cricketপ্রথম ম্যাচেও দেখা গেছে দুই অধিনায়কের লড়াই। গতকাল এশিয়া কাপের দ্বিতীয় ম্যাচেও ছিল দুই অধিনায়কের লড়াই। মুশফিকুর রহিমের অসাধারণ এক সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণই নিয়ে নিয়েছিল। জবাবে ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলিও এক সেঞ্চুরি করে ছিনিয়ে নিলেন জয়। কোহলি ও রাহানের দুই ইনিংসে ভর করে এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৬ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে ভারত। বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেয়া ২৮০ রানের লক্ষ্যে ভারত পৌঁছে যায় এক ওভার বাকি থাকতেই।

অথচ বিরাট কোহলি এই রানতাণ্ডব শুরু করার আগ পর্যন্ত ম্যাচের সবকিছু বাংলাদেশের অনুকূলেই হচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল। বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতেই ওপেনার সামসুর রহমান শুভকে হারালেও দুই তরুণ এনামুল হক বিজয় ও মুমিনুল একটা স্থিতিশীলতা এনে দিয়েছিলেন বাংলাদেশকে। মুমিনুল অসাধারণ কিছু শটে সাজানো ২৯ রানের ইনিংস খেলে ফিরে যাওয়ার পর শুরু হয় বিজয় ও মুশফিকের পাল্টা আক্রমণ।

এক প্রান্তে বিজয় একটু ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়ে এগোতে থাকেন। কিন্তু মুশফিক আক্রমণের প্রতিমূর্তি হয়ে ওঠেন। এনামুল ফিফটিতে পৌঁছানোর পরপরই ৬৫ বল খেলে নিজের অর্ধশত পূরণ করে ফেলেন মুশফিক। মূলত এরপরই বাংলাদেশ অধিনায়ক ঝড়টা চালান। মাত্র ৩৯ বলে তার ব্যাট থেকে চলে আসে আরও ৫০ রান; ১০৪ বল খেলে পৌঁছে যান নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে এবং ভারতের বিপক্ষে মাত্র দ্বিতীয় বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে তুলে নেন সেঞ্চুরি।

এর আগেই অবশ্য ৭৭ রান করে বিজয় আউট হয়ে ফেরেন; তার আগেই অধিনায়কের সঙ্গে ১৩৩ রানের জুটি করে দলকে শক্ত ভিতে দাঁড় করিয়ে দেন। তামিম ইকবালের ইনজুরিতে দলে জায়গা টিকিয়ে রাখা তামিমের অভাবটা সেভাবে টের পেতে দেননি বিজয়। গত এশিয়া কাপে চার ফিফটি করা তামিমের জায়গায় বিজয় এবার ফিফটি করে ধারাবাহিকতাটা অন্তত ধরে রাখলেন।

বিজয় ফেরার পরও চেষ্টা করেছিলেন মুশফিক। কিন্তু অন্য প্রান্তে নাঈম ইসলাম ও নাসির হোসেনের ব্যর্থতায় শেষ ওভারগুলোতে সেভাবে রান উঠলো না। অবশ্য জিয়াউর রহমান ১২ বলে ১৮ রানের একটা ‘ক্যামিও’ ইনিংস খেলে ঘাটতিটা একটু পুষিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ওই রান ওঠানোর তাড়া থেকেই শেষ ওভারে তুলে মারতে গিয়ে আউট হয়ে ফেরেন ১১৩ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো ১১৭ রানের ইনিংস খেলা মুশফিক। ফলে ৭ উইকেটে ২৭৯ রানে থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

জবাব দিতে নেমে ভারতের শুরুটা হয় খুবই নড়বড়ে। বাংলাদেশের দুই পেসার রুবেল হোসেন ও মাশরাফি বিন মুর্তজা প্রথম ৩ ওভারে দেন মাত্র ১টি রান। দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ানকে ফেরান জিয়া ও রাজ্জাক। কিন্তু এরপরই শুরু হয় কোহলি ও রাহানের প্রতিরোধ। তৃতীয় উইকেটে ২১৩ রান যোগ করে তারাই নিশ্চিত করে দেন ভারতের জয়। শেষ পর্যন্ত ১২২ বলে ১৬টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো ১৩৬ রানের ইনিংস খেলে কোহলি যখন আউট হন, ততোক্ষণে জয় চলে গেছে ভারতের হাতে।

স্কোর কার্ড

বাংলাদেশ

রান বল ৪ ৬

এনামুল ব অ্যারন ৭৭ ১০৬ ৫ ৩

সামসুর ক ও ব শামি ৭ ১২ ১ ০

মুমিনুল স্ট্যা. কার্তিক ব অশ্বিন ২৩ ২৯ ৪ ০

মুশফিক ক শর্মা ব শামি ১১৭ ১১৩ ৭ ২

নাঈম ক অশ্বিন ব শামি ১৪ ১৯ ১ ০

নাসির ক কার্তিক ব শামি ১ ৬ ০ ০

জিয়া ক অ্যারন ব কুমার ১৮ ১২ ২ ১

সোহাগ নট আউট ৩ ৪ ০ ০

মাশরাফি নট আউট ১ ১ ০ ০

অতিরিক্ত (বা ১, লেবা ৩, ও ১২, নো ২) ১৮

মোট ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৭৯

বোলিং: কুমার ৮-১-৪১-১, শামি ১০-১-৫০-৪, অ্যারন ৭.৫-০-৭৪-১, অশ্বিন ১০-১-৫০-১, জাদেজা ১০-০-৩৭-০, রাইডু ৩-০-১৭-০, কোহলি ১.১-০-৬-০।

ভারত

রোহিত ব জিয়া ২১ ২৯ ১ ১

ধাওয়ান এলবিডব্লিউ রাজ্জাক ২৮ ৪৪ ৫ ০

কোহলি ব রুবেল ১৩৬ ১২২ ১৬ ২

রাহানে ক ইমরুল ব সোহাগ ৭৩ ৮৩ ৭ ১

রাইডু নট-আউট ৯ ১৫ ০ ০

কার্তিক নট-আউট ২ ৭ ০ ০

অতিরিক্ত (লেবা ১, ও ৯, নো ১) ১১

মোট ৪৯ ওভারে ৪ উইকেটে ২৮০

বোলিং: মাশরাফি ৯-১-৪৪-০, রুবেল ১০-১-৬৩-১, রাজ্জাক ১০-০-৫৫-১, জিয়া ৫-০-২০-১, সোহাগ ৮-০-৪৯-১, মুমিনুল ২-০-১৩-০, নাঈম ১-০-১৫-০, নাসির ৪-০-২০-০।

ফল: ভারত ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: বিরাট কোহলি।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here