image_100436যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে স্বদেশে ফিরে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বহুল আলোচিত ভারতীয় কুটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়ে। গৃহকর্মীর ভিসা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেয়া এবং তাকে বিধিবদ্ধ ন্যুনতম বেতনের অর্ধেকেরও কম দেয়ার অভিযোগে নিউ ইয়র্কে ভারতীয় কনস্যুলেটের ডেপুটি কনসাল জেনারেল দেবযানী খোবরাগাড়েকে গত মাসে গ্রেফতার করে নিউইয়র্কের পুলিশ। বিচারের জন্য চার্জ গঠনের পর তাকে কুটনৈতিক মর্যাদার ‘জি-১’ ভিসা দিয়ে ভারতে ফিরে যাবার অনুরোধ করার পরেও দিল্লি-ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হবার আপাতত লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ভারতের অনুরোধ অগ্রাহ্য করে দেবযানীকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বলায় স্পষ্টতই ক্ষুব্ধ দিল্লি। দেবযানীকে মুক্তি দেয়ার এবং তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য ভারতের বারংবার অনুরোধ সত্ত্বেও চলতি সপ্তাহে মার্কিন পুলিশ তার বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয়। কিন্তু ভারত তাকে কূটনৈতিক সুরক্ষা দেয়ায় বিচার শুরু করতে পারছিল না যুক্তরাষ্ট্র। একারণে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ভারতকে অনুরোধ করে বিচারের সুযোগ করে দিতে দেবযানীর কূটনৈতিক সুরক্ষার মাত্রা কমিয়ে দিতে। অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার পরিবর্তে দেবযানীকে শাস্তি দিতে ভারতের সহযোগিতা চাওয়ায় চরম বিরক্ত হয় দিল্লি। জাতিসংঘে বদলি হবার পর বুধবারই পূর্ণমাত্রার কূটনৈতিক সুরক্ষা লাভ করেন এই ভারতীয় কূটনীতিক। ফলে তার বিচারের সুযোগ হারায় ওয়াশিংটন। কূটনৈতিক সুরক্ষা কমানোর মার্কিন আবদার প্রত্যাখ্যান করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনুরোধ করা হয় তাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে।

দেবযানী যুক্তরাষ্ট্রের মাটি ছাড়ার পর ভারত একজন মার্কিন কূটনীতিককে দেশে ফিরে যেতে বলেছে। সাউথ ব্লকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ওই মার্কিন কূটনীতিক দেবযানীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফা ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করেছেন’।

তবে ভারতীয় বংশোদ্ভুত মার্কিন এটর্নি প্রীত ভারারা জেলা জজ সিরা স্কেইনড্লিনকে এক চিঠিতে জানিয়েছে, স্বদেশে চলে গেলেও ৩৯ বছর বয়সী এই ভারতীয় কুটনীতিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার হচ্ছে না। কূটনৈতিক সুরক্ষা ছাড়া তিনি যদি পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন তবে আবারো তাকে পুরানো অভিযোগে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে এই অভিযোগ প্রত্যাহারে কুটনৈতিক তত্পরতা অব্যাহত থাকবে। অপরদিকে, দেবযানীর অনুপস্থিতিতে এই মামলার কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে।

দেবযানীর মামলা প্রসঙ্গে ভারতের বাণিজ্য এবং শিল্পমন্ত্রী আনন্দ শর্মা গতকাল চেন্নাইতে বলেন, এমন স্পর্শকাতর একটি ইস্যূ মোকাবিলা করার মতো পরিপক্কতা এবং সাধারণ জ্ঞান উভয় দেশের ছিল। বিজেপি নেতা যশোবন্ত সিনহা দেবযানীর মামলা যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাহার না করার ঘটনাকে ভারতের ‘পরাজয়’ হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here