এলাকার মৃত আবু সাইদের ছেলে জেএমবি সদস্য বাবুল হোসেন (৩৫)। এদের মধ্যে জেএমবি সদস্য খলিলুর রহমান ২০০৩ সালে পঞ্চগড় শহরের ধাক্কামারা এলাকা থেকে গ্রেফতারকৃত ৪ জেএমবি সদস্যের জামিনদাতা এবং ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা মামলার আসামি। কড়া পুলিশ প্রহরায় তিন আসামিকে হাজির করা হয় আদালতে।

১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর ॥ জেলা প্রশাসক অফিসে স্থাপিত দেবীগঞ্জ আমলী আদালত-০৪ এ পুরোহিত হত্যার তিন আসামিকে হাজির করে দেবীগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত দুই মামলায় রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আইয়ুব আলী। পুরোহিত হত্যা ও বিস্ফোরক, এই দুই মামলায় ১০দিন করে ২০দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ সময় বাদীপক্ষে মামলার শুনানিতে অংশ নেন পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান, কোর্ট ইন্সপেক্টর রবিউল ইসলাম। তবে আসামিপক্ষে কোন আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেননি। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোছাঃ মার্জিয়া খাতুন বাদী পক্ষের শুনানি শেষে হত্যা মামলায় প্রত্যেকের ১০ দিন এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় ৫ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড মঞ্জুর করার পর পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে পুরোহিত হত্যার জেএমবি সদস্য ও ছাত্রশিবিরের সদস্য তিন আসামিকে।

হত্যা ও বিস্ফোরক দুই মামলা ॥

গত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিন সকালে দেবীগঞ্জ উপজেলার করতোয়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে অভিরাম পাড়ায় অবস্থিত শ্রী শ্রী সন্তগৌড়ীয় মঠে একটি মোটরসাইকেলে তিন দুষ্কৃতকারী প্রবেশ করে পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর দাসাধিকারীকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে। দুর্বৃত্তদের গুলিতে ও ককটেল বিস্ফোরণে আরও দু’জন আহত হন। এ ঘটনায় নিহত পুরোহিতের বড়ভাই রবীন্দ্রনাথ বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা এবং পুলিশের এসআই মজিবর রহমান বাদী হয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেন। নৃশংস এই হত্যাকান্ডের পর পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গত দুদিনে ৪ জনকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে খলিল প্রধান, জাহাঙ্গীর ও বাবুল হোসেনকে দায়েরকৃত মামলা দুটিতে গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করলেও আটক রাজশাহী ইউনিভার্সিটির ছাত্র নাজমুল সাকিব মুনকে (২৮) এখনও কোন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়নি। নাজমুল সাকিব মুনের বাড়ি দেবীগঞ্জ উপজেলা সদরের শাহাপাড়া গ্রামে। তবে, তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের একটি বিশস্ত সূত্র জানিয়েছে, মুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কে এই খলিল প্রধান ॥ খলিলুর রহমান ওরফে খলিল প্রধান (৫৮)। তার বাড়ি- দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউপির প্রধানপাড়া গ্রামে। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মৌলবাদী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এছাড়াও ওই সময়ে নিষিদ্ধ ইসলামী জঙ্গী সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীনের (জেএমবি) জঙ্গী কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে পঞ্চগড় শহরের ধাক্কামারা এলাকা থেকে ৪ জেএমবি ক্যাডারকে আটক করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ৪ জেএমবি সদস্যের আদালতে মামলা চলার সময় তাদের মামলা পরিচালনায় আইনজীবী নিয়োগসহ জামিনদার হিসাবে ওই ৪ জঙ্গীকে জামিনে মুক্ত করে আনতে সাহায্য করেন তিনি। এরপরই খলিল প্রধানের আসল মুখোশ উন্মোচিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। কিন্তু তৎকালীন পুলিশের দুর্বল চার্জশীট ও সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে মামলা থেকে অব্যাহতি পান। এরপরই ভোল পাল্টিয়ে সেই জঙ্গী নেতা খলিল প্রধান স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী বনে যান। দেবীগঞ্জের শ্রী শ্রী গৌড়ীয় মঠ মন্দিরের পুরোহিত হত্যাকা-ের ঘটনা ও খলিল প্রধান গ্রেফতারের পর নানা চাঞ্চল্যকর খবর মিলছে। ২০০৩ সালে জেএমবির ৪ সদস্য গ্রেফতারের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্থানীয় কতিপয় জামায়াত নেতার ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কারণ পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওই ৪ জঙ্গী জানায়, সে সময় পঞ্চগড় স্টেডিয়ামে চলমান বাণিজ্যমেলায় বোমা মারার উদ্দেশ্যে এক জামায়াত নেতার নির্দেশে খলিল প্রধান ৪ জেএমবি সদস্যকে পঞ্চগড়ে নিয়ে আসে।

