Report

মোদীর সফরকালে স্বাক্ষরিত চুক্তি মাইলফলক: যুক্তরাষ্ট্র

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৬ ও ৭ জুনের ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি ও অন্যান্য বোঝাপড়াকে অভিনন্দন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে সম্পাদিত ২২টি চুক্তি ও প্রটোকল বেশ ইতিবাচক এবং মাইলফলক স্বরূপ। দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর মধ্যে সুন্দর সমঝোতা ও বোঝাপড়া অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য খুবই প্রয়োজন। এসব বোঝাপড়ায় পুরো অঞ্চলের মানুষই উপকৃত হবে।

তিনদিনের সফরে ঢাকায় এসে গতকাল সোমবার এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন যুক্তরাষ্ট্রের উপ-সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী আইলিন ও’কনার। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই মার্কিন নীতিনির্ধারক রবিবার নরেন্দ্র মোদীর সফরের সময় ঢাকা আসেন। নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন ও খোঁজখবর নেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফর সম্পর্কে। গতকাল বিকেলে গুলশানের আমেরিকান ক্লাবে দৈনিক ইত্তেফাকসহ কয়েকটি গণমাধ্যম প্রতিনিধির সাথে খোলামেলা আলোচনা করেন। তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। দু’দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও বিনিময়ের ধারণা এবং বাণিজ্য, সংযোগ নিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহে আমরা ব্যাপকভাবে উত্সাহিত। স্থল সীমান্ত চুক্তি একটি মাইলফলক। যেকোন ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কঠোর অবস্থান খুবই প্রশংসনীয়।

মিস আইলিন ও’কনার বলেন, এশিয়াকে এখন যুক্তরাষ্ট্র বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগকে আমরা সমর্থন করি। বাংলাদেশের মতো এশিয়ার একটি দেশ গড়ে ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। পুরো অঞ্চলের জন্য এটা একটা মডেল হতে পারে। বৃহত্তর পর্যায়ে পরিসরে সংযোগ বা যোগাযোগ যে কোন দেশের উন্নতির জন্য খুবই প্রয়োজন। সমৃদ্ধি অর্জন, শিক্ষার বিস্তার ও কর্মসংস্থানের জন্য, স্থিতিশীলতার স্বার্থে সহায়ক।

এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন ওই নীতিনির্ধারক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ ইস্যুতে অন্য কোন দেশের দৃষ্টিতে দেখে না। যুক্তরাষ্ট্র নিজ দৃষ্টিতে বাংলাদেশকে বিবেচনা করে। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আমরা ইতিবাচক বলে বিবেচনা করি। ভারতের সঙ্গে সব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খুবই সহযোগিতামূলক ও মজবুত। বাংলাদেশের সঙ্গেও তাই।

নিয়মিত আলোচনা, পারস্পারিক আস্থা ও বিশ্বাস থাকলে স্থিতিশীলতা আসে ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে।

মিস আইলিন ও’ কনার ঢাকা সফরকালে আগামী ২৯ ও ৩০ জুন তাজিকিস্তানে অনুষ্ঠেয় সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে আঞ্চলিক সম্মেলন বিষেয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করছেন। আজ ঢাকায় যৌন হয়রানি, লিঙ্গিক সহিংসতা ও গণমাধ্যমের ভূমিকা বিষয়ক একটি গোলটেবিলে বক্তব্য রাখবেন।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here