রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি ব্যাংকের এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সবুজবাগে আরেক নিরাপত্তাকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পল্টনে পুলিশের র‌্যাকারের (গাড়ি) ধাক্কায় এক দোকানীর মৃত্যু হয়েছে। যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাইকারীরা অস্ত্রেরমুখে এক দম্পতিকে জিন্মি করে পৌনে এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। রবিবার পুলিশ ও মেডিক্যাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার ভোরে পুলিশ মোহাম্মদপুর থানাধীন নুরজাহান রোডের ডাচ-বাংলা এটিএম বুথের সামনের রাস্তা থেকে এনামুল হক (২৪) নামে এক নিরাপত্তাকর্মীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে ঢামেক মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানায়, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বুথের সামনের ফুটপাতে এনামুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। জানা গেছে, নিহত এনামুল নিরাপত্তারক্ষী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘এলিট ফোর্স’ এর নিয়োগপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। মোহাম্মপদুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মতিন জানান, এনামুলকে চাপাতি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। তিনি জানান, ওই বুথে এরশাদ ও এনামুল নামের দু’জন নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। শনিবার রাত তিনটা পর্যন্ত এনামুল বুথের ভেতরে ও আরেক নিরাপত্তা কর্মী এরশাদ বাইরে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাঁরা দায়িত্ব পরিবর্তন করেন। এ সময় এরশাদ বুথের চাবিটি এনামুলকে বুঝিয়ে দেন। এ সময় বুথের ভেতরে এরশাদকে রেখে এনামুল বুথের বাইরে তালা দেয়। পরে এনামুল বুথের বাইরে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ভোর সাড়ে চারটার দিকে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রাস্তার ওপর পড়ে থাকা এনামুলের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
ওসি (তদন্ত) আব্দুল মতিন আরও জানান, বুথের চাবি এনামুলের কাছে থাকায় এরশাদও বুথের ভেতরে আটকা পড়েন। পরে পুলিশ এনামুলের পকেট থেকে চাবি নিয়ে বুথ খুলে আরেক নিরাপত্তা কর্মী এরশাদকে বের করে। তিনি আরও জানান, মোহাম্মদপুর থানার টহল পুলিশও ভোর ৫টার আগে ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় বুথের সামনে সন্দেহজনক কিছু দেখতে পায়নি। এমনকি বুথে ডাকাতি বা টাকা লুটের চেষ্টার কোন আলামত পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ সবুজবাগ থানাধীন রাজধানীর বাসাবো এলাকার ছায়াবিথী প্রজেক্টের ১৬ নম্বর ৪তলা ভবনের নিচতলার নির্মাণাধীন গার্ড রুমের বাঁশের আড়ার সঙ্গে পাটের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় আবদুল আলী (৬৫) নামে আরেক নিরাপত্তাকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ঢামেক মর্গে পাঠায়। সবুজবাগ থানার এসআই বাবুল মিয়া জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাড়ির নিচতলার গার্ডরুম থেকে লাশ উদ্ধার করে। নিহতের বড় ছেলে শাহীন জানান, ছোট ভাই শাহেদকে অনেক কষ্ট করে মাসখানেক আগে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানকার বিমানবন্দর থেকেই তাকে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর থেকেই তার বাবা হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। এ কারণে তাঁর বাবা আত্মহত্যা করতে পারেন। এ ব্যাপারে সবুজবাগ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
অন্যদিকে শনিবার গভীররাতে পল্টন এলাকায় চা বিক্রেতা বাবুল হোসেন (৫০) দোকানের সামনে কেটলি পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় পুলিশের একটি র‌্যাকার পেছন থেকে তাকে ধাক্কা দেয়। পরে বাবুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাত সোয়া ১২টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে পল্টন থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন জানান, চা বিক্রেতা বাবুল দোকানের সামনে কেটলি পরিষ্কার করার সময় পুলিশের একটি র‌্যাকার পেছন থেকে তাকে ধাক্কা দেয়। পরে পল্টন থানার এসআই আব্দুল জলিল ও পথচারী নিজামুল তাকে উদ্ধার করে ঢামেকে নিয়ে যায়। নিহতের পিতার নাম মোকলেস ফকির। গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলা সদরের বনানিপাড়ায়। সে ফকিরাপুলের একটি মেসে ভাড়া থাকত।

mdpur

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here