যা বলেন কর্মকর্তারা ॥ পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, দুষ্কৃতকারীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতেই এই হত্যাকা- চালিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। পুলিশ সুপার গিয়াস উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, কারা হত্যাকারী এবং কী কারণে এমন হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারী খুঁজে বের করা হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দেবীগঞ্জ থানার ওসি বাবুল আক্তার বলেছেন, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে হিন্দু ধর্মগুরু যজ্ঞেশ্বর রায়কে গলা কেটে হত্যায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এদের দুজন ‘জেএমবি সদস্য’ এবং অন্যজন ইসলামী ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতা বলে দাবি করেছেন তিনি। ঘটনার পর থেকে সোমবার পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জেএমবি সদস্য খলিলুর ও বাবুল এবং শিবির নেতা জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় দুটি মামলা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই রবীন্দ্রনাথ একটি হত্যা মামলা করেছেন। অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে পুলিশ অন্য মামলাটি করে। দুটি মামলাতেই অজ্ঞাত পরিচয়ের তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধাপরাধীর বিচার, বিচারের রায় কার্যকর করার পর থেকে ষড়যন্ত্র চরম আকার ধারণ করেছে। ষড়যন্ত্রের ছক তৈরি করে মদদ দিচ্ছে জামায়াত-শিবির। তাদের সহায়তা করছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের এক শ্রেণীর কর্মকর্তারা। তারাই জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমসহ জঙ্গী সংগঠনগুলোকে মাঠে নামিয়েছে। উদ্দেশ্য, সরকার উৎখাত ও বেকায়দায় ফেলা। বিদেশী হত্যাকা-, মন্দির, মসজিদ, গির্জায় হামলা-হত্যা, এমনকি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও হত্যা করানোর মাধ্যমে ভয়ভীতি আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জঙ্গী গোষ্ঠীর সংগঠনগুলোর মেরুদ- ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে।

আইএস-এর নামে আবারও প্রচারণা ॥ বিদেশী হত্যা এবং আহমদিয়া মসজিদ ও শিয়া সমাবেশে হামলার মতো পঞ্চগড়ের পুরোহিত খুনের দায় স্বীকার করেও আইএসের নামে বার্তা এসেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর এসেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এই জঙ্গী সংগঠনের তৎপরতা বাংলাদেশে নেই বলে বরাবরের মতোই এবারও দাবি করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। তবে জেএমবি ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এই দুই জঙ্গী সংগঠনই একেক সময়ে একেক নামে হত্যা হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে। দেশীয় জঙ্গী সংগঠনগুলো তাদের সন্ত্রাসী কর্মকা- ধামাচাপা দিয়ে দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর লক্ষ্যে আইএস-এর নাম ব্যবহার করছে। এর সঙ্গে বিদেশী ষড়যন্ত্রও জড়িত আছে বলে মনে করেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সারাদেশ থেকে ত্রিশজনের মতো আটক হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে দেখা গেছে, জেএমবি এবং হরকত-উল-জিহাদসহ দেশীয় জঙ্গীরাই ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে। তাদের সঙ্গে আইএস বা আন্তর্জাতিক জঙ্গীদের আদর্শ কাছাকাছি হলেও কোন যোগাযোগ নেই। ফলে বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্বের কোন তথ্য প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

মন্দির, মসজিদ ও গির্জা টার্গেট ॥ গত অক্টোবর মাস থেকে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটছে। শান্তিপ্রিয় এলাকা হিসেবে পরিচিত দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোয় এ ঘটনা ঘটেছে। মসজিদ, মন্দির, চার্চ ও বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয় হামলাকারীদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর ঈশ্বরদীর ব্যাপটিস্ট মিশনের ‘ফেইথ বাইবেল চার্চ অব গড’-এর পাদ্রীলুক সরকারকে শহরের নিজের ভাড়া বাসায় গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ১৮ নবেম্বর দিনাজপুর শহরের মির্জাপুর বিআরটিসি বাসডিপোর সামনে ফাদার পিয়ারো পারোলারি নামে এক ইতালীয়কে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

পিয়ারো পারোলারি পেশায় চিকিৎসক এবং শহরের সুইহারী ক্যাথলিক মিশন চার্চে ৩০ বছর ধরে কর্মরত ফাদার। ২৬ নবেম্বর বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার হরিপুর গ্রামে শিয়া মুসলিমদের আল মোস্তফা মসজিদে দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে মসজিদের মুয়াজ্জিন নিহত এবং তিনজন আহত হন। এশার নামাজ আদায়ের সময় সিজদারত অবস্থায় তাদের ওপর গুলি করা হয়। গত ২৫ নবেম্বর সন্ধ্যায় রংপুরের ব্যাপটিস্ট চার্চ সংঘের ফাদার রেভারেন্ড বার্নাবাস হেমব্রেসহ ১০ জন পাদ্রীকে চিঠি লিখে হত্যার হুমকি দেয় দুর্বৃত্তরা। ২৩ অক্টোবর বোমা হামলায় রক্তাক্ত হয় রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল। এতে মারা যান দুজন, আহত হন প্রায় দেড় শ’ ব্যক্তি। রংপুরে কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চেতার মোড়ে ১০ নবেম্বর মধ্যরাতে মাজারের খাদেম রহমত আলীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ বোস্তামী থানার বাংলাবাজারে মাজারে ঢুকে দুজনকে নৃশংসভাবে জবাই করে খুন করা হয়। এ ছাড়াও ঢাকার বাড্ডা এলাকায় পীর খিজির খান, রাজাবাজারে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নুরুল ইসলাম ফারুকী, গোপীবাগে কথিত পীর লুৎফুর রহমানসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনা ঘটে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here