new

নাসির দ্রুব তারা। জনতার নিউজঃ

৫ই ফ্রেরুয়ারী ২০১৩ কসাই কাদের মোল্লার অনাকাক্ষিত একটি রায় হতবিহবল, বিক্ষুদ্ধ করে দেয় স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী সকল মানুষদের । ঠিক তাদের আগের দিন ৪ই ফ্রেরুয়ারী ঢাকা থেকে নোয়াখালী ফিরে আসি । ব্লগার এন্ড অনলাইন একটিভিষ্ট নের্টওয়াক এর উদ্দ্যেগে ১লা ফ্রেরুয়ারী সুফিয়া কামাল জাতীয় গ্রন্থাগার ও মিলনায়তনে বাংলা ব্লগ দিবস পালিত হয় । উক্ত আয়োজনের আয়োজকদের মধ্যে ছিলাম আমিও একজন । মাত্র নিজ এলাকায় ফিরে এ ধরনের রায় সবার মত আমাকেও করে প্রচন্ড মর্মাহত ও বিক্ষুদ্ধ । সবার মত আমি ও চিন্তা করছিলাম কি করা যায় । এরেই মাঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে একটি ইভেন্ট দেখে কিছুটা সজীবতা ফিরে পেলাম । ইভেন্টটি ছিল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবীতে শাহাবাগে গনঅবস্থান । যা পরবর্তীতে সকল শ্রেনী,পেশার স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী সকল মানুষদের অংশগ্রহনে হয়ে উঠে গনসমুদ্রে । আমার নিজ জেলায় এর পরদিন অথাৎ ০৬ ফ্রেরুয়ারী মাগরিবের নামাযের পর আমার মা (মহিলা আওয়ামীলীগ নোয়াখালী জেলার সাধারন সম্পাদক) মোবাইল ফোনে জানান একই দাবীতে নোয়াখালী স্মৃতি স্তম্ভে মোমবাতি প্রজ্বলন সহ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে । তড়িগড়ি করে নিজের বন্ধুবান্ধব যাকে পেয়েছি তাকে নিয়েই পৌছে যাই নোয়াখালী জর্জকোট রোডে অবস্থিত স্মৃতি স্তম্ভে । তখন প্রায় ৮০/১০০ জন ইতিমধ্যে জড়ো হয়েছেন সেখানে । সবচেয়ে পুলকিত হয়েছি যেটা দেখে তাহলো, প্রথম দিনের এ মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও বিক্ষোভ মিছিলে স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সমবেতভাবে অংশগ্রহন ও বীরমুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতি । তার পরের এই গনজাগরন মঞ্চের ইতিহাস সবারই জানা । শাহাবাগ গনজাগরন সহ সব জেলায় স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী সকল ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতৃত্বে সমবেত হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা, সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সহ সকল শ্রেনী পেশার মানুষ । সকলের মুখে একি স্লোগান কসাই কাদের ফাঁসি চাই, ক তে কাদের মোল্লা তুই রাজাকার তুই রাজাকার, গ তে গোলাম আজম তুই রাজাকার তুই রাজাকার ইত্যাদি । ১৯৭১ সালের পর এটাই ছিল রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ সহ সকল শ্রেনী ও পেশার মানুষের সন্মিলিত অংশগ্রহনে বিশাল গনবিস্ফোরন । তাই এ আন্দোলনকে অখ্যায়িত করা হয় দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে । এর মাঝে ১৫/০২/২০১৩ তারিখ রাতে গনজাগরনের কর্মসূচী শেষে রাতে নিজ বাসা মিরপুর ফেরার পথে বাসার সামনে অদধকার স্থানে আনুমানিক রাত ১০টার রাজাকার জামাতের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির ক্যাডাররা নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে গনজাগরনের অন্যতম সংগঠক, বিশিষ্ট ব্লগার ও সাইবার যোদ্ধা রাজিব হায়দার শোভন ওরফে থাবা বাবা কে । রাত ১০.৩০ এর সময় তখন এস.এ টিভিতে কর্মরত এস.এম. শাকিল ভাইয়ের ফোনে প্রথম আমি ঘঁটনাটি জানতে পারি, শুনে বিশ্বাস করতে পারেনি তাই ফোন দিই র‌্যাব-৪ সি.ই.ও. মোবাইল ফোনে । তিনি আমাকে জানান রাজিব ভাইয়ের বাসার সনমুখে ল্যাম্প পোষ্টটির বাতি নষ্ট থাকায় সেই অদ্ধকার স্থানেই তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় । সাথে সাথে নিজের ফেইস বুকে পোষ্ট দিই ” আমরা সবাই রাজিব হব, রাজিব হত্যার বদলা নেবো । পরবর্তীতে প্রজন্ম ব্লগে একি শিরোনমে আমার প্রথম ব্লগ লেখাটি প্রকাশ করি । এ ঘঁটনায় আন্দোলন ত্রীব থেকে ত্রীবতর হয় ।

 

