newরাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা না করেই বাংলাদেশে আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যত দ্রুত সম্ভব একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন হতে হবে। সে জন্য সহসাই সংলাপ হওয়া দরকার। ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন মার্কিন সরকার যে বক্তব্য দিয়েছিল তা অপরিবর্তিত আছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা ও মার্কিন সাহায্য সংস্থা-ইউএসএআইডি’র নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর ইয়ানিনা ইয়ারুজেল্র কি গতকাল সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন। মিস ইয়ানিনাকে পরিচিত করার জন্য গতকাল সকালে আমেরিকান সেন্টারে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আমেরিকান সেন্টারের প্রেস অফিসার কেলি ম্যাককার্থি এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ড্যান মজীনা প্রশ্নের জবাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় এবং এই স্বীকৃতি অব্যাহত থাকবে। সরকারকে কখনো স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। নির্বাচনের জন্য কোন সময়সীমাও বেধে দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। যত দ্রুত সম্ভব বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য পথ খুঁজে বের করতে প্রধান দুই দলকে সংলাপে বসতে হবে। সম্প্রতি ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের জরিপ প্রসঙ্গে মিশন ডিরেক্টর মিস ইয়ানিনা বলেন, পরিস্থিতি সম্পর্কে তাত্ক্ষণিক চিত্র (স্ন্যাপশট) পেতে জরিপটি পরিচালিত হয়। এটি নির্বাচনের প্রতিচ্ছবি নয়। জরিপের আড়াই শতাংশ ভুল বিবেচনা করলে প্রধান দুই দল প্রায় সমান ও মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। বেশির ভাগ মানুষ মনে করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। ৮৭ শতাংশ মানুষ মনে করে দ্রুত ও পাঁচ বছরের আগেই নির্বাচন হওয়া দরকার। ৭৯ শতাংশ মনে করে সহিংসতা কোন সমাধান নয়। রাজনৈতিক ইস্যুতে সহিংসতা কোন মাধ্যম হতে পারে না।

মিস ইয়ানিনা আরো বলেন, পরিস্থিতি যাইহোক বাংলাদেশে উন্নয়ন সহায়তা অব্যাহত থাকবে। সহায়তা হরাস করার কোন চিন্তা নেই। গত বছরের মতো এবারও ২০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা পাবে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন সহায়তা দেওয়া হবে দরিদ্র ও দুঃস্থ জনগোষ্ঠীকে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ‘সুশাসন ও গণতন্ত্রায়ন’ খাতের বদলে অন্য খাতগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুঃস্থ জনগোষ্ঠী এক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে। স্থানীয় সরকার ও সামাজিক খাত অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার। বিশ্বস্বাস্থ্য উদ্যোগ, ভবিষ্যত্ নাগরিকদের খাদ্য সহায়তা উদ্যোগ ও বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশ জড়িত। দুই দেশকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে যাতে দুঃস্থ মানুষ উপকৃত হয় ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানো সম্ভব হয়। ৪১ শতাংশ শিশু অপুষ্টির শিকার যাদের ভবিষ্যত্ বিকাশ রুদ্ধ হচ্ছে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here