Report

‘মৃত্যুকূপ থেকে জীবন নিয়ে ফিরে এলাম’

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত নেপাল থেকে ফিরে এসে অনূর্ধ্ব-১৪ নারী ফুটবলাররা নিজ নিজ ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। গতকাল  বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তাদের বাড়ি পাঠানোর উদ্যোগ নেয়। বাড়ি ফেরার আগে এই ক্ষুদে ফুটবলাররা বাফুফে ভবনে জানালেন তারা যেন মৃত্যুকূপ থেকে জীবন নিয়ে ফিরে এসেছেন।

ময়মনসিংহের কলসুন্দর গ্রামের মেয়েরা আজ বাড়ি ফিরবেন। ভাগ্য জোরে এই নারী ফুটবলাররা ভূমিকম্প থেকে বেঁচে এসেছেন। কাঠ-মান্ডুতে খেলতে গেলে সেখানে বাংলাদেশ, ইরান, ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপের খেলোয়াড়দের একই হোটেলে অবস্থান করার কথা ছিল। কিন্তু হোটেলে স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। যে কারণে নির্ধারিত হোটেল বাদ দিয়ে একটি নতুন নির্মিত হোটেল ভিউ ব্রিকুটিতে উঠানো হয় খেলোয়াড়দের। পুরান হোটেলটি ভূমিকম্পে ধসে গেছে। খেলোয়াড়রা বলেছেন নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

হোটেল ভিউ ব্রিকুটি নব নির্মিত বলে ভূমিকম্পে কাঁপলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। খেলোয়াড়রা বলছিলেন তারা যদি পুরান হোটেলে অবস্থান করতেন তাহলে খুঁজেও পাওয়া যেতো না। নতুন হোটেলে অবস্থান করেও প্রতিটি মুহূর্তে আতংকে কাটিয়েছেন মৌসুমী, কৃষ্ণা রানী,  তহুরা, শিউলি, রুপা, রুমা, নাজমা, সানজিদারা। রাতে হোটেলের লবিতে কখনো হোটেলের বাইরে সময় গেছে বলে জানিয়েছেন খেলোয়াড়রা।

গত শনিবার ছিল এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ নারী ফুটবলের ফাইনাল। স্বাগতিক নেপালের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ম্যাচ। বিকালে খেলা, টিম মিটিং চলছিল হোটেলে। তখনই ভূমিকম্প শুরু হয়। পুরো হোটেল ভবনটি দোল খাচ্ছিল। ভয়ে ছুটোছুটি করে আত্মরক্ষার চেষ্টা করছিলেন সবাই। দলের কোচ গোলাম রাব্বানি ছোটন, সহকারী কোচ লিটু, কর্মকর্তা আয়শা জামান খুকিরা নিজেরা নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিবেন নাকি সন্তানতুল্য খেলোয়াড়দের জীবন বাঁচাবেন তা বুঝতে পারছিলেন না। খেলোয়াড়রা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন। তাদের সান্ত্বনা দিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেছেন কোচ কর্মকর্তারাই।

নেপালে ভূমিকম্পের লোমহর্ষক বর্ণনা দিতে গিয়ে বার বার কেঁপে কেঁপে উঠছিলেন সানজিদা, কৃষ্ণা। বলছিলেন আমরা শুধু চেয়েছিলাম আমাদের মৃত্যুটা যেন আমাদের দেশেই হয়। সানজিদা বললেন, ‘আমি দূরে দেখলাম একটা বড় বিল্ডিং গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গেলো। নিমিষেই ভেঙ্গে পড়লো।’ নেপালের যে ভয়াবহতা দেখেছেন খেলোয়াড়রা, সেটাকে  তারা তুলনা করেছেন সিনেমার সাথে। সিনেমায় দেখেছেন বড় বড় ভবন কিভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু চোখের সামনে যখন বাস্তবকে দেখলেন, সেসময় আতংকে কণ্ঠ সংকুচিত হয়ে কথা বলতে পারছিলেন না তারা। এক খেলোয়াড় বললেন, ‘কেয়ামত হবে, পৃথিবী ধ্বংস হবে যে কথা শুনেছিলাম, তা যেন চোখের সামনে দেখছিলাম আর মনে করেছিলাম যে কোনো মুহূর্তে জীবন প্রদীপ নিভে যাবে।’

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here