pmjb মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ছুটে যান রাজিব ভাইয়ের বাসায়। প্রজন্মের এই দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে রাজিব ভাইকে প্রথম শহীদ হিসেবে ঘোষনা করা হয় । শাহাবাগে তার জানাযায় অনেক বিশিষ্ট ব্যাক্তির সাথে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য পুত্র ডিজিটাল বাংলাদেশের রুপকার বিশিষ্ট আইটি বিশেষজ্ঞ জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়কে । তাই সিনিয়াররা তরুন প্রজন্মের হাতে তুলে দেন এ দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব । তখন আন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে সরকারের কোন আপিলের সুযোগ ছিলনা , তাই প্রথম দাবীটিই ছিল আইন সংশোধনের মাধ্যমে কসাই কাদেরের ফাঁসির রায় বাস্তবায়ন । আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবদ্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা তখন এই দাবীর ও চেতনার প্রতি মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বক্তব্যের মাধ্যমে সরাসরি সমর্থন জানান । কারন আমার নিজের ও প্রানপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধপরাধীদের বিচারের ওয়াদা করে এবং যার ফলে তরুন প্রজন্ম সহ সকল মানুষের বিপুল ভোট পেয়ে সংখাগরিষঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে সমর্থ হয় । বিএনপি জামাতের সাথে থাকায় এই দুদল ব্যাতীত সকল সংসদ সদস্য ভোটের মাধ্যমে আইন সংশোধন করে । গনজাগরন মঞ্চের সকল ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বসে কি কি কর্মসূচী ঘোষিত হবে তা সিদ্ধান্ত হতো বঙ্গবদ্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলার অবস্থিত ক্যান্টিনে । আর নীতিনির্ধারনে সাংস্কৃতিক জোটের জনাব নাছির উদ্দিন বাচ্চু, বিশিষ্ট গবেষক কানিজ আকলিমা সুলতানা, বঙ্গবদ্ধু গবেষনা ও স্মৃতি পরিষদেও কেন্দ্রীয় সভাপতি জনাব, আবুল খায়ের শাহজাহান ও  মুক্তিযোদ্ধা বিচ্ছু জালাল, মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল হক মামা, জিটিভির সঞ্চালক অজয় রায়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক বিশিষ্ট ব্লগার অনিমেষ দাদা সহ অনেকেই দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ন সহায়তা কিবাং পরামর্শ । গনজাগরনের প্রতিটি সভার সিদ্ধান্ত সন্মিলিতভাবে গৃহিত হবার পর তা লিখিতভাবে দেয়া হতো ড. ইমরান এইচ সরকারের হাতে, আর সভায় তিনি তা পাঠ করতেন । গনজাগরনের আন্দোলনের প্রধানত তিনটি দাবী , ১ম দাবী-আইন সংশোধনের মাধ্যমে সরকারের আপিল সুযোগ, যা বাস্তবায়িত । ২য় দাবী- কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে সব্বোর্চ শাস্তি ফাঁসি বাস্তবায়ন, যা, ইতিমধ্যেই বর্তমান সরকার কসাই কাদেরের ফাঁসি রায় কার্যকর করে, তাই দ্বিতীয় দাবীটিও অর্জিত, ৩য় দাবী ৭১ এর গনহত্যার দায়ে অভিযুক্ত সংগঠন হিসেবে জামাত শিবিরকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করা । আমরা সবাই জানি ২৫ মার্চ ২০১৪ আন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে জামাত শিবিরকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করার জন্য সরকার পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে । জামাত শিবিরকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ ও প্রধান যুদ্ধপরাধীদের সব্বোর্চ শাস্তি বাস্তবায়ন সময়ের ব্যাপার মাত্র । আর একটি বিষয়ের সকলেই জানেন (যারা এ আন্দোলনে আগে সম্পৃক্ত ছিলেন এখন নেই ও এখনো সম্পৃক্ত) যে শাহাবাগে যেদিন ট্রাইবুনালে রায়ের তারিখ থাকবে যেহেতু রাজাকার জামাত সেদিন হরতাল দেয় তাই শুধূ সেই তারিখে শাহাবাগে সবাই সমবেত হবে । একসময়ে এ আন্দোলনে সরাসরি আমি সম্পৃক্ত ছিলাম (বর্তমানে নেই) অত্যন্ত আশ্চর্যের সাথে লক্ষ্য করলাম কোন রায়ের আরিখ ব্যাতিত শাহাবাগে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন কয়েকটি অনভিপ্রেত ঘটনার জন্ম নেয় । এ ঘটনাকে আরো বেশী শানিত করেন ড. ইমরান এইচ সরকারের ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে উদ্ধৃত করে অনভিপ্রেত সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য । শুধূ তাই নয় তিনি সরকারকে আক্রমন করে যে ভাষায় কথা বলেছেন তা শালিনতা বিবর্জিত । আন্দোলনের ছাত্রলীগ, যুবলীগ পাশে না থাকলে, আর সরকার যদি আন্তরিক না হতেন তাহলে এই আন্দোলনের সাফল্য কি অর্জিত হতো? বর্তমান সরকার যুদ্ধপরাধীদের বিচার করার বিষয়ে শতভাগ আন্তরিক । সেখানে ড. ইমরান এইচ সরকার কিসের গদ্ধ খুজে পান ? ২/১ জনের কর্মকান্ডে পুরো সংগঠনকে কখনো দায়ী করতে পারেনা । তদুপুরি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি সংবাদ সন্মেলনের মাধ্যমে ঘোষনা করেন, যে দুইজন ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতার নাম বলা হয়েছে ঐ ঘটনার সময় তাদের উপস্থিতি কেউ যদি প্রমান করতে পারে তবে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি জনাব বদিউজ্জামান সোহাগ নিজে প্রকাশ্যে জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন । এরপর অন্যকোন বক্তব্য বা কাঁদাছোড়ি না করে একসময়ের গনজাগরনের কর্মী হিসেবে আমি বলবো সবাই মিলে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করুন, কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করুন এবং সকল জেলা , উপজেলা প্রতিনিধির প্রত্যক্ষ ভোটে মুখপত্র নির্বাচিত করুন ( অদ্যাবদি নির্বাচিত কোন মুখপত্র নেই) । এ আন্দোলনের সাফল্যকে কালিমা যুক্ত করবেন না । এই গনজাগরনের মালিক সবাই, একক ভাবে কেউই এর দাবীদার হতে পারেন না । ড. ইমরান এইচ. সরকার নিজেই বলেছেন ”গনজাগরন একটি চেতনার নাম” । তাই সংগঠন নয় বরং যুদ্ধপরাধীদের বিচারের দাবীতে সন্মিলিত একটি আন্দোলনের নামই গনজাগরন । অহেতুক উপমহাদেশের সর্বপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ ছাত্রসংগঠনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে বর্তমান সরকারের ইমেজ নষ্ট করার হীন চে®টার মাধ্যমে যুদ্ধপরাধীদের বাঁচাতে যারা তৎপর তাদের নুতন করে সুযোগ সৃষ্টি করে দেবেন না । পরিশেষে বলে যাই ” হে আলোর পথযাত্রী, এই যে রাত্রি, এখানে থেমোনা ” ।